Monday, April 30, 2012

রাজনীতিবিদ গুম হচ্ছে, আমি নিরাপদ বোধ করি না

রাশেদ খান মেনন
বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেছেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে গুম অপহরণের মতো ঘটনা নতুন মাত্রা যোগ করেছে। রাজনীতিবিদও গুম হচ্ছে। তাই একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে আমি নিজেও নিরাপদ বোধ করি না।’
আজ শুক্রবার বিকেলে শাহজাহানপুর রেলওয়ে সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে শাহজাহানপুর থানার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, পুলিশের মহাপরিদর্শক হাসান মাহমুদ খন্দকারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মেনন আরও বলেন, বিএনপির নেতা ইলিয়াস আলীকে খুঁজে বের করা উচিত, এটা সরকারের কর্তব্য। তবে বিরোধী দল এ ক্ষেত্রে সহযোগিতা না করে দুর্ভাগ্যজনকভাবে দেশে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার ইলিয়াস আলীকে গুম করেছে, এটা মিথ্যা কথা। আমরা গণতান্ত্রিক সরকার। গুম-হত্যায় বিশ্বাস করি না। আমরা চেষ্টা করছি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাঁকে খুজে বের করার চেষ্টা করছে। বের করার পরই প্রকাশ পাবে কোথায় তিনি ছিলেন।’
আইন প্রতিমন্ত্রী বলেন, গুম-অপহরণের ঘটনার দায় সরকার এড়াতে পারে না, এটা যেমন সত্য, তেমনই এর মাধ্যমে সরকারকে হেয় করার অপচেষ্টা চলছে। তাঁর অভিযোগ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচাল করতেই এ অপচেষ্টা চলছে।
দক্ষিণ শাহজাহানপুরের রেলওয়ে কলোনি এলাকায় শাহজাহানপুর পুলিশ ফাঁড়িতেই নতুন শাহজাহানপুর থানার কার্যক্রম চলবে। এটি ঢাকা মেট্রোপলিটনের ৪৭তম থানা।

http://www.prothom-alo.com/detail/date/2012-04-27/news/253513

বাড়িতে থাকলে খুন, বাইরে গেলে গুম

Hossain Mohammad Arshad
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ মনে করেন, দেশ যেভাবে চলছে, এভাবে কোনো দেশ চলতে পারে না। তিনি বলেন, ‘মানুষ বাড়িতে থাকলে থাকলে হয় খুন আর বাড়ি থেকে বাইরে গেলে হয় গুম। দেশে সাংসদদের পর্যন্ত নিরাপত্তা নেই। তাঁরা একা চলতে ভয় পাচ্ছেন।’
আজ শনিবার বিকেলে মুন্সিগঞ্জের জেলা শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক প্রয়াত বজলুর রহমানের স্মরণসভায় এরশাদ এসব কথা বলেন।
সাবেক এই রাষ্ট্রপতি বলেন, মানুষ পরিবর্তন চায়। মানুষ শান্তিতে থাকতে চায়। জিনিসপত্রের দাম কম চায়। তাই শান্তিতে থাকলে হলে নিরাপদে থাকতে হলে তিনি জাতীয় পার্টিকে ভবিষ্যতে ভোট দেওয়ার জন্য আহ্বান জানান। এই সরকারকে ভবিষ্যতে আর ক্ষমতায় না আনার জন্যও তিনি জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।
বিএনপিকেও ক্ষমতায় না আনার আহ্বান জানিয়ে এরশাদ বলেন, ‘যারা হরতাল দিয়ে গাড়ি জ্বালিয়ে নৈরাজ্য সৃষ্টি করছে, স্কুল-কলেজ বন্ধ করে দিচ্ছে। তাদেরও ক্ষমতায় আনবেন না। আপনারা এই সরকারকেও চান না, যারা নৈরাজ্য সৃষ্টি করেছে, তাকেও চান না। আপনাদের সামনে বিকল্প পথ একটাই—জাতীয় পার্টি। শান্তিতে থাকতে হলে জাতীয় পার্টিকে ক্ষমতায় আনতে হবে।’ তিনি তাঁকে আরেকবার সুযোগ দিতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘জীবনের শেষ প্রান্তে এসে আপনাদের মুখে হাসি ফুটাতে চাই।’

http://www.prothom-alo.com/detail/date/2012-04-28/news/253743

আলীর পক্ষে

২৩ এপ্রিল প্রথম আলো পত্রিকার সম্পাদকীয় পাতায় অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত কলামে প্রকাশিত ‘সাহসী যুবক হযরত আলীর প্রতি শ্রদ্ধা’ শিরোনামের লেখাটির প্রতি আমাদের দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়েছে। বিশেষ করে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে আত্মোৎসর্গীত হযরত আলীর পরিবারের প্রতি কেউ সমবেদনা প্রকাশ করেনি কিংবা সহমর্মিতার হাত বাড়িয়ে দেয়নি এমন মন্তব্যকে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেড (এমটিবি) বিনীতভাবে সংশোধনের প্রস্তাব করছে।
আত্মত্যাগে মোড়া হযরত আলীর প্রতিবাদী মৃত্যুতে লাখো মানুষের ব্যথিত ও ক্ষুব্ধ হূদয়ের মতো সমাজের একজন করপোরেট নাগরিক হিসেবে এমটিবির হূদয়ও গভীরভাবে মর্মাহত হয়। এমটিবির পরিচালনা পর্ষদ এবং ব্যাংকের সব কর্মকর্তা ও কর্মচারীর পক্ষ থেকে ১৫ এপ্রিল হযরতের পরিবারের হাতে খুবই সামান্য কিছু অর্থ (দুই লাখ টাকা মাত্র), একটি স্মারক ও সম্মাননাপত্র তুলে দেওয়া হয়। সঙ্গে সঙ্গে হযরতের দুই শিশুসন্তানের লেখাপড়া যাতে কোনোভাবেই বন্ধ হয়ে না যায়, সে জন্য এমটিবির পক্ষ থেকে যাবতীয় দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়।
হযরত আলীর বীরোচিত অকাল আত্মবলিদানে তাঁর পরিবারে যে অপূরণীয় ক্ষতি সাধিত হয়েছে, তা কোনোক্রমেই প্রতিদান করা সম্ভব নয়। তবু আমাদের ক্ষুদ্র প্রয়াস যদি সরকারি-বেসরকারি, প্রাতিষ্ঠানিক বা ব্যক্তিক প্রচেষ্টাকে হযরতের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে সহমর্মিতা প্রদর্শন করতে উৎসাহিত করে, তবেই সমাজের প্রতিবাদী কণ্ঠস্বরগুলো উজ্জীবিত হবে। আর অন্যায়কে রুখতে নতুন করে আর কোনো আত্মবলিদানের প্রয়োজন হবে না।
মো. সামি-আল হাফিজ
চিফ কমিউনিকেশনস অফিসার
মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেড, ঢাকা।

কৃষকদের দুর্দিন

কৃষকদের দুর্দিন
২০০৯ সালের কৃষিশুমারি অনুযায়ী দেশে কৃষক পরিবারের সংখ্যা এক কোটি ৮০ লাখ। এদের মধ্যে এক কোটি ২০ লাখ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষি। এই কৃষক পরিবারগুলোর সদস্য ছয় কোটির বেশি।
যে কৃষককুল দেশের অর্থনৈতিক উন্নতির হাতিয়ার, তাঁদের জীবন আজ হতাশাগ্রস্ত। এর প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির সঙ্গে কৃষকদের উৎপাদিত ফসলের মূল্যের সামঞ্জস্য না থাকা। গত মৌসুমে ডিজেলের দাম ছিল প্রতি লিটার ৪০ টাকা, এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬২ টাকা। ইউরিয়া সারের দাম ছিল প্রতি কেজি ১২ টাকা, এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৫ টাকা। বিদ্যুতের দামও গত মৌসুমের তুলনায় অনেক বেড়েছে। এসব কারণে এ মৌসুমে প্রতি কেজি বোরো ধানে ব্যয় বেড়েছে প্রায় দেড় টাকা করে। অন্যদিকে গত মৌসুমে ধানের দাম ছিল মণপ্রতি ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা, কিন্তু এখন ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা।
প্রতিবছর সরকারিভাবে কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান কেনার উদ্যোগ নিলেও পরিশেষে সেটি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হয় না। তাই দ্রব্যমূল্যের বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেশি দামে কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান কেনায় সক্রিয় উদ্যোগ নেওয়ার জন্য কৃষি মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
সুকদেব বিশ্বাস
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।

শরীরচর্চার পাঠ্যক্রম
শারীরিক শিক্ষাকে মাল্টিডিসিপ্লিনারি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এর মধ্যে শারীরিক শিক্ষার তত্ত্ব ও নীতি, শারীরিক শিক্ষার ইতিহাস, ক্রীড়াবিজ্ঞান, ক্রীড়া মনোবিজ্ঞান, খেলাধুলার আইনকানুন, স্বাস্থ্যবিদ্যা, প্রাথমিক চিকিৎসা ইত্যাদি বিষয় স্বল্প আকারে হলেও তত্ত্বীয় অংশে অন্তর্ভুক্ত থাকে। ইনডোর ও আউটডোর খেলাগুলো এই শিক্ষার ব্যবহারিক অংশ। একটি জাতির তরুণ ও যুবসমাজের মধ্যে শৃঙ্খলাবোধ, নিয়মানুবর্তিতা ও নেতৃত্ব বিকাশে খেলাধুলা তথা শারীরিক শিক্ষার বিরাট ভূমিকা রয়েছে।
কিন্তু এই বিষয়টি এখনো উচ্চমাধ্যমিক ও স্নাতক পর্যায়ে পাঠ্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। অথচ স্নাতক-বিপিএড (ব্যাচেলর অব ফিজিক্যাল এডুকেশন) যোগ্যতায় শরীরচর্চা শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে তাঁকে কর্মহীন করে রাখা হয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। প্রসঙ্গত, কলেজ পর্যায়ে শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়ার বিষয় চালু করলে নতুন করে শিক্ষকের পদ সৃষ্টি ও পদায়ন করার প্রয়োজন হবে না। শরীরচর্চা শিক্ষকই এ বিষয়টি পড়াতে পারবেন। শুধু শিক্ষকের পদটি আপগ্রেড করে শারীরিক শিক্ষার প্রভাষক করতে হবে। শরীরচর্চা শিক্ষকের পদটিকে ঘিরে দীর্ঘদিন অসমতা ও অসামঞ্জস্য বিদ্যমান। সাচিবিক বিদ্যা ও কম্পিউটার শিক্ষার প্রভাষক নিয়োগের ক্ষেত্রে কোর্স সার্টিফিকেটের সঙ্গে যেকোনো বিষয়ে মাস্টার্স থাকলে প্রভাষক হওয়া যায়। লাইব্রেরিয়ানদের সংশ্লিষ্ট বিষয় বা অন্য বিষয়ে মাস্টার্স থাকলে প্রভাষকের বেতন স্কেল পাওয়ার বিধান আছে। অথচ শরীরচর্চা শিক্ষকদের সংশ্লিষ্ট বা অন্য বিষয়ে মাস্টার্স ডিগ্রি থাকলেও প্রভাষকের মর্যাদা ও বেতন স্কেল পান না—স্কুলশিক্ষকের মর্যাদায় থাকেন।
উচ্চমাধ্যমিক ও স্নাতক পর্যায়ে শারীরিক শিক্ষার পাঠ্যক্রম চালু ও যোগ্যতা অনুযায়ী শরীরচর্চা শিক্ষকদের প্রভাষকের মর্যাদা দেওয়ার জন্য মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী মহোদয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
চঞ্চল কুমার কর্মকার
কুমারখালী কলেজ, কুমারখালী, কুষ্টিয়া।

http://www.prothom-alo.com/detail/date/2012-04-27/news/253346

লোডশেডিং

দেশে বড় সমস্যার মধ্যে অন্যতম হলো বিদ্যুৎ। সরকার চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারছে না। বিদ্যুৎ ছাড়া কলকারখানা, অফিস-আদালত, কৃষি সেচ সম্ভব নয়। বর্তমানে বিদ্যুতের অভাবে অনেক শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ব্যাঘাত ঘটছে কৃষিকাজের। বাসাবাড়িতে দিনে ৮-১০ ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। জনজীবনে নেমে এসেছে দুর্ভোগ। সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ বলে মানুষকে আশ্বস্ত করলেও বিদ্যুৎ উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি লক্ষ করা যাচ্ছে না। ডিজিটাল করার লক্ষ্যে সরকার কত আশা মানুষকে দেখাচ্ছে, কিন্তু বিদ্যুৎ ছাড়া তা হতাশায় রূপ নিয়েছে। আশা করি, কর্তৃপক্ষ চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সচেষ্ট হবে।
মো. ফারুকুল আলম
এমএ, চবি।

অসহায় বোধ করি

অসহায় বোধ করি
একসময় মানুষের মধ্যে একটা ভ্রান্ত ধারণা ছিল, কন্যাসন্তান জন্ম নিলে পরিবার ও জাতির ওপর অভিশাপ আসে। তাই তারা সদ্য ভূমিষ্ঠ কন্যাসন্তানকে জীবন্ত কবর দিত। কী অমানবিক!
কিন্তু আমরা এই আধুনিক যুগে বাস করে তার চেয়ে অনেক রোমহর্ষক ঘটনা ঘটাচ্ছি, তাতে কারও তেমন বিকার দেখছি না। একটা ঘটনা ঘটার পর কিছুদিন না যেতেই আরও বেশি রোমহর্ষক ও নিকৃষ্ট আরেকটি ঘটনা ঘটছে। ফলে আমরা পেছনের ঘটনাটি ভুলে যাচ্ছি। মানুষের মস্তিষ্কেরও নির্দিষ্ট ধারণক্ষমতা আছে।
সম্প্রতি বগুড়ার কাহালু উপজেলায় ঘটে যাওয়া স্কুলছাত্র নাইমুল ইসলামকে অপহরণের পর হত্যা, তারপর তার লাশ ইটভাটায় পুড়িয়ে পুরো আলামত নষ্ট করার যে প্রক্রিয়া, তা সেই অন্ধকার যুগের ঘটনাকেও হার মানিয়ে দেয়। কারণ, নাইমুলের ভাগ্যে কবরও জোটেনি। কতটা বর্বর হলে হত্যার পর লাশ পোড়ানোর জন্য ইটভাটা বেছে নেওয়া হয়! যশোরের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সুমন ব্যানার্জিকে অপহরণের পর শ্বাসরোধে যেভাবে হত্যা করা হলো, তা কল্পনাতীত। এই হত্যাকাণ্ড কারা ঘটিয়েছে?
আমরা যখন শুনি, অপহরণ কিংবা গুমের ঘটনাগুলো প্রশাসন জানে, প্রশাসন চাইলে এসব জঘন্য অপরাধ রোধ করতে পারে, তখন আমাদের কিছু বলার থাকে না। আমরা বড়ই অসহায় বোধ করি।
ইউনুস কানন
চকবাজার, চট্টগ্রাম।

দুই দলের দুই ইস্যু

দুই দলের দুই ইস্যু
সরকারি দলের ইস্যু হচ্ছে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা। অন্যদিকে বিরোধী দলের ইস্যু নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহাল করা। প্রতিদিন এই দুটি বিষয় শুনতে শুনতে মানুষ অতিষ্ঠ। তাই সরকারি দলের উচিত, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের কথা না বলে বিচার নিশ্চিত করা। নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা চালু করে বিরোধী দলকে আন্দোলন থেকে বিরত রাখা। সরকার যুদ্ধাপরাধীদের আটক করে তাদের বিচার নিশ্চিত করতে না পারলে কঠিন প্রশ্নের সম্মুখীন হবে জাতির সামনে। তাই সরকার যুদ্ধাপরাধের কথা মুখে না বলে কাজে প্রমাণ করলে মানুষ বেশি খুশি হবে। বিচারকাজে যেন কোনো প্রতিহিংসা কাজ না করে, কাউকে যেন হেয়প্রতিপন্ন করা না হয়। যাদের দোষী সাব্যস্ত করা হবে, তাদের বিচার নিশ্চিত করা সরকারের চ্যালেঞ্জ। তাই সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে গণমানুষের দাবি, যুদ্ধাপরাধীর বিচার ও জাতীয় নির্বাচন যাতে নিরপেক্ষ হয়, সেদিকে সরকার সচেষ্ট হবে।
মো. ফারুকুল আলম, এমএ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

শিক্ষক নিয়োগ
সারা দেশে রেজি. বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মেধামান উল্লেখ করে ৮ এপ্রিল চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশিত হয়। ওই নিয়োগে যথার্থ মেধামান মূল্যায়িত হচ্ছে না। যেমন, কোনো একটি উপজেলায় বা ইউনিয়নে মোট ২৫টি পদ শূন্য আছে। ওই শূন্যপদের বিপরীতে ১ থেকে ২৫ পর্যন্ত মেধামান সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাবেন, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু বাস্তবে মেধামান প্রথম স্থান অধিকার করেও সেই পুরুষ প্রার্থী নিয়োগ পাচ্ছেন না। ২৫টি পদের মধ্যে নারী ৬০% ও পুরুষ ৪০% নিয়োগদান করলেও ৮-১০ জন পুরুষ শিক্ষক হওয়ার কথা। তা হলে ছেলেরা বেকারত্বের অভিশাপ থেকে অনেকটা মুক্তি পাবে।
ওই নিয়োগে স্কুলের ওপর অনুপাত করে নিয়োগদান করলে ১০০% নারী শিক্ষক নিয়োগ পাবেন। কেননা, আগে পুরুষের সংখ্যা বেশি ছিল। রেজি. বেসরকারি প্রা. বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পদে ওই নিয়োগেই যেন মেধামান ও নারী-পুরুষ অনুপাত বজায় থাকে, সে জন্য শিক্ষামন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
আকতার, নওগাঁ সদর।

রোগীদের বিড়ম্বনা
দেশের ডায়াবেটিক রোগীদের চিকিৎসা গ্রহণের একমাত্র বিশেষায়িত হাসপাতাল হচ্ছে বারডেম। এ হাসপাতালে সেবা নিতে আসা রোগীদের অধিকাংশই বৃদ্ধ এবং ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত। কিন্তু সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে তাঁদের নানা ধরনের বিড়ম্বনার মুখে পড়তে হয়। বিশেষ করে, বিভিন্ন ওষুধ ক্রয় বা রোগনির্ণয়ের ফি বাবদ ‘ক্যাশ কাউন্টারে’ টাকা জমাদানের জন্য রোগীদের দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। প্রতিদিন হাজার হাজার রোগীকে সেবা প্রদানের জন্য মাত্র দুটি কাউন্টার খোলা রাখা হয়। ফলে বৃদ্ধ রোগীদের বিড়ম্বনার সীমা থাকে না। তাই ‘কাউন্টারের’ সংখ্যা বৃদ্ধির মাধ্যমে এ সমস্যা দূর করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
মো. কামরুল হাসান
কবি নজরুল সরকারি কলেজ, ঢাকা।

http://www.prothom-alo.com/detail/date/2012-04-29/news/253790

Sunday, April 29, 2012

কৃষক ও ধানের দাম

কৃষক ও ধানের দাম
হাওরপাড়ে চলছে ধান কাটার উৎসব। আমার বাবা একজন ক্ষুদ্র কৃষক। আমাদের নিজস্ব কৃষিজমি থাকার পরও বীজ কেনা, জমি চাষ, পানি সেচ, সার দেওয়া, ধানের চারা রোপণ, আগাছা পরিষ্কার, ধান কাটা, ধান মাড়াই ও বাড়িতে আনা প্রভৃতি অত্যাবশ্যকীয় কাজে এক কিয়ারে (৩০ শতাংশ) খরচ হয়েছে প্রায় ছয় হাজার টাকা। যাঁদের নিজস্ব জমি নেই, তাঁরা প্রতি কিয়ার জমি কমবেশি তিন হাজার টাকা দিয়ে ইজারা নেন। অর্থাৎ তাঁদের প্রতি কিয়ারে মোট খরচ হয় প্রায় নয় হাজার টাকার মতো। কৃষক ছয় মাস (অগ্রহায়ণ-বৈশাখ) ঘাম ঝরানো পরিশ্রম করে। এই বছর প্রতি কিয়ার জমিতে সর্বোচ্চ ১৪-১৫ মণ ধান হয়েছে। এই চিত্র পুরো হাওর এলাকার। বর্তমানে প্রতি মণ ধানের প্রকৃত দাম ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে। অর্থাৎ ধানের বর্তমান দামে যাঁরা জমি ইজারা নিয়ে ধান চাষ করেছেন, তাঁরা পুরোপুরি লোকসানের সম্মুখীন। ধান বিক্রি করেই কৃষকদের পরিবার চালাতে হয়। এ সুযোগে ধানের আড়তদার, চালের ব্যবসায়ী, একশ্রেণীর মহাজন স্বল্পমূল্যে ধান ক্রয় করছেন। এতে কৃষকের পরিশ্রমের লাভের অংশ তাদের ঘরেই যাচ্ছে। এ অবস্থায় কৃষক যাতে তার ফসলের উপযুক্ত মূল্য পায়, সেদিকে নজর দেওয়া সংশ্লিষ্ট সবার উচিত নয় কি?
সুমন চক্রবর্তী
শাবিপ্রবি, সিলেট।

টেক্সটাইল গবেষণা
বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল স্তম্ভ পোশাকশিল্প। প্রতিবছর প্রায় ৭৫-৮০ শতাংশ বৈদেশিক মুদ্রা আয় হয় এই খাত থেকে। মুক্ত অর্থনৈতিক বাণিজ্যের এই বিশ্বে আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশকে টিকে থাকতে হলে এই খাতের উন্নয়নের কোনো বিকল্প নেই। দেশে বর্তমানে কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট থাকলেও নেই কোনো টেক্সটাইল গবেষণা ইনস্টিটিউট। ফলে প্রতিবছর অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রার সিংহভাগই চলে যাচ্ছে দেশে কার্যরত বিদেশি গবেষকদের পেছনে। আজ যদি টেক্সটাইল রিসার্চ ইনস্টিটিউট থাকত, তাহলে যেমন অর্থনেতিক অপচয় রোধ হতো, তেমনি অসংখ্য মেধা কাজে লাগিয়ে পরিবেশবান্ধব উৎপাদনব্যবস্থা গড়ে তোলা সক্ষম হতো। উল্লেখ্য, দেশে একটি সরকারি টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় থাকলেও সেখানে নেই গবেষণার জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা। ফলে ক্রমবিকাশমান টেক্সটাইল-শিল্প বহির্বিশ্বে তীব্র প্রতিযোগিতার শিকার হচ্ছে। আর এই প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য তথা দেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার জন্য একটি স্বতন্ত্র টেক্সটাইল রিসার্চ ইনস্টিটিউট অতীব প্রয়োজন। তাই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতি আবেদন, দেশে একটি টেক্সটাইল রিসার্চ ইনস্টিটিউট স্থাপন করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হোক।
মো. মশিউর রহমান
বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়।

http://www.prothom-alo.com/detail/date/2012-04-30/news/254066

Tuesday, April 24, 2012

উল্টো রাজার দেশে

উল্টো রাজার দেশে
নচিকেতার একটি বিখ্যাত গানে বলা হয়েছে, এক রাজার যেভাবে দেশ চালানো দরকার সে সেভাবে না চালিয়ে অন্যভাবে চালায়। প্রত্যেক সরকারের আমলে বাংলাদেশে এটা নিত্য ঘটনা। বর্তমান সময়েও এর একটুও ছন্দপতন হচ্ছে না। আজকে দেশের মানুষ তার শোবার ঘরেও নিরাপদ নয়। হত্যা, গুম, অপহরণ নিত্য ঘটনায় পরিণত হয়েছে। এই তো সেদিন বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য নিখোঁজ হলেন। তাঁর কোনো খবর আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখনো বের করতে পারছে না। এর আগে সাংবাদিক দম্পতি হত্যার রহস্য এখনো অজানা। আরো আগে যেসব গুম, হত্যা, অপহরণ হয়েছে তার অধিকাংশের রহস্যই এখনো অজানা। এসব কাজে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তেমন কোনো ভূমিকা না থাকলেও সরকার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তার দলীয় ক্যাডারের মতো ব্যবহার করে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অভিযোগ পাওয়া যায়। আগে দেখা যেত, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যবহার হতো রাজনৈতিক স্বার্থে। কিন্তু বর্তমান সময়ে তাদের বিরুদ্ধে মানুষের বাড়ি দখলে সাহায্য করার অভিযোগ পাওয়া যায়। আর বেশি দিন নয়, যেদিন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া যাবে তারা মানুষের বাগান বা অন্য কিছু দখলে সাহায্য করছে। এভাবে আর কত দিন উল্টো রাজার দেশের মতো উল্টো পথে চলবে আমাদের সোনার বাংলা?
আহাদ আলম শিহাব
কৃষি অনুষদ, বাকৃবি, ময়মনসিংহ।

চাকরির বয়স

চাকরির বয়স
সরকারি চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার সময়সীমা সম্প্রতি দুই বছর বাড়িয়ে ৫৯ করা হয়েছে। আমাদের দেশের মানুষের গড় আয়ু বেড়েছে। তাই এ সিদ্ধান্তের ফলে মানুষ তাদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দেশসেবার সুযোগ বেশি পাচ্ছে। সরকারের এই উদ্যোগ একদিকে যেমন প্রশংসনীয়, তেমনি উদ্বেগেরও কারণ। কেননা, এতে পদ শূন্য হওয়ার মাত্রা কমে যাবে, বেড়ে যাবে বেকারত্ব। ফলে তরুণ সমাজ জড়িয়ে যাবে অপরাধমূলক কাজে।
আমাদের দেশের উচ্চশিক্ষিতের এক বিরাট অংশ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করে থাকে।
সেশনজটের কারণে তাদের শিক্ষাজীবন দীর্ঘায়িত হয়। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ও সেশনজটমুক্ত নয়। চাকরির নিয়োগ পরীক্ষার প্রতিযোগিতামূলক যুদ্ধে অবতীর্ণ হওয়ার সময় সময়সীমা ৩০ বছর, আবার অনেকের এই বয়সটা শিক্ষাজীবনেই ব্যয় হয়। আবার এসব নিয়োগ-প্রক্রিয়াও দীর্ঘমেয়াদি। বিভিন্ন কারণে যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরি পেতে অনেকেই ব্যর্থ হন। অথচ দু-এক বছর বেশি সময় থাকলে হয়তো বা তাঁদের এ ধরনের ব্যর্থতার সম্মুখীন হতে হতো না। তাই চাকরিতে আবেদনের সময়সীমা ৩২ বছর করা হলে এ সমস্যা অনেকটা দূর হতে পারে।
ফারজানা আক্তার
অনার্স বাংলা (চতুর্থ বর্ষ)
সরকারি তিতুমীর কলেজ, ঢাকা।

Sunday, April 22, 2012

ইউনিয়ন পরিষদ সচিবদের চাকরি দ্বিতীয় শ্রেণীতে উন্নীত করুন

ইউনিয়ন পরিষদ সচিবদের চাকরি দ্বিতীয় শ্রেণীতে উন্নীত করুন
ইউনিয়ন পরিষদ হচ্ছে স্থানীয় সরকারের তৃণমূল পর্যায়ের প্রশাসন ও প্রাচীন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান। এ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানটি থেকে গ্রামীণ জনসাধারণ সরাসরি সেবা পেয়ে থাকে। ইউনিয়ন পরিষদের যাবতীয় কাজ- রিপোর্ট রিটার্ন থেকে শুরু করে অন্যান্য সব কাজই পরিষদের নির্দেশনা মোতাবেক জেলা প্রশাসক কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয়ের নূ্যনতম দ্বিতীয় শ্রেণীর স্নাতক ডিগ্রিধারী ইউপি সচিবদের করতে হয়। এ ছাড়া স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন ২০০৯-এর ধারা-৪৬(১) মোতাবেক পরিষদের সব আয় ও ব্যয় ইউপি চেয়ারম্যান ও সচিবের যৌথ স্বাক্ষরে পরিচালনা ও ধারা-৫৪(৪) মোতাবেক পরিষদের তহবিল চেয়ারম্যান ও সচিবের যৌথ স্বাক্ষরে পরিচালনার বিধান রাখা হয়েছে। ইউপি সচিবরা টিআর, কাবিখা, ভিজিডি, ভিজিএফসহ প্রায় সব কমিটিতে সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করে থাকেন। এ ছাড়া ইউনিয়ন উন্নয়ন সমন্বয় সভার সদস্যসচিব হিসেবেও সচিবরা দায়িত্ব পালন করেন। এখানে উল্লেখ্য, ইউনিয়ন উন্নয়ন সমন্বয় সভায়, উপ-সহকারী প্রকৌশলী, সহকারী শিক্ষা অফিসার, উপসহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা, প্রাণিসম্পদ সহকারীসহ (কৃত্রিম প্রজনন) সরকারের প্রায় সব দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সদস্য হিসেবে থাকেন। একমাত্র সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা ছাড়া সবার নিয়োগের শিক্ষাগত যোগ্যতা ইউপি সচিবের নিচে হলেও সবাই দ্বিতীয় শ্রেণীর কর্মকর্তা হিসেবে উন্নীত হয়ে দায়িত্ব পালন করছেন। তাই ইউপি সচিব পদটি দ্বিতীয় শ্রেণীতে উন্নীত করে ইউপি সচিবদের পরিষদের সব উন্নয়নমূলক প্রকল্প তদারক করার ক্ষমতা এবং প্রশাসনিক ক্ষমতা প্রদান করলে পরিষদের সব কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা নিশ্চিতসহ সরকারি অনেক অর্থের অপচয় রোধ সম্ভব।
পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের স্থানীয় সরকারের এই স্তরকে পঞ্চায়েত বলা হয়, সেখানে সচিব একজন সরকারি কর্মকর্তা এবং স্থানীয় কৃষি, মৎস্য, স্বাস্থ্য ও অন্যান্য বিভাগের মাঠপর্যায়ের কর্মচারীদের তদারক করেন। কিন্তু বাংলাদেশের ইউনিয়ন পর্যায়ের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় ইউপি সচিবরা গ্রাম পুলিশদের অফিসিয়াল কোনো কাজ করার কোনো আদেশ করতে পারেন না, যা সত্যই দুঃখজনক। স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন ২০০৯-এ সাতটি মন্ত্রণালয়ের মাঠপর্যায়ের নির্দিষ্ট কিছু কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে ইউনিয়ন পরিষদে হস্তান্তরের জন্য বলা হয়েছে। আশা করি সরকার স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে দ্রুত মাঠপর্যায়ের এসব কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে ইউনিয়ন পরিষদে হস্তান্তর করবেন। ইউপি সচিবদের চাকরি দ্বিতীয় শ্রেণীর কর্মকর্তা হিসেবে উন্নীতকরণ ও প্রশাসনিক ক্ষমতা প্রদানে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
এ কে এম হাসান নুর জামান
ইউপি সচিব
৩ নম্বর ফাজিলপুর ইউনিয়ন পরিষদ
দিনাজপুর সদর, দিনাজপুর।

নরসুন্দা কি অস্তিত্ব হারিয়ে ফেলবে

নরসুন্দা কি অস্তিত্ব হারিয়ে ফেলবে
কিশোরগঞ্জ এক সমৃদ্ধ জনপদের নাম। আর এ সমৃদ্ধির পেছনে রয়েছে জেলার কৃতী ও স্বনামধন্য ব্যক্তিদের পদচারণ, ঐতিহাসিক স্থাপনা, হাওর-বাঁওড় আর নদ-নদীর সংমিশ্রণে প্রাকৃতিক লীলাময় সুন্দর ও মনোরম পরিবেশ। আজ সেই সুন্দর পরিবেশও যেন কিছু আত্মকেন্দ্রিক সুবিধাভোগী অবৈধ প্রভাবশালীদের কারণে বিপন্ন হতে চলেছে। একসময় শহরের কোল ঘেঁষে বয়ে যাওয়া প্রমত্তা নরসুন্দা নদীর ঢেউ এই অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকার অংশ ছিল। কত মানুষ নরসুন্দার বুকে নৌকা চালিয়ে সুখের সংসার চালাত। নৌকাবাইচ আর মাঝিমাল্লার মন মাতানো উদাসী গান সব সময় মাতিয়ে রেখেছে নদীকূলের মানুষকে। আজ সবই যেন স্মৃতি। আর এখন নরসুন্দার বুকজুড়ে শোভা পাচ্ছে বড় বড় আগাছা, ময়লার স্তূপ, আর অবৈধ দখলদারদের তৈরি বড় বড় নান্দনিক অট্টালিকা। নরসুন্দার নীরব ক্রন্দন যেন আর কেউ শুনতে পায় না। দিন দিন প্রভাবশালী অবৈধ দখলদারদের অর্থের উত্তাপে নরসুন্দার বুকের জল শুকিয়ে সেখানে ভরাট করা হচ্ছে মাটি। আর অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়, নরসুন্দার এই ক্রন্দন যেন শুধু নরসুন্দারই। বর্তমানে শহরের অনেক জায়গায় নরসুন্দা তার স্মৃতিচিহ্নটুকুও ইতিমধ্যে হারিয়ে ফেলেছে।
স্থানীয় প্রশাসন ও যথাযথ কর্তৃপক্ষ কি নরসুন্দাকে বাঁচাতে দল-মত নির্বিশেষে দখলদারদের অবৈধ দখলের উৎসব বন্ধ করে তার অতীত স্মৃতিটুকু ফিরিয়ে আনতে পারে না?
প্রশাসনও অবৈধ দখলদারদের অর্থ আর প্রভাবের কাছে দাসত্ব মেনে নিয়েছে। কিন্তু আমরা যারা সাধারণ মানুষ, যারা এ শহরের নির্মল পরিবেশে একটু কোলাহলমুক্ত বিনোদন প্রত্যাশী, যারা এখনো নরসুন্দার বুকে নিজের শরীরটাকে ভিজিয়ে একটু শীতল হতে চাই, তাদের এ প্রত্যাশা কে পূরণ করবে?

সুমিত বণিক
উন্নয়নকর্মী, কিশোরগঞ্জ।

সুস্থ শিক্ষাঙ্গন

সুস্থ শিক্ষাঙ্গন
জ্ঞান অর্জনের জন্য অভিভাবকেরা তাঁদের সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠান। আমরা একই ধরনের সীমাবদ্ধ পড়া পড়তে যেমন বিরক্ত হই, তেমনি তাঁদের—‘এখন এখানে পড়ো, সেখানে গিয়ে পড়ো, এর কাছে পড়ো, তার কাছে পড়ো, তার মতো পড়ো’ শুনতেও বিরক্ত হই। তাঁদের বুঝিয়ে বললে আমরা ছোট মুখে বড় বক্তৃতা দিয়ে ফেলি। প্রতিবাদ করলে ‘নষ্ট সন্তান’ হয়ে যাই। ক্লাসে প্রথম হয়েও কোনো উৎসাহ পাই না। এত বিরক্তি নিয়েও জোর করে আমরা আমাদের পাঠ্যবইয়ে ‘সীমাবদ্ধ’ পড়াটি পড়তে চাই।
আমরা শ্রদ্ধেয় অভিভাবকদের আদরের সন্তান ও গর্বের বস্তু হতে চাই। সীমাবদ্ধ জ্ঞানে যেমন জানার আগ্রহ পূরণ হয়, বিদ্যালয়গুলোতে তেমন ব্যবস্থাও গৃহীত হয় না। ‘লাইব্রেরি’ সিল লাগানো একচিলতে কক্ষটাও তাই এখন রান্নাঘর! বিদ্যালয়ের লাইব্রেরিই যদি না থাকে, কতটা বিদ্যা সেখানে অর্জন করা সম্ভব, তা সবাই বুঝতে পারে। কর্তৃপক্ষ পরীক্ষার নির্ধারিত তারিখ তো দিয়ে দেয়। পরীক্ষাটা জ্ঞান যাচাইয়ের জন্য, নাকি উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য—এর খোঁজ কেউ রাখে না। এখন ৬০ শতাংশ সৃজনশীলতার যাচাই হলেও (যদিও অধিকাংশই গাইড বইয়ের অনুসারে প্রশ্ন করা হয়) ৪০ শতাংশ নম্বর মুখস্থভিত্তিক নৈর্ব্যক্তিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। নানা রকম সমস্যার মধ্যে আরও এক সমস্যা শিক্ষকদের মধ্যেও বিরাজমান। আমাদের শ্রদ্ধেয় শিক্ষকেরা বলেন, আমরা যদি তাঁদের কাছে জ্ঞান অর্জনের উদ্দেশ্যে না যাই, তাহলে পরীক্ষায় ফেল সুনিশ্চিত। প্রকৃতপক্ষে তাঁরা তাঁদের ‘শিষ্যদের’ কাছে প্রশ্নপত্রটি ফাঁস করে দেন। এভাবে তাঁদের অত্যন্ত কঠিন ও বইয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ উচ্চপর্যায়ের প্রশ্নপত্রে অধিকাংশ ছাত্রছাত্রী পাস করে না এবং ‘বিজ্ঞান’ বিভাগ থেকে তাঁদের ‘মানবিক’ বা ‘ব্যবসায় শিক্ষা’ বিভাগে পাঠানোর আশঙ্কা থাকে। একটি ছাত্রের ভবিষ্যৎ নষ্ট করার এরূপ ষড়যন্ত্র এবং শিক্ষকের এরূপ চরিত্র কে সংশোধন করবে?
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক
নবম শ্রেণীর এক ছাত্রী।

পানির সংকট
প্রতিবছরের মতো এবারও গ্রীষ্মকাল শুরু হওয়ার আগে থেকেই নিরাপদ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এটি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। মানুষ নিরাপদ পানির অভাবে দূষিত পানি পান করছে। এ ছাড়া দূষিত পানি দিয়ে গোসল, রান্নার কাজ করার ফলে মানুষ চর্মরোগসহ নানা ক্ষতিকারক রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। বিশুদ্ধ পানির অভাবে শিশুরা ডায়রিয়া, কলেরা, আমাশয় রোগে বেশি ভুগছে। যেকোনো সময় এ পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। প্রতিনিয়ত নিরাপদ পানির অভাবে মানুষের হাহাকার বাড়ছে। অথচ প্রতিবছর গ্রীষ্মকালের শুরুতেই ওয়াসা কর্তৃপক্ষ গ্রাহকদের জন্য নিরাপদ পানি সরবরাহের উদ্যোগ নিলে মানুষকে এই দুর্ভোগে পড়তে হয় না। কাজেই মানুষের মধ্যে পুঞ্জীভূত ক্ষোভ বিস্ফোরিত হওয়ার আগেই পর্যাপ্ত পরিমাণ নিরাপদ পানি গ্রাহকদের মধ্যে সরবরাহের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
উজ্জ্বল দাস পোদ্দার
ধানমন্ডি আ/এ, ঢাকা।

Saturday, April 21, 2012

কপোতাক্ষ নদ

কপোতাক্ষ নদ
নদীমাতৃক বাংলাদেশের নদ-নদীগুলোর অবস্থা খুব করুণ। নদ-নদীগুলো তাদের চরিত্রই হারিয়ে ফেলেছে। ঐতিহ্যবাহী কপোতাক্ষ নদসহ দেশের অসংখ্য নদ-নদী আজ দুর্বল হয়ে পড়েছে। গ্রীষ্মকালে কপোতাক্ষ নদের বুকে স্থানে স্থানে সম্পূর্ণ শুকিয়ে পড়ে। পানিপ্রবাহের গতি কমে যাওয়ায় নদের তলদেশে ধীরে ধীরে পলিমাটি জমতে থাকে। বেশ কয়েক বছর এভাবে একই স্থানে পলিমাটি জমার পর ওই স্থানে চর জেগে ওঠে এবং নদের নাব্যতা হ্রাস পায়। নদের বক্ষে পলিমাটি জমে ভরাট হওয়ার প্রাকৃতিক কারণের পাশাপাশি মানুষের সৃষ্ট কারণও কম দায়ী নয়। মৃতপ্রায় কপোতাক্ষ নদের পারে এখন গড়ে উঠেছে অসংখ্য অবৈধ স্থাপনা।
সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তি ও অসাধু রাজনৈতিক নেতারা কপোতাক্ষ নদের পারের জমি দখল করে বেড়িবাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করছে। ছোট ছোট খাল এখন সুযোগসন্ধানী ব্যক্তিদের ঘেরে পরিণত হয়েছে। তারা অবৈধভাবে ঘরবাড়ি ও দোকানপাট তৈরি করে অতিরিক্ত সুবিধা ভোগ করে। অনেকে অবৈধভাবে নদের বুকে আড়াআড়ি বাঁধ দিয়ে মাছ শিকার করে, অথচ নদ-নদীতে বেড়া দিয়ে মাছ শিকার মৎস্য আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। অবৈধ স্থাপনার কারণে নদের স্বাভাবিক গতিতে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। অন্যদিকে, বর্ষাকালে নদের পানি বহনের ক্ষমতা হারানোর ফলে পানি দ্রুত নিঃসারিত না হওয়ায় বন্যার সৃষ্টি করছে। এ নদের সঙ্গে আমাদের জীবন, জীববৈচিত্র্য, কৃষি ও অর্থনীতির নিবিড় সম্পর্ক। তাই মনে রাখা দরকার, ‘কপোতাক্ষ নদ’ অবৈধ দখলমুক্ত করতে সরকারের পাশাপাশি সবাইকে নিজ নিজ উদ্যোগ নিতে হবে। সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।


মিল্টন দাশ
সারসা, পাটকেলঘাট, সাতক্ষীরা।

খাবারে বিষ

খাবারে বিষ

বর্তমানে দেশে আম-জাম-কলা-কাঁঠাল, খেজুর, আনারস, আঙুর, মুড়ি, ডাল, পাটালি গুড়, দুধ, ঘি, তেল, মাছ-মাংস, গো-খাদ্য—সবকিছুতেই বিষাক্ত রাসায়নিক দ্রব্য মিশিয়ে খাওয়ানোর ফলে মানুষ ও পশু বিভিন্ন মরণব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে। আম মোটাতাজাকরণ, পাকাতে এবং পচন রোধে ফরমালিন ব্যবহার করা হচ্ছে। এই ফরমালিন কিডনি, লিভার ক্ষতি করাসহ মারাত্মক রোগের সৃষ্টি করে। এ ছাড়া ক্যানসারের মতো মরণব্যাধিতেও আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ।
সূত্রে জানা যায়, আম বড় হলে রং সুন্দর করতে ব্যবহার করা হয় সেভেন পাউডার। আম গাছ থেকে পাড়ার পর তা পরিষ্কার করতে ব্যবহার করা হয় নয়ন পাউডার। আম বেশিদিন সতেজ রাখতে ফরমালিন স্প্রে করা হয়। অনেক সময় গাছেই আমে ফরমালিন স্প্রেসহ ক্যালসিয়াম, ক্যালসিয়াম কার্বাইড এসব বিষাক্ত কেমিক্যাল স্প্রে করার ফলে আমে হলদে রং আসে এবং দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যায়। বিষাক্ত খাদ্যের প্রভাবে নানা ধরনের দুরারোগ্য জটিল রোগের প্রাদুর্ভাব আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে রোগী এবং রোগীর আত্মীয়স্বজন চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করতে গিয়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছে। ভেজাল খাদ্যের কারণে সৃষ্ট এই সামাজিক ব্যাধি প্রতিকারে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।
উৎপাদিত প্যাকেটজাত করা প্রক্রিয়াজাত তরল ও কঠিন খাদ্যের অধিকাংশ খাদ্যই বিষ ও ভেজালে ভরপুর। বাজারে প্রায় সব ফলমূলে ক্ষতিকর রাসায়নিক দ্রব্য মিশ্রিত। ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম উপায়ে ফল পাকাতে এবং বেশিদিন সংরক্ষণ করতে কপার সালফেট, ক্যালসিয়াম, ক্যালসিয়াম কার্বাইড, পটাশের লিকুইট সলিউশন, কার্বনের ধোঁয়াসহ বিভিন্ন ধরনের কীটনাশক ব্যবহার করছেন। বিষাক্ত ক্যালসিয়াম কার্বাইড ও ফরমালিন মিশ্রিত খাদ্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এতে লিভার ও কিডনি নষ্ট হয় এবং ক্যানসারসহ বিভিন্ন মরণব্যাধি দেখা যায়। এসব বিষাক্ত দ্রব্য খেলে ২০২০ সালনাগাদ দেশে মরণব্যাধি মহামারি আকারে দেখা দেবে। বর্তমানে এ সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে বলে এক জরিপে জানা যায়। এ ব্যাপারে লিভার বিশেষজ্ঞ মোমিন খান, কিডনি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও কিডনি বিশেষজ্ঞ হারুন-অর রশিদ, ক্যানসার বিশেষজ্ঞ আকরাম হোসাইন, শিশু বিশেষজ্ঞ ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিশু নেফ্রোলোজি বিভাগের চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন এবং ঢাকা শিশু হাসপাতালের চেয়ারম্যান মঞ্জুর হোসেন বলেন, দেশে মরণব্যাধি আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধির জন্য ফলমূল ও খাদ্যদ্রব্যে বিষাক্ত কেমিক্যাল মিশিয়ে বাজারজাত করাই দায়ী।
শুধু তাই নয়, দেশে আশঙ্কাজনক হারে প্রতিবন্ধী, বোবা, বিকলাঙ্গ শিশুর জন্ম হচ্ছে। এর কারণ হিসেবে তাঁরা বলেন, গর্ভাবস্থায় মা যে ফল, শাকসবজি, মাছসহ অন্যান্য খাবার খাচ্ছেন, ওই সব খাবারে অতিরিক্ত বিষাক্ত কেমিক্যাল মেশানো থাকে; সে কারণেই এ ধরনের শিশুর জন্ম হচ্ছে। সময় থাকতে এর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান তাঁরা। একজন সন্ত্রাসী একজনকে খুন করে একটি পরিবারকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। কিন্তু ফলমূল ও খাদ্যসামগ্রীতে বিষাক্ত কেমিক্যাল মিশিয়ে এরা জাতিকে একেবারে ধ্বংস করে দিচ্ছে। এরা পেশাদার খুনির
চেয়েও ভয়ংকর!
হাফিজুর রহমান
বনওয়ারীনগর, ফরিদপুর, পাবনা।

কোচিংনির্ভর শিক্ষা
বর্তমানে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার মান ঠিক কোন পর্যায়ে, এর সঠিক উত্তর আমরা কেউ দিতে পারব না। সর্বত্র এখন শিক্ষাব্যবস্থা কোচিং সেন্টারনির্ভর হয়ে পড়েছে। দেশের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ শহর ও মফস্বলে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে কোচিং সেন্টার। শিক্ষকেরা এখন শ্রেণীকক্ষে পাঠদানের চেয়ে কোচিং সেন্টারে পাঠদানে বেশি আগ্রহী। ভালো স্থানে ভর্তি বা ভালো ফল করার আশায় মা-বাবা তাঁদের সন্তানদের কোচিং সেন্টারে পাঠান। এতে অভিভাবকেরা একদিকে যেমন আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের মেধার বিকাশও তেমন ঘটছে না। আসলে বর্তমানে শিক্ষাব্যবস্থা অর্থনৈতিকভাবে নিছক এক ব্যবসায়ে পরিণত হয়েছে। শিক্ষকেরা যদি কোচিংয়ের কথা না ভেবে শ্রেণীকক্ষে মনোযোগের সঙ্গে পাঠদান করেন, তাহলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা উপকৃত হবেন। তা ছাড়া ছাত্রছাত্রীদের কোচিং সেন্টারকেন্দ্রিক শিক্ষার বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে হবে। সর্বোপরি সরকারকেও এ ব্যাপারে সহযোগিতা ও নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে।
জাহেদুর রহমান
পুরানা পল্টন, ঢাকা।

ঘুষ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিহাদ

সমাজে নীতি-নৈতিকতার বিপরীত যা কিছু তা-ই হলো দুর্নীতি; যার অর্থ কু-অভ্যাস ও খারাপ নীতি। এটি এমন অবৈধ লেনদেন, যা অন্যায় ও গোপনীয়ভাবে দুই বা ততোধিক ব্যক্তির মধ্যে সম্পাদিত হয়। যে জীবনাচরণ বা বদ-অভ্যাস ব্যক্তিগত জীবনে ভয়াবহ অকল্যাণ বয়ে আনে এবং সমাজকে অত্যন্ত কলুষিত করে, সেই দুর্নীতি আজ দেশব্যাপী একটি ভয়ংকর সামাজিক ব্যাধি হিসেবে রন্ধ্রে রন্ধ্রে প্রসারিত হয়েছে। সমাজের সব ক্ষেত্রে কমবেশি দুর্নীতির অস্তিত্ব বিরাজমান। প্রত্যেক মানুষকে আল্লাহ তা’আলা ভালো-মন্দের পার্থক্যবোধ, ভালোকে ভালো জানা ও মন্দকে মন্দ জানার অনুভূতি উপলব্ধি করতে দিয়েছেন। প্রকৃতপক্ষে মানুষের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের ফলে ভূপৃষ্ঠে যাবতীয় মন্দ, দুষ্কর্ম ও দুর্নীতির আবির্ভাব ঘটেছে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহ মানুষের প্রতি কোনো জুলুম করেন না, বরং মানুষই নিজের ওপর জুলুম করে ও নিজের ক্ষতি সাধন করে।’ (সূরা ইউনুস, আয়াত-৪৪)
দুর্নীতি নামক ঘৃণ্য ব্যাধি শুধু দেশ ও জাতি নয়, দুর্নীতিবাজদেরও অনিবার্য ধ্বংস ডেকে আনে। ঘুষ-দুর্নীতি সমাজের নৈতিকতার ভিত্তি ও মানুষের মানবিক মূল্যবোধ ধ্বংস করে দেয়। দুর্নীতিবাজেরা অবৈধভাবে অন্যের অর্থবিত্ত আত্মসাৎ, লুটপাট ও জবরদখল করলেও যথাযথভাবে সেই সম্পদ ভোগ করতে পারে না। বরং তারা অবৈধ সম্পদের ক্ষমতার দাপটে মানবতা বিধ্বংসী ও নৈতিকতা বিবর্জিত চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, রাহাজানি, চাঁদাবাজি, প্রতারণা, সুদ, ঘুষসহ সামাজিক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত হয়। এ সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তা’আলা সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন, ‘জলে-স্থলে মানুষের কৃতকর্মের দরুন বিশৃঙ্খলা ও অশান্তি ছড়িয়ে পড়ছে, যার ফলে আল্লাহ তাদের কিছু কিছু কাজের শাস্তি আস্বাদন করাতে চান, যাতে তারা ফিরে আসে।’ (সূরা আর-রুম, আয়াত-৪১)
ঘুষ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ইসলামের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। দুর্নীতির মূল উৎস ঘুষ ও উৎকোচ গ্রহণ করে দুর্নীতিবাজেরা ক্ষমতার অপব্যবহার করে জনসাধারণের অর্থ-সম্পদ আত্মসাৎ, প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে অবহেলা এবং স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে অনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্পাদন করে থাকে। দুর্নীতির প্রভাবে সৎ ও ন্যায়নিষ্ঠ ব্যক্তিত্ব গঠিত ও বিকশিত হতে পারে না। সমাজজীবনে সৎ, যোগ্য ও নীতিবান ধর্মভীরু মানুষ সীমাহীন দুর্নীতির শিকার হয়ে নীরবতা পালনে বাধ্য হয়। এভাবে ঘুষ ও দুর্নীতি সামাজিক দ্বন্দ্ব-সংঘাত, কলহ-বিবাদ তথা সন্ত্রাস সৃষ্টি করে মানুষের নীতি, আদর্শ ও মূল্যবোধের চরম অবক্ষয় ডেকে আনে। তাই পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তা’আলা এমন অবৈধ উপায়ে হারাম পন্থায় সম্পদ অর্জন ও ভোগ করা নিষিদ্ধ করে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ইসলামের মূল নীতিমালা ঘোষণা করে বলেছেন, ‘তোমরা অন্যায়ভাবে একে অপরের সম্পদ ভোগ করো না এবং জনগণের সম্পদের কিয়দংশ জেনেশুনে অবৈধ পন্থায় আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যে বিচারকদের হাতে তুলে দিয়ো না।’ (সূরা আল-বাকারা, আয়াত-১৮৮)
ইসলামে কোনো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ন্যায্য পারিশ্রমিকের অতিরিক্ত কোনো উপহার বা উপঢৌকন নিতে নিষেধ করা হয়েছে। কোনো লোভী মানুষকে যখন বেশি পাওয়ার লালসা পেয়ে বসে, তখন সে ধর্ম-কর্ম ভুলে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে অবৈধভাবে অর্থ-সম্পদ অর্জনে উন্মত্ত হয়ে পড়ে। যে সমাজে নীতি-নৈতিকতা, সততা ও যোগ্যতার চেয়ে ধন-সম্পদকে মর্যাদার মাপকাঠি বিবেচনা করা হয়, সেখানেই দুর্নীতি মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। তাই সমাজ থেকে সব ধরনের দুর্নীতি দমনের জন্য সর্বপ্রথম মানুষের মধ্যে ইসলামের আদর্শ নৈতিকতার বিকাশ ঘটাতে হবে এবং আল্লাহ ও পরকালের ভয় সদাজাগ্রত করতে হবে। নীতি ও দুর্নীতির ফয়সালা করার জন্য একটি নৈতিক আদর্শের প্রয়োজন।
কোনো কাজের জন্য যাকে মানুষ নিযুক্ত করবে, তাকে যথাযথ পারিশ্রমিক দেওয়া হবে, এর ওপর সে যা কিছু গ্রহণ করবে তা-ই হলো উৎকোচ। প্রাক-ইসলামী যুগে উৎকোচ গ্রহণ করা নিত্যনৈমিত্তিক কাজ ছিল। বিশ্বমানবতার মুক্তিদূত মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) তাদের আল্লাহর নিষেধবাণী শুনিয়ে দিলেন। ঘুষ দেওয়া-নেওয়া হচ্ছে দুর্নীতির মূল উৎস বা অন্যতম মাধ্যম। যে সমাজ ও রাষ্ট্রে ঘুষ আদান-প্রদান করা হয়, সে সমাজে কখনো শান্তিশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না। রাসুলুল্লাহ (সা.) ঘুষ-দুর্নীতি উৎখাতের জন্য একে অত্যন্ত ঘৃণিত কাজ আখ্যা দিয়ে সাবধানবাণী উচ্চারণ করেছেন, ‘ঘুষ গ্রহীতা ও ঘুষদাতা উভয়ের ওপর আল্লাহর অভিশাপ।’ (বুখারি ও মুসলিম) এদের কঠিন পরিণতি সম্পর্কে নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘ঘুষদাতা ও ঘুষ গ্রহীতা উভয়ই জাহান্নামের আগুনে জ্বলবে।’ (তাবারানি)
দুর্নীতির অন্যতম শাখা হচ্ছে স্বজনপ্রীতি। এতে সমাজজীবনে অযোগ্য কর্তৃত্ব ও অসৎ নেতৃত্ব গড়ে ওঠে। দেশের প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক কাঠামো বিনষ্ট হয়। স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির ফলে জাতীয় জীবনে নানা রকম অনাসৃষ্টি ও বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। নবী করিম (সা.) অত্যন্ত কঠোরভাবে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির বিরুদ্ধাচরণ করে সৎ ও যোগ্য ধর্মভীরু লোকদের বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজে নিযুক্ত করেছিলেন। রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিক যাতে সত্যনিষ্ঠ জীবন যাপন করতে পারে, তার পরিপূর্ণ সুযোগ দেওয়া হয়। মহানবী (সা.) আরবের সব ধরনের দুর্নীতির মূলোৎপাটন করে একটি আদর্শপূর্ণ শান্তিময় সমাজ বিনির্মাণে ইসলামের নীতি ও নৈতিকতার শিক্ষা উপহার দিয়েছিলেন।
পবিত্র কোরআন ও হাদিসের নিষেধাজ্ঞা অনুযায়ী জাতি-ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সবাইকে সক্রিয়ভাবে ঘুষ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিহাদে অংশগ্রহণের জন্য অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিতে হবে। কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ প্রভৃতি রিপু বা কুপ্রবৃত্তির বিরুদ্ধে সংগ্রামকে ‘জিহাদে আকবর’ বা ‘বৃহত্তর জিহাদ’ নামে অভিহিত করা হয়েছে। তাই ব্যক্তি, পরিবার, সমাজজীবনের সব ক্ষেত্রে দুর্নীতিবিষয়ক সর্বাত্মক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, মসজিদ, মাদ্রাসা, ধর্মীয় উপাসনালয় প্রভৃতি স্থান থেকে প্রাতিষ্ঠানিক সদুপদেশ ও ধর্মীয় বিধিবিধানের আলোকে তৃণমূল পর্যায় থেকে দুর্নীতি দমনের জন্য প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা তৈরি করে সামাজিক আন্দোলন ও গণসচেতনতা সৃষ্টি করতে ধর্মীয় নেতাদের সম্পৃক্ততা ও বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করতে হবে। সারা দেশে সাড়ে তিন লাখ মসজিদে প্রতি শুক্রবার সাপ্তাহিক জুমার নামাজের খুতবার মাধ্যমে ইমাম সাহেবরা দুর্নীতিবিরোধী জিহাদি চেতনামূলক বক্তব্য দিয়ে ব্যাপকভাবে জনগণকে উদ্বুদ্ধ ও সচেতনতা বৃদ্ধি করতে পারেন।
ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান: বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক ও কলাম লেখক।
dr.munimkhan@yahoo.com

http://www.prothom-alo.com/detail/date/2012-04-20/news/251579

আলীর জন্য

ছিনতাইকারীদের হাতে হযরত আলীর মৃত্যু সাম্প্রতিক সময়ের একটি সাড়া জাগানো ঘটনা। তাঁর এই আত্মত্যাগ আমার মনে হয় দেশের সব বিবেকবান মানুষের মনকে সাড়া দিয়েছে।
মূল্যবোধের চরম অবক্ষয়ের এই কালে হযরত আলীর মতো মানুষের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে কমে যাচ্ছে। যদিও পৃথিবীকে বসবাসযোগ্য রাখতে হলে এদের প্রয়োজন অবশ্যই আছে।
হযরত আলী আমাদের সমাজের হয়তো মূল্যবান কেউকেটা ছিলেন না, কিন্তু মানবিকতার মাপকাঠিতে তিনি সমাজের তথাকথিত ‘মূল্যবানদের’ সবাইকে ছাড়িয়ে গেছেন।
আপাতদৃষ্টিতে ‘ছোট’ এসব মানুষের আত্মত্যাগ আমাদের আলোচনার বিষয়বস্তু হয় না। কারণ, আমাদের সমাজে এবং এই প্রিয় দেশে সততার চেয়ে ক্ষমতার মূল্য বেশি, ত্যাগের চেয়ে ভোগের, মেধার চেয়ে বাগাড়ম্বরের, সৃজনশীলতার চেয়ে আত্মপ্রচারের, সত্যের চেয়ে সুবিধাবাদের। দুই নারীকে রক্ষার জন্য এই নগণ্য মানুষটির ইট হাতে প্রতিহত করা ছাড়া আর কিই বা করার ছিল?
আমাদের দেশে সত্যিকারের নন্দিত হওয়ার যোগ্য লোকজন সব সময়ই অবহেলিত হন, অনেক সময় নিন্দিতও হন।
আমি মনে করি, হযরত আলীর এই আত্মদানের মূল্যায়ন হওয়া প্রয়োজন। সমাজ, দেশ ও রাষ্ট্র এ ব্যাপারে উদ্যোগ নিতে পারে। তাঁর ওপর নির্ভরশীল পরিবারটির জন্য কিছু করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।
এ ব্যাপারে প্রথম আলোয় প্রকাশিত সম্পাদকীয়টি আমার ভালো লেগেছে।
সবশেষে বলব, সবকিছু ভালোর সঙ্গে যে প্রথম আলো, তারও কিছু নিজস্ব উদ্যোগ এ ক্ষেত্রে হযরত আলীর কাছে আমাদের যে বিরাট ঋণ, তার কিছুমাত্র হলেও পরিশোধের সুযোগ দিতে পারে।
মো. সালেহউদ্দিন
মণিপুরিপাড়া, ঢাকা।

অর্ক
২০১২.০৪.২১ ০৪:০৪
আমাদের সমাজে এবং এই প্রিয় দেশে সততার চেয়ে ক্ষমতার মূল্য বেশি, ত্যাগের চেয়ে ভোগের, মেধার চেয়ে বাগাড়ম্বরের, সৃজনশীলতার চেয়ে আত্মপ্রচারের, সত্যের চেয়ে সুবিধাবাদের।

Riazul
Riazul
২০১২.০৪.২১ ০৫:৪৪
"নি:শেষে প্রাণ যে করিবে দান ক্ষয় নাই তার ক্ষয় নাই."......... হজরত আলি অন্যের বিপদে এগিয়ে এসেছিলেন, আমাদের উচিদ তার পারিবারকে সহযোগিতা করা. সুন্দর একটি চিঠি লিখার জন্য লেখককে অনেক ধন্যবাদ.

Mallik Intaqab Ahsan
Mallik Intaqab Ahsan
২০১২.০৪.২১ ১১:০৩
Please protmom alo take a initiative for Hazarat Ali.

পল্টন ময়দান বাঁচান

বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সর্বোপরি রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পল্টন ময়দান একটা উজ্জ্বল নক্ষত্র। অনেক রথী-মহারথী তাদের আগুনঝরা বক্তৃতার মাধ্যমে এই মাঠ কাঁপিয়ে গেছেন। আমাদের স্বাধীনতার পূর্ব সময় নতুন দেশের জন্ম ও পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক মিছিল-মিটিংয়ের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে এই মাঠ পরিচিত। আজ বিশাল জনসভা শব্দটি কানে বাজলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে বিশাল একটা খোলা মাঠ। কিন্তু দুঃখের বিষয়, আজ সেই ঐতিহ্য এখন সাবেক। এখন মাঠের চারদিকে বড় বড় বিল্ডিং উঠে মাঠটি সংকীর্ণ হয়ে গেছে। স্থান সংকুলানের জন্য বিভিন্ন মহল্লার খেলাপ্রেমীদের খেলা এখন আর তেমন চোখে পড়ে না।
তাই কর্তৃপক্ষের প্রতি বিশেষ অনুরোধ, পল্টন ময়দানকে দখলের হাত থেকে রক্ষা করুন।
মো. রফিক, ঢাকা।

দৃষ্টি আকর্ষণ

পরীক্ষায় ভালো ফল অর্জন করা আর সেই ফলের সঠিক মূল্যায়ন পাওয়া প্রত্যেক শিক্ষার্থীর আজন্ম লালিত স্বপ্ন। আর এই স্বপ্নপূরণের মাধ্যম হলো বোর্ড পরীক্ষা। ২০১১ সালের জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হলেও বৃত্তির ফল প্রকাশ হতে দেরি হচ্ছে কেন, তা একমাত্র সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাই জানেন। কিন্তু তাঁদের জানা উচিত, জীবনের প্রথম বোর্ড পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থীদের কিছু স্বপ্ন থাকে। পরীক্ষার পাঁচ মাস পরও আমরা সেই স্বপ্নের আনন্দ উপভোগ করতে পারছি না। যেহেতু বৃত্তির ফল নিয়ে অর্থনৈতিক বিষয় (যেমন: বেতন মাফ, নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ) জড়িত থাকে, যা গরিব মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের জন্য প্রয়োজনীয়। তাই বৃত্তির ফল অতিসত্বর প্রকাশ করার জন্য শিক্ষা অধিদপ্তরের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
এস এম তৌহিদ ইমাম
উল্লাপাড়া, সিরাজগঞ্জ।

হেমায়েতপুর বাসস্ট্যান্ডে দুটি ওভারব্রিজ নির্মাণ প্রয়োজন

হেমায়েতপুর বাসস্ট্যান্ডে দুটি ওভারব্রিজ নির্মাণ প্রয়োজন 
ঢাকা-সাভার ভায়া আরিচা মহাসড়কের হেমায়েতপুর বাসস্ট্যান্ড এখন জনবহুল বাসস্ট্যান্ডে পরিণত হয়েছে। হেমায়েতপুর তথা তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের সর্বত্র মিল-কারখানা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে হেমায়েতপুর এলাকায় মানুষ অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। সকাল হতে না হতেই কর্মমুখী মানুষের ভিড় হেমায়েতপুর বাসস্ট্যান্ডে পরিলক্ষিত হয়। হেমায়েতপুর বাসস্ট্যান্ডে মানুষের চাপ বেড়ে যাওয়ায় রাস্তা পার হতে গিয়ে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে এবং মূল্যবান প্রাণ ঝরে যাচ্ছে। আমরা এর আগে একাধিকবার হেমায়েতপুর বাসস্ট্যান্ডে ওভারব্রিজ নির্মাণের দাবি করেছি। আমাদের দাবির প্রতি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো তৎপরতা পরিলক্ষিত হচ্ছে না। এতে আমরা এই জনবহুল বাসস্ট্যান্ডটি নিয়ে প্রতিনিয়ত গভীর উৎকণ্ঠায় থাকি। হেমায়েতপুর বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন স্বনামধন্য শিল্পপ্রতিষ্ঠান এ কে এইচ গ্রুপ জনস্বার্থে নিজ উদ্যোগে একটি ওভারব্রিজ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্ভট নিয়মনীতির কারণে এ কে এইচ গ্রুপ ওভারব্রিজ নির্মাণে উৎসাহ হারাতে বসেছে।
এলাকার জনগণের কথা বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত, জরুরি ভিত্তিতে হেমায়েতপুর বাসস্ট্যান্ডে একটি ওভারব্রিজ নির্মাণের কাজ হাতে নেওয়া। সরকারের নিয়মনীতি শিথিল করে স্বনামধন্য শিল্পপ্রতিষ্ঠান এ কে এইচ গ্রুপকে তাদের শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সামনে জনস্বার্থে একটি ওভারব্রিজ নির্মাণের অনুমতি দেওয়া একান্ত প্রয়োজন বলে এলাকার ভুক্তভোগী মানুষ মনে করে।
আমানউল্লা সরকার
হেমায়েতপুর বাসস্ট্যান্ড, সাভার, ঢাকা।

চি ঠি প ত্র

বয়সসীমা
আমরা যাঁরা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করেছি, তাঁদের সেশনজটের কারণে অনার্সসহ মাস্টার্স শেষ করতে ২৮-২৯ বছর বয়স হয়ে যায়। একবার কিংবা দুবার বিসিএস পরীক্ষা বা সরকারি অন্যান্য পরীক্ষা দিতেই শেষ হয়ে যায় চাকরির বয়স। পৃথিবীর উন্নত দেশ যেমন—যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়ায় চাকরির বয়স ৩৫ বছর, এমনকি আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে চাকরির আবেদনের বয়স ৩৫ বছর। তারা আরও তিন বছর বাড়ানোর জন্য তাদের লোকসভায় আবেদন করেছে। সে জন্য আমাদের দেশের চাকরির আবেদনের বয়সসীমা বাড়ানোর জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি। যেহেতু সরকার সরকারি চাকরিজীবীদের অবসরের বয়সসীমা দুই বছর বাড়িয়েছে, সেহেতু চাকরির আবেদনের বয়সসীমাও পাঁচ বছর বাড়ানো হোক।
আশার কথা, জাতীয় সংসদে মাননীয় স্পিকার গত ১ ফেব্রুয়ারি ৭১ নম্বর বিধিতে জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশের ওপর আলোচনার সময় সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ বছর করার প্রস্তাব করেন। আমরা আশা করব বিষয়টি সরকার দ্রুত সংসদে পাস করে উচ্চশিক্ষিত বেকারদের সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসবে। তা ছাড়া দেশের কলেজগুলোতে অনার্স কোর্স বেড়েছে, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে বেড়েছে, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে বিষয় বেড়েছে—সব মিলিয়ে উচ্চশিক্ষার একটি বহর বেড়েছে। অথচ সরকারের বা দেশের কর্মক্ষেত্র সেভাবে বাড়েনি। তীব্র প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য তাই আবেদনের বয়স বাড়ানোর বিকল্প নেই। পাশাপাশি সরকারি চাকরির বিভিন্ন কোটার কারণেও আমরা চাকরি থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। ওপরের বিষয়গুলো বিবেচনা করে সরকারকে চাকরির আবেদনের বয়স বাড়ানোর জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।
আহমদ সুজাউদ্দিন
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

বিপিএল
বিপিএল যখন চলছিল তখন গোটা দেশে একটা অন্য রকম উৎসবের আমেজ লক্ষ করা গেছে। যেখানে আমাদের দেশীয় খেলোয়াড়দের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনের সুপারস্টার খেলোয়াড়েরা অংশগ্রহণ করেছিলেন। জীবিকার জন্য আমরা কেউ চাকরি, কেউ ব্যবসা, কেউ কৃষিকাজ করি। আর যাঁরা পেশাদারি ক্রিকেটার, এটাই তাঁদের জীবিকা নির্বাহের মাধ্যম। এসব খেলোয়াড় আমাদের যেমন বিনোদন দেন, তেমনি দেশের জন্য বয়ে আনেন সম্মান। কিন্তু দুঃখের বিষয়, কয়েক দিন ধরে পত্রিকায় বিপিএল নিয়ে সমালোচনা দেখে দুঃখ লাগছে। বেশির ভাগ খেলোয়াড়ই নাকি এখনো তাঁদের প্রাপ্য পারিশ্রমিক হাতে পাননি। আবার কিছু খেলোয়াড়ের চেক নাকি বাউন্স করেছে। ঘটনা যদি সত্যি হয়ে থাকে তাহলে তা হবে আমাদের দেশের জন্য লজ্জাকর। কেননা বিপিএলে অনেক বিদেশি খেলোয়াড় ছিলেন, যাঁরা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সুপরিচিত মুখ।
যাঁরা বিপিএল আয়োজন করেছেন এবং যাঁরা দল কিনেছেন, তাঁরা তো অবশ্যই অর্থের জোগান কীভাবে হবে এবং কীভাবে খেলোয়াড়দের অর্থ পরিশোধ করবেন—এসব দিক বিচার বিশ্লেষণ করেই দল কিনেছেন। তবে এখন কেন এত অনিয়ম করছেন, যা আমাদের জাতির জন্য সুনাম নয় দুর্নাম বয়ে আনছে। খেলোয়াড়দের টাকার লেনদেনে যদি এ রকম অনিয়ম হয়ে থাকে, যদি ভবিষ্যতে অন্য দেশগুলো আমাদের পথ অনুসরণ করে, তাহলে বাংলাদেশের জন্য তা হবে লজ্জার এবং ভবিষ্যৎ বিপিএলের জন্য ভালো খেলোয়াড় জোগাড় করা কষ্টকর হয়ে যাবে। এতে খেলার মূল সৌন্দর্য নষ্ট হবে এবং বিপিএলের প্রতি দর্শকদের আকর্ষণ কমে যাবে।
কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ, খেলার স্বার্থে, বাংলাদেশের ভাবমূর্তির স্বার্থে খেলোয়াড়দের প্রাপ্য টাকা পরিশোধ করে আমাদের সুন্দর খেলা উপভোগ করার ব্যবস্থা করে দিন।
বাচ্চু, উৎপল, সবুজ, তানিয়া
লৌহজং, মুন্সিগঞ্জ।

খাই খাইতন্ত্রের কালে
আনিসুল হকের চমৎকার লেখাটি পড়লাম। তিনি জানতে চেয়েছেন একজন রাজনৈতিক নেতার কত টাকা লাগে? আমার প্রশ্ন, একজন রাজনৈতিক নেতার কত টাকা আছে? যা কিনা ৪৭টি ব্যাংকের কোনো শাখায় রাখা সম্ভব নয়, নতুন করে ব্যাংক খুলতে হয়। তাঁদের হিসাব এনবিআরে দেওয়ার সময় ৪০০ কোটি টাকার হিসাব কি কেউ দিয়েছিলেন? এত তাড়াতাড়ি এত টাকা হলো কীভাবে? ছয় বছরে দ্বিগুণ হওয়ার স্কিম আছে, জানি। এখন দেখছি অনেক কম সময়েও চারগুণ হয়ে গেছে! আমরা সাধারণ মানুষ দেখছি আর একেকজনের জ্ঞানগর্ভ কথা শুনছি।
মাত্র কয়েক মাস আগেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই পরিচালনা পর্ষদই অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে অভিমত দিয়েছিল—নতুন ব্যাংক এখন দেওয়া যাবে না। ওই সময় সবকিছু বিবেচনা করে সম-আয়তনের দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে ব্যাংকের সংখ্যা ও শাখা বেশি বলে মত দিয়েছিল তারা। এখন তারাই সুর পাল্টে ফেলল। নতুন ব্যাংক স্থাপনের যৌক্তিকতা ও লাইসেন্স দেওয়ার পক্ষে সাফাই গাইতে গিয়ে বলা হলো, ‘নতুন ব্যাংক স্থাপনের মাধ্যমে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) বৃদ্ধি পাবে বলে প্রতীয়মান হয়।’
এখন নিশ্চয়ই বিএনপির নেতারাও আফসোস করছেন তাঁদের আমলে ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করতে না পেরে। তবে হ্যাঁ, এর পরে কি আর ভুল করবেন? ৫৬টি ব্যাংক হলো। তারপর নিশ্চয়ই ৬৬টি হবে তাঁদের আমলে। কারণ, তাঁদের মতপার্থক্য যা-ই থাকুক না কেন, স্বার্থসিদ্ধির ক্ষেত্রে যে একই পথ বেছে নেন তাঁরা।
পরিশেষে আনিসুল হককে ধন্যবাদ জানাই মুস্তাক-মাহমুদা এবং হযরত আলীকে মনে করিয়ে দেওয়ায়। হতাশায় নিমজ্জিত হওয়ার শেষমুহূর্তে খড়কুটো ধরে মানুষ বাঁচতে চায়। আমাদের খড়কুটোর আশ্রয় যে এই সাধারণ মানুষগুলোর অসামান্য কাজকর্ম!
গুলনাহার ইসলাম
চট্টগ্রাম।

Wednesday, April 18, 2012

প্রশান্তির ঘুম by Cold Topu

রাতে বিছানা গুছিয়ে শোয়ার জন্য যখন শরীর এলিয়ে দেই, ঠিক ঘুমানোর আগ পর্যন্ত ঐ সময়টুকু আমার, শুধুই আমার!!! এখানে এসে থেমে যায় দিনের কঠিন সময়গুলো,পরাজিত হয় জীবনের রুঢ় বাস্তবতা। এইসময় আমার সামনে ভেসে উঠে এক স্বপ্নময় জগত,যেখানে আমি অনেকটা সুপারম্যান! এই সুপারম্যান তার সামনের জীবনের সব স্বপ্ন পুরন করতে থাকে একের পর এক। স্বপ্নের কেন্দ্রবিন্দু যদি পড়ালেখা হয় তবে সে একের পর এক সর্বোচ্চ ডিগ্রী গুলো নিতে থাকে,... তারপর একলাফে কোনো বড় প্রতিষ্ঠানের শীর্ষে কিংবা রাতারাতি কোনো অসাধারন concept দিয়ে একটা মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানী প্রতিষ্ঠা করে ফেলা!!! এখানে সবই সম্ভব!!! এই সুপারম্যানই আবার কখনো রুপান্তরিত হয় দুর্দান্ত কোন ক্রিকেটারে,প্রতি বলে বলে হাকায় ছক্কা,সময়ের পরিবর্তনে ক্রিকেটের জায়গা দখল করে নেয় ফুটবল,কিন্তু কমেনা সুপারম্যানের ক্ষমতা। ম্যানচেষ্টার ইউনাইটেডের লেজেন্ডারী লাল জার্সী পরে করতে থাকে একের পর এক গোল!!!!

এইরকম জেগে জেগে স্বপ্ন দেখার সময় হঠাৎ রুমে কেউ চলে আসে। বিশ্ববিজয়ের অভিযান থেমে যায়,অপেক্ষা করি তার প্রস্থানের,তারপর আবার শুরু হয় স্বপ্ন দেখা!!

এই স্বপ্নের রঙ কি শুধুই রঙ্গীন থাকে?? না, স্বপ্নের রঙ মাঝে মাঝে নীলও হয়!!! মাঝে মাঝে বাস্তব এবং কল্পিত প্রিয়জনের প্রতি অভিমান করি,প্রিয়জনেরা আমায় ভূল বুঝে, এই স্বপ্নের মাঝেও তাদের উপর আবেগময়,অধিকারমিশ্রিত রাগ করি,কেন তারা আমাকে ভূল বুঝে??? কল্পিত প্রিয়জন নিয়েই ভাবতে অনেকসময় বেশি ভাল লাগে, এই কল্পিত প্রিয়জন আমাকে ভূল বুঝে অনেক অনেক দূরে সরে যায়, চলে যায় ভুল মানুষের সাথে,ভুল কোনো শহরের অজানা পাথুরে গলিতে। আর এই আমি সব ভুলে আরো শক্ত হই, ইস্পাতসম প্রতিজ্ঞা নিয়ে সাফল্যের সিডি ভাঙী, অতঃপর এক ভুল সময়ে দেখা হয়ে যায় সেই মানুষটির সাথে,দেখি অতিচেনা মানুষটির সেই চিরচেনা হাসি আর নেই, তার পছন্দ করা ভূল মানুষটি আর একদম পছন্দের নয় এখন। নানা অপমান,অপবাদ,অপঘাত আর সে মানুষটির নোংরামী তাকে পুড়ে খাচ্ছে। চেহারায় ঝুলিয়ে রাখা তার শুকনো হাসিটি দিনদিন আরো মলিন হয়। সে আমাকে দূর থেকে দেখে নিয়মিত। আর আমি? আর আমি এখন প্রচন্ড শক্ত একজন মানুষ, জীবনের নির্মম বাস্তবতায় হারিয়ে গেছে সব আবেগ কিংবা তাকে দেখানো যে আমি আর তাকে একদমই মনে করি না,এমনকি একবার ঘুরে তাকানোরও প্রয়োজনবোধ করিনা!! মাঝে মাঝে পরিকল্পিতভাবে এখানেই স্বপ্নের ইতি টানি,মাঝে মাঝে ইতি টানার আগেই হারিয়ে যাই ঘুমের রাজ্যে।

তবে মাঝে মাঝে ইচ্ছা হয় এই স্বপ্নকে পরিনতি দিতে,এবারের স্বপ্নে সেই প্রিয়জন ভুল মানুষের সাথে সকল সম্পর্ক ছিন্ন করে এবং একলা চলার জীবন শুরু করে। এই স্বপ্নে সে অনেক কঠিন,আবেগ তাকে স্পর্শ করেনা,নিজের ভুলের জন্য নিজেকে শাস্তি দিতে চায়! এই স্বপ্নে আমিই ছুটে যাই তার কাছে,তার পরিবারের কাছে,তার পরিবারের কাছে অনুরোধ জানাই তাদের জীবনের সবচেয়ে প্রিয় উপহারকে আমার হাতে তুলে দিতে। কিন্তু তাকে কিছুতেই রাজী করানো যায়না,ততদিনে ভাঙ্গা হৃদয় আর তীব্র অনুশোচনায় সে দগ্ধ। প্রচন্ড আবেগে হাত ধরে বলি,এই হাত আমি আর ছাড়তে চাইনা!! কখনো না!! জীবনের বাকিদিন গুলোতে এই মায়াভরা মুখ দেখতে চাই প্রতিদিন,এরপরও কি তুমি আসবে না??? উত্তর আসে কেবল কান্নায়, সেখানে মুখ ফুটে হ্যাঁ বলাটা অর্থহীন। আমি আবার বলতে শুরু করি, এ জীবন তোমার জন্য নয়,এই একটি ভুল তোমার অসম্ভব মায়াময় মুখে চিরকালের জন্য দুঃখের ছায়া একেঁ দিতে পারেনা!! এইবারও জবাব আসে কান্নায়,আরো প্রবল বেগে, আর ক্রমশ হাতের উপর আরেকটি হাতের চাপ বাড়তে থাকে......... আর অসম্ভব এক ভাল লাগায় দুচোখে প্রশান্তির ঘুম নেমে আসে।

দীর্ঘদিনের জনদাবি পদ্মা সেতু

দীর্ঘদিনের জনদাবি পদ্মা সেতু
পদ্মা সেতু দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় জনপদের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন। কিন্তু দুর্ভাগ্য, স্বাধীনতার চার দশকেও তাদের সে স্বপ্ন পূরণ হয়নি। নব্বইয়ের দশকের শেষাংশে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার বঙ্গবন্ধু যমুনা সেতু নির্মাণ সম্পন্ন করার মাধ্যমে দেশের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রভূত উন্নয়ন সাধন করতে পারলেও পদ্মা সেতু নির্মাণের ক্ষেত্রে তেমন কোনো অগ্রগতি হয়নি। পদ্মা সেতু নির্মাণ বর্তমান মহাজোট সরকারের একটি অন্যতম নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল। এরই মধ্যে সরকারের তিন বছর অতিক্রান্ত হওয়ায় তা নিয়ে কিছুটা সন্দেহ থেকেই যায়। সেতু নির্মাণে প্রাথমিক যে ব্যয় পরিকল্পনা ছিল, বর্তমানে তার পরিমাণও অনেক বেড়ে গেছে। তাই আর বিলম্ব না করে এবং বাজেট অস্বাভাবিকভাবে না বাড়িয়ে যেন নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজটি সম্পন্ন করা হয় সেটিই দেশবাসীর প্রত্যাশা।
সরকারের সামনে যে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনাগুলো রয়েছে, সেগুলোকে কার্যকর করতে হলে, বিশেষ করে ট্রান্স-এশিয়ান রুট বাস্তবায়ন করতে হলে পদ্মা সেতু নির্মাণের কোনো বিকল্প নেই। মংলা সমুদ্রবন্দরের সুফল পেতে হলেও পদ্মা সেতু জরুরি। আর তখন শুধু অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ নয়; ভারত, নেপাল, ভুটানের সঙ্গেও বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাড়বে। সেই সম্পর্ক থেকে বাংলাদেশ আর্থিকভাবেও লাভবান হবে। ফলে ৫.৫৮ কিলোমিটার দীর্ঘ, ২৫ মিটার প্রশস্ত ও চার লেনবিশিষ্ট এই সেতু শুধু বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়নেই অবদান রাখবে না, এটি হতে পারে এ অঞ্চলের কয়েকটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নেরও অন্যতম সূত্র। পদ্মা সেতুর বাস্তবায়ন বাংলাদেশের সব এলাকার সুষম উন্নয়নই নিশ্চিত করবে না, জাতীয় অর্থনীতির জন্যও আশীর্বাদ বয়ে আনবে। পদ্মা সেতু দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি ঘটাবে বলে আশা করা হয়েছিল। আশা করা হয়েছিল, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের দুটি বিভাগ খুলনা ও বরিশাল এবং ঢাকা বিভাগের ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও রাজবাড়ীর মানুষের দীর্ঘদিনের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণ হবে। একটি সেতু কতটা প্রয়োজন, তা যমুনা নদীর ওপর বঙ্গবন্ধু সেতু নির্মাণের আগে-পরের পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণ করলেই স্পষ্ট হয়ে যায়।
বর্তমান সরকারেরও একটি উল্লেখযোগ্য অঙ্গীকার পদ্মা সেতু বাস্তবায়ন। কিন্তু এখন পর্যন্ত মূল সেতু, নদীশাসন, টোল প্লাজা ও সংযোগ সড়ক নির্মাণসহ পদ্মা প্রকল্পের ছয়টি দরপত্রের কার্যক্রমই শেষ হয়নি। অথচ দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগে ছেয়ে গেছে প্রকল্পটি।
বর্তমান সরকারেরও রয়েছে দুর্নীতিবিরোধী স্লোগান ও অঙ্গীকার। আমি চাই, সরকার দুর্নীতিমুক্ত-স্বচ্ছ অবস্থান প্রমাণে সফল হোক। তারা নিজেদের স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত প্রমাণ করতে পারলে অবশ্যই আবার আশার আলো দেখা দেবে। পদ্মা সেতু নির্মাণ হলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর সরাসরি সড়ক সংযোগ যেমন গড়ে উঠবে, তেমনি উন্নয়নের ক্ষেত্রে ওই এলাকার পিছিয়ে পড়ার দুর্গতি রোধ হবে। বিনিয়োগ ক্ষেত্রে সৃষ্টি হবে ইতিবাচক পরিবেশ। দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে মংলা বন্দরের ব্যবহারও বাড়বে। ফলে চট্টগ্রাম বন্দরের ওপর চাপও কমানো সম্ভব হবে। পদ্মা সেতু নির্মাণে সরকার যেহেতু প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, সেহেতু প্রতিকূলতা জয় করে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতে হবে।
কাজী সিরাজুল ইসলাম
একাধিকবার নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য
ফরিদপুর-১।

মুক্তিযোদ্ধারা কি সত্যি আশার আলো দেখবেন?

মুক্তিযোদ্ধারা কি সত্যি আশার আলো দেখবেন?
২৫ মার্চ ২০১২ কালের কণ্ঠে মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট সম্পর্কে একটি বিশাল প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। '৩২ স্থাপনার ২৯টি নেই, পড়ে আছে কেবল জমি' শিরোনামের প্রতিবেদনটি মনোযোগ সহকারে পাঠ করেছি। মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট একটি ডুবন্ত জাহাজ। মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৭২-এর প্রেসিডেন্ট অর্ডার ৯৪-এর মাধ্যমে। ১৯৭৩-এর অক্টোবরে মোট ২৬টি বাণিজ্যিক ও শিল্প প্রতিষ্ঠান নিয়ে কার্যক্রম শুরু করে মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, 'প্রতিটি প্রতিষ্ঠান লাভজনক। এসব প্রতিষ্ঠানের আয় দিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের খরচ নির্বাহ হবে, প্রয়োজনে মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টকে আরো প্রতিষ্ঠান দেওয়া হবে'। বঙ্গবন্ধু হত্যার পরও ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত কল্যাণ ট্রাস্টের নিজস্ব আয় দিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা এবং মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা, চিকিৎসা খরচ, সন্তানদের শিক্ষা ভাতা প্রদান করা হতো। মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট তিন হাজারের মতো শহীদ পরিবার ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে সহায়তা প্রদান করত তখন।
১৯৭৭ সাল থেকে কী হয়ে গেল কিছুই বোঝা গেল না! জে. জিয়াউর রহমান মুক্তিযোদ্ধা-রাজাকারদের সমন্বয়ে মন্ত্রিসভা গঠন করে দেশ পরিচালনা করছিলেন, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধারা নিয়মিত বঙ্গভবনে আসা-যাওয়া করতেন। তাঁরা রাষ্ট্রপতিকে অনুরোধ করলেন কল্যাণ ট্রাস্ট কর্তৃক প্রদেয় ভাতা রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে যেন দেওয়া হয়। রাষ্ট্রপতি মুক্তিযোদ্ধাদের আবেদন মঞ্জুর করলেন। অন্যদিকে মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টে সামরিক কর্মকর্তার সমাহার ঘটান এবং মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টে দুর্নীতি ও লুটপাট শুরু হয় অতিমাত্রায়। সে অবস্থার পরিবর্তন হয়নি। স্মরণ রাখা দরকার, মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের প্রায় ৯০ শতাংশ ছিলেন গরিব মানুষের সন্তান। তাঁদের সম্পর্কে প্রতিবেদনে কিছু উল্লেখ নেই। যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারকে সরকারি কোষাগার থেকে অর্থ দিয়ে যথার্থ সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে। যত ঝামেলা অক্ষত সাধারণ মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে। মাসিক দুই হাজার টাকা ভাতা প্রদান করতে বাজেটে ৩৬০ কোটি টাকা প্রয়োজন বলে সংবাদে বলা হয়েছে। সাধারণ মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য জাতীয় বাজেটে এক হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিলে অসুবিধা কোথায়? বাজেটে যথাযথ বরাদ্দ দিলে কারো আপত্তি থাকার কথাও নয়। সরকার ও দেশবাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই, দেশপ্রেমিক সাধারণ মুক্তিযোদ্ধারা বড় অসহায়, তাঁদের জন্য এখনই কিছু করতে হবে; সবাই বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছেন আর বাঁচবেনই বা কদিন?
মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও কল্যাণ ট্রাস্ট দিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণ হবে না। অবিলম্বে দুই প্রতিষ্ঠানের বিলুপ্তি ঘোষণা করা উচিত। কল্যাণের বদলে যেখানে অকল্যাণ হয় সে প্রতিষ্ঠান রাখার দরকার কী? দুই প্রতিষ্ঠানের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বাজারদরে বিক্রি করলে তিন-চার হাজার কোটি টাকা পাওয়া যাবে; সে টাকা সরকারি কোষাগারে নিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে ব্যয় করা যেতে পারে। তা করা হলে সাধারণ মুক্তিযোদ্ধারা উপকৃত হবেন।
আবুল কাশেম চৌধুরী
সভাপতি, মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিরক্ষা সংসদ, কেন্দ্রীয় কমিটি।

বিসিএস পরীক্ষার্থীদের তথ্য সংশোধনের সুযোগ দিন

বিসিএস পরীক্ষার্থীদের তথ্য সংশোধনের সুযোগ দিন
এ বছর ৪৩০৬টি শূন্যপদে নিয়োগের জন্য গত ২৮ মার্চ ৩৩তম বিসিএসের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এবারই প্রথম অনলাইন পদ্ধতিতে আবেদনপত্র নিয়েছে পিএসসি, যা অত্যন্ত সুন্দর, সাবলীল ও অল্প সময়ে আমরা সম্পন্ন করেছি। গত ৮ মার্চ আবেদনপত্র জমাদান শুরু হয় এবং ৭ এপ্রিল পর্যন্ত চলে।
আমার ব্যক্তিগত কোনো কম্পিউটার না থাকায় নিকটস্থ সাইবার ক্যাফেতে আরো হাজার হাজার পরীক্ষার্থীর মতো অনলাইনে আবেদনপত্র জমা দিতে যাই। সাইবার ক্যাফেগুলোতে পরীক্ষার্থীদের দীর্ঘ লাইন, বিদ্যুৎ সমস্যা, আবেদনপত্রের একটি ধাপ সম্পন্ন করার পর বারবার এঙ্সে ডিনাইড হওয়া ইত্যাদি কারণে ১৮ মার্চ থেকে পর পর তিন দিন অফিস সময়ের পর দোকানে গিয়ে আমি আবেদন করতে পারিনি। ২১ মার্চ সন্ধ্যায় শিক্ষক বাবা স্ট্রোক করলে একমাত্র সন্তান হিসেবে তাঁকে নিয়ে সরকারি হাসপাতালে চলে আসি। আমি আমার আবেদনপত্রটি পূরণের জন্য সব তথ্য ও টেলিটকের টাকাসহ সাইবার ক্যাফের কম্পিউটার অপারেটরকে দিয়ে আসি। ২৯ মার্চ বাড়ি ফিরে আবেদনপত্রের আবেদনকারীর কপি নিয়ে দেখতে পাই, সব তথ্য সঠিক থাকলেও আমার ক্যাডার পছন্দের বিষয়ে তিনি অন্য একটি ক্যাডার দিয়ে আবেদন করে দিয়েছেন। পিএসসির পক্ষ থেকে বলা হয়, একবার টাকা জমা দেওয়ার পর সংশোধনের কোনো সুযোগ নেই এবং একজন প্রার্থী একাধিকবার আবেদন করতে পারবেন না। এ কারণে আমি মানসিকভাবে চরম বিপর্যস্ত ও হতাশ হয়ে পড়ি। পিএসসি কার্যালয় বারবার যোগাযোগ করার পরও তারা সংশোধনের ব্যাপারে কোনো সঠিক তথ্য দিতে পারেনি। এ বছর যে এক লাখ ৮৩ হাজার ৬২৭ জন আবেদনকারী সঠিকভাবে আবেদনপত্র পূরণের কাজ সম্পন্ন করেছেন, তাঁদের ভেতর এমন অনেক পরীক্ষার্থী আছেন, যাঁদের ক্যাডার পছন্দে ভুল, নামের বানানে ভুল, জন্মতারিখ লিখতে গিয়ে ভুল, এসএসসি ও এইচএসসি রোল নম্বরে ভুল করে ফেলেছেন। আমাদের সরবরাহ করা রোল নম্বরের অধীনে নির্দিষ্ট ফি কেটে নিয়ে ছবি এবং স্বাক্ষর অপরিবর্তিত রেখে ত্রুটিগুলো সংশোধনের জন্য যদি একবার সুযোগ দেওয়া হয়, তবে আমাদের জীবনে সবচেয়ে বড় উপকার হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক
বিসিএস পরীক্ষার্থী।

সংবিধান

সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হোন
সংবিধান একটি রাষ্ট্রের দর্পণস্বরূপ। আর সংবিধানেই উল্লেখ থাকে একটি দেশ পরিচালনার নিয়মনীতি। যেখানে আরো উল্লেখ থাকে, দেশের রাজনীতি ও অথর্নীতির হালচাল কেমন হওয়া উচিত। কিন্তু আমাদের দেশে রাজনীতি ও অথর্নীতি সব যেন উল্টো পথে হাঁটছে। রাজনীতিবিদদের মুখে সংবিধানের বড় বড় কথা শুনলেও তাঁরা প্রকৃত সংবিধান পালন থেকে অনেক দূরে থাকেন। যার মূল কারণ হলো, সংবিধান অমান্য করলে তেমন কোনো বড় শাস্তির ব্যবস্থা নেই। যার কারণে সংবিধানের আইনগুলো সাদা কাগজের কালো অক্ষরেই সীমাবদ্ধ রয়ে গেল।
ফলে দেশে একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠন করা যাচ্ছে না। আমাদের দেশের রাজনীতিবিদদের অবশ্যই সঠিক গণতন্ত্রের চর্চার মাধ্যমে দেশকে প্রাণবন্ত করে তুলতে হবে। দেশের স্বার্থে ও দেশের জনগণের স্বার্থে কাজ করে দেশকে উন্নয়নের পথে নিয়ে যাওয়া যেন হয় রাজনীতিবিদদের দৃঢ় প্রত্যয়। একটি ভালো ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য দরকার সংবিধান এবং আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া।
সনেট দেব
অথর্নীতি বিভাগ,
চট্টগ্রাম কলেজ, চট্টগ্রাম।

মুন্সীগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে দুর্নীতি

মুন্সীগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে দুর্নীতি
এ দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রবাসী বাঙালিদের ভূমিকা অপরিসীম। ২০০৯ সালের সরকারি হিসাব অনুযায়ী পাঠানো অর্থের পরিমাণ ৭৫ হাজার কোটি টাকা। প্রতিনিয়ত ভাগ্যের উন্নয়নে স্বপ্নে বিভোর হয়ে গড়ে দুই হাজার বাঙালি বিদেশে পাড়ি দিচ্ছে। বিদেশে যাওয়ার জন্য প্রথমে সম্মুখীন হতে হয় পাসপোর্ট অফিসের। যেখানে রয়েছে দুর্নীতি ও দালালদের রাজত্ব। মুন্সীগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস দুর্নীতির প্রধান আখড়াগুলোর মধ্যে একটি, যেখানে সর্বত্র দুর্নীতির জাল বিস্তৃত। নিয়মবহির্ভূতভাবে সব কাজ চলে। দালালদের দখলে এ অফিসের অধিকাংশ কাজ সম্পাদন হয়। অপ্রীতিকর পরিবেশ রোধে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঠিক দায়িত্বশীলতাই পারে মানুষের বিড়ম্বনা, দুর্ভোগ দূরীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে।
আবু সাঈদ দেওয়ান সৌরভ
মিরাপাড়া, রিকাবিবাজার, মুন্সীগঞ্জ।

রাস্তা পাকা করুন

রাস্তা পাকা করুন
আমাদের কেলিশহর বিশ্বাস বাড়ির পূর্ব পাশে উত্তর-দক্ষিণের প্রলম্বিত রাস্তাটি এখনো কাঁচা আছে। ব্রিটিশ আমলে নির্মিত কালভার্টটি ভারী যানবাহন চলাচলে ধ্বংস হয়ে গেছে। বর্তমানে এ রাস্তা দিয়ে যানবাহন চলাচল করা বেশ ঝুঁকিপূর্ণ।
এ রাস্তাটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পাকা করে 'শহীদ প্রমোদ হরি রোড বা সড়ক' নামকরণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
হারান প্রসাদ বিশ্বাস
সাবেক সহকারী শিক্ষক, দক্ষিণ পশ্চিম
বাকলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়, চট্টগ্রাম।

সরকারি চাকরির আবেদনের বয়সসীমা বাড়ানো হোক

সরকারি চাকরির আবেদনের বয়সসীমা বাড়ানো হোক
আমরা যারা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় লেখাপড়া করেছি, তাদের সেশনজটের কারণে অনার্সসহ মাস্টার্স শেষ করতে ২৮-২৯ বছর লেগে যায়। একবার কিংবা দুবার বিসিএস পরীক্ষা বা সরকারি অন্যান্য পরীক্ষা দিতেই চাকরির বয়স শেষ হয়ে যায়। পৃথিবীর উন্নত দেশগুলো যেমন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ায় চাকরির বয়স ৩৫ বছর। এমনকি আমাদের পাশের দেশ ভারতে চাকরির আবেদনের বয়স ৩৫ বছর। তারা আরো তিন বছর বাড়ানোর জন্য তাদের লোকসভায় আবেদন করেছে। তাই আমাদের দেশের চাকরির আবেদনের বয়সসীমা বাড়ানোর জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।
যেহেতু সরকার সরকারি চাকরিজীবীদের অবসরের বয়সসীমা দুই বছর বাড়িয়েছে, সেহেতু চাকরির আবেদনের বয়সসীমাও পাঁচ বছর বাড়ানো হোক। আশার কথা, মহান জাতীয় সংসদে স্পিকার ১ ফেব্রুয়ারি ৭১ নম্বর বিধিতে জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশের ওপর আলোচনার সময় সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ বছর করার প্রস্তাব করেন। আমরা আশা করব, বিষয়টি সরকার দ্রুত সংসদে পাস করে উচ্চশিক্ষিত বেকারদের সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসবে।
আহমদ সুজাউদ্দিন
সমাজতত্ত্ব বিভাগ
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

রৌমারীতে অবিলম্বে বিদ্যুৎ সংযোগ চাই

রৌমারীতে অবিলম্বে বিদ্যুৎ সংযোগ চাই
কুড়িগ্রাম জেলার প্রত্যন্ত এবং অবহেলিত অঞ্চল রৌমারী। বাংলাদেশের আর কোনো অঞ্চল এ রকম অবহেলিত আছে বলে মনে হয় না। অনেক সরকার এসেছে, বিদায়ও নিয়েছে। তবু রৌমারীর ভাগ্য বদলায়নি। উন্নয়নের অন্যতম উপাদান বিদ্যুৎ পাব_এমন আশা আমরা করছিলাম বছর কয়েক আগ থেকে। পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি এসেছে বাজারে। খুঁটি দেখে মনে হলো অচিরেই বিদ্যুৎ আসবে।
খুঁটি দেখে অনেকেই বিদ্যুৎনির্ভর জীবিকার কথা পরিকল্পনা করতে থাকে। অন্যদিকে একই থানার অন্যান্য গ্রামে বিদ্যুৎ দেওয়া হয়েছে। চর বামনেরচর সংযোগ দেওয়ার আগে ওই সব এলাকায় কিভাবে সংযোগ দেওয়া হলো। এটাই এলাকাবাসীর প্রশ্ন। এলাকার মানুষও ওই বৈষম্যের অবসান চায় এবং দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ চায়।
এম সাকিব আল হাসান
রৌমারী, কুড়িগ্রাম।

রামপুরায় শব্দদূষণ, দ্রুত ব্যবস্থা নিন

রামপুরায় শব্দদূষণ, দ্রুত ব্যবস্থা নিন
মাইকের বিকট আওয়াজে ঘুম ভাঙে এলাকাবাসীর। থেমে থেমে চলতেই থাকে শব্দদূষণের এই মহড়া। এরপর রাত ১১-১২টার দিকে আশপাশের বাসাবাড়ির লোকজন যখন ঘুমাতে যাওয়ার প্রস্তুতি নেয় তখন আবার রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে আকাশ-বাতাস কাঁপিয়ে চলে মাইকের কানফাটা আওয়াজ। এ দৃশ্য নিত্যদিনের। উৎসস্থল : রামপুরা বাজারের ওয়াপদা রোডের মুখে মধুবন মিষ্টিঘর সংলগ্ন দু-তিনটি ডেকোরেটরের দোকান। মাইকের বিকট আওয়াজ আশপাশের দোকানপাট, পথচারী, বাসাবাড়ির স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটিয়ে চলেছে। শব্দদূষণ যে একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ তার কোনো তোয়াক্কাই করেন না এই ডেকোরেটরের মালিকরা। এই শব্দদূষণের ব্যাপারে রামপুরা থানায় অভিযোগ জানানোসহ পত্রপত্রিকায় বহুবার লেখালেখি করা হয়েছে, কিন্তু মাইকের শব্দ দৌরাত্ম্য একটুও কমেনি। সাধারণ নাগরিকের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর এই শব্দদূষণ বন্ধ করার জন্য আমরা এবার পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালকের (এনফোর্সমেন্ট) দৃষ্টি আকর্ষণ করে বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি_মাঠপর্যায়ে মোবাইল টিম নামিয়ে আইন অমান্য ও শান্তি বিঘ্নকারীদের আইনের আওতায় এনে এলাকাবাসীকে শান্তিতে বসবাস করার পরিবেশ সৃষ্টির ব্যবস্থা নিন।
মো. জামাল উদ্দিন
ডিআইটি রোড
পূর্ব রামপুরা, ঢাকা।

নতুন ব্যাংক নিয়ে চাপান উতোর

৫ ও ৮ এপ্রিল বাংলাদেশ ব্যাংক আরও নয়টি নতুন বাণিজ্যিক ব্যাংকের লাইসেন্স দেওয়ার সম্মতি দিয়েছে, যে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশে মোট ব্যাংকের সংখ্যা দাঁড়াবে ৫৬টিতে। দুই বছর ধরে সরকারের মূল নেতৃত্বের চাপের কাছে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা বোর্ড অবশেষে নতিস্বীকার করেছে। (বোর্ডের দুজন সদস্য সংশ্লিষ্ট বোর্ড-সভায় অনুপস্থিত থেকে তাঁদের অসম্মতির বিষয়টির জানান দিয়েছেন বলে পত্রপত্রিকায় ও টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে খবর বেরিয়েছে, কিন্তু তাঁরা সভায় হাজির হয়ে তাঁদের অসম্মতি লিখিতভাবে রেকর্ড করালে সত্যিকার সৎ সাহসের পরিচায়ক হতো)।
১৯৮২ সাল থেকেই ব্যক্তি খাতে ব্যাংকের মালিকানা বণ্টন এ দেশে খুবই লোভনীয় রাজনৈতিক ও আর্থিক ‘তোহফা’ হিসেবে চালু রয়েছে। বলাবাহুল্য, এই তোহফার সঙ্গে নগদ নারায়ণের যেমন যোগসূত্র থাকে, তেমনি কারা কারা ক্ষমতাসীন একাধিপতির ‘প্রসাদ-ধন্য সাফল্যের বরপুত্র’রূপে বরিত হলেন, তা-ও জানার সুযোগ পাওয়া যায় এই বণ্টনযজ্ঞের কল্যাণে। সামরিক স্বৈরশাসক এরশাদ ১৯৮২ সালের প্রথম জেনারেশন প্রাইভেট ব্যাংকের মালিকানা বিলি-বণ্টনের বাণিজ্য থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছিলেন বলে দেশে-বিদেশের মিডিয়ায় আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছিল। ১৯৯১-৯৬ মেয়াদের বিএনপি সরকারের সময়ে তাঁদের নেতা ও সমর্থকেরা দ্বিতীয় জেনারেশনের ব্যাংকগুলোর মালিকানা ভাগ-বাটোয়ারা করে নিয়েছিলেন। ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদের আওয়ামী লীগ সরকার তৃতীয় জেনারেশনের ব্যাংকগুলোর মালিকানা বণ্টনের মাধ্যমে নেতা-মন্ত্রী স্বজনদের চাহিদা মিটিয়েছে। এই তিন দফার বিলি-বণ্টনে দেশীয় মালিকানার প্রাইভেট বাণিজ্যিক ব্যাংকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছিল ত্রিশে। এরপর আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের ১ দশমিক শূন্য ৩ বিলিয়ন ডলারের ঋণ নিতে গিয়ে তাদের শর্তের বাঁধনে আটকে গিয়েছিল ২০০১-২০০৬ মেয়াদের বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট সরকার। ওই শর্ত পূরণ করতে গিয়ে ২০০৩ সালে বাংলাদেশ ব্যাংক আইন সংশোধন করে নতুন ব্যাংকের লাইসেন্স দেওয়ার কর্তৃত্ব পুরোপুরি বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা বোর্ডের ওপর ন্যস্ত করতে বাধ্য হয়েছিল তদানীন্তন সরকার।
২০০১-০৬ মেয়াদের সরকারের সময়ে আরেক দফা নতুন ব্যাংকের লাইসেন্স প্রদানে চাপ দিয়েও মালিকানা-প্রত্যাশী লবি সফল হতে পারেনি প্রধানত আইএমএফ-বিশ্বব্যাংকের ভেটো ক্ষমতার কারণে। মহাজোট সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই নতুন উদ্যমে সরকারের প্রিয়ভাজনেরা দৌড়ঝাঁপ শুরু করে দেন। প্রায় দুই বছরের লবিংয়ের পুরস্কার জুটল নতুন নয়টি ব্যাংক। (আরও কয়েকটি যুক্ত হতে পারে কিছুদিনের মধ্যেই।) অতএব দেশীয় ব্যক্তিমালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংকের সংখ্যা দাঁড়াবে ৩৯টি, মোট ব্যাংক ৫৬টিতে। সে জন্যই নিবন্ধের শিরোনামে ‘নতুন ব্যাংক নিয়ে চাপান উতোর’ কথাটি ব্যবহার করেছি। কবির লড়াইয়ের দুটো পর্বের নাম ‘চাপান-উতোর’। আমাদের নেতা-নেত্রী এবং তাঁদের প্রত্যক্ষ সমর্থক ও কৃপাধন্য বুদ্ধিজীবী মহল নতুন ব্যাংকের ‘প্রয়োজনীয়তা বনাম প্রয়োজনাতিরিক্ততা’ নিয়ে মিডিয়ায় যে ‘বাহাস’ ও কথার তুবড়ি ছুটিয়ে চলেছেন, তার সারবত্তা বিবেচনায় ‘চাপান-উতোর’ কথাটির অবতারণা খুবই উপযুক্ত মনে হয়েছে। কারণ ব্যাখ্যা করছি:
১৯৪৭-৭১ পর্বের পাকিস্তানের রাষ্ট্র-পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে শিল্পায়নের ধুয়া তুলে যে ২২টি পরিবারের কাছে দেশটির শিল্প সম্পদের সিংহভাগ পুঞ্জীভূতকরণের প্রক্রিয়ায় গতিসঞ্চার করেছিল, সে পৃষ্ঠপোষণের মডেলটিকে আগে অভিহিত করা হতো ‘রাষ্ট্র-লালিত পুঁজিবাদ’। বর্তমানে এটাকে বলা যায়, ক্রোনি ক্যাপিটালিজম বা ‘স্বজনপ্রীতি, আত্মীয়-তোষণ ও চাটুকারীর পুঁজিবাদ’। ইন্দোনেশিয়ার স্বৈরশাসক সুহার্তোর আত্মীয়স্বজন ও কৃপাভাজন সামরিক-সিভিল সাঙ্গাতদের রাতারাতি ‘আঙুল ফুলে কলাগাছ’ হয়ে পুরো ইন্দোনেশিয়ার শিল্প-বাণিজ্য কুক্ষিগতকরণের ইতিহাসকে বর্ণনা করার জন্যই এই নতুন অভিধাটির প্রবর্তন করা হয়েছে উন্নয়ন ডিসকোর্সে। আইউব খানের আমলে একই ধারার ক্রোনি ক্যাপিটালিজম লালন করার কারণেই ২২ পরিবারের উত্থান ও বিকাশ ঘটেছিল। আইয়ুব খানের সন্তানেরা, বেয়াইরা এবং আরও কয়েকজন আত্মীয়-কুটুম্ব ওই ২২ পরিবারের কাতারে জায়গা করে নিয়েছিল। ওই ২২ পরিবারের মধ্যে মাত্র দুটো পরিবারের ঠিকানা ছিল পূর্ব পাকিস্তানে।
বাংলাদেশের স্বায়ত্তশাসন, স্বাধিকার ও স্বাধীনতাসংগ্রামে ব্যাংক জাতীয়করণের দাবিটি জনমানুষের কাছে প্রাণের দাবি হয়ে উঠেছিল ব্যাংকিংয়ের এহেন প্রবল পুঁজি-লুণ্ঠন ও রাজনৈতিক অপব্যবহারের হাতিয়ার হওয়ার কারণেই। ১৯৭২ সালে ব্যাংক জাতীয়করণের সিদ্ধান্তটিও সে জন্য বিপুল জনপ্রিয়তা পেয়েছিল এই আশায় যে, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো সাধারণ উৎপাদনশীল জনগোষ্ঠীর কাছে সুলভে, কম সুদে এবং ন্যায্যতার ভিত্তিতে ব্যাংক ঋণ পৌঁছে দিতে সমর্থ হবে। যার মাধ্যমে জনগণের অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জনের প্রধান চাবিকাঠি হয়ে উঠবে ব্যাংকিং ব্যবস্থা। বঙ্গবন্ধু সরকার অতিদ্রুত দেশের গ্রামে-গঞ্জে ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে সম্প্রসারণের জন্য তাঁর শাসনামলের তিন বছর আট মাসে কয়েক হাজার ব্যাংক শাখা স্থাপনের ব্যবস্থা করেছিল, যদিও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের সংখ্যায় ছয়টিতেই স্থির ছিল। কিন্তু শাখা বিস্তারের পুরো ফল ব্যাংকগুলোর ওই সময়ের আমানতের প্রবৃদ্ধিতে প্রতিফলিত হয়নি প্রধানত জনগণের ৮২ শতাংশ ওই সময়ে দারিদ্র্যের চক্রে আবদ্ধ থাকার কারণেই। আরও দুর্ভাগ্যজনক, রাষ্ট্রায়ত্ত কল-কারখানা, সেক্টর করপোরেশন, সরকারি-আধা সরকারি-স্বায়ত্তশাসিত প্রায় প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতির মোচ্ছব শুরু হয়ে যাওয়ায় ওই সব লোকসানের দরিয়ায় নিমজ্জমান প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দিয়ে বাঁচিয়ে রাখার দায়িত্ব পালন করতে হয়েছিল ব্যাংকগুলোকেই। তবুও কৃষি খাতে, কুটিরশিল্প ও ক্ষুদ্রশিল্প খাতে আমানতের উল্লেখযোগ্য অনুপাত বরাদ্দ দিতে চেষ্টা করেছে বঙ্গবন্ধুর সরকার। কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় ওই সব ঋণের প্রবাহ ছিল নিতান্তই অপ্রতুল। দুঃখজনক হলো, রাজনৈতিক নেতা-কর্মী আমলাতন্ত্রের কর্তা-ব্যক্তি ও ব্যাংকারদের আত্মীয়স্বজনরা ব্যবসা-বাণিজ্য করার জন্য ওই সময়ে ব্যাংকগুলোতে ঘন ঘন হাজিরা দিতে শুরু করেছিল। এদেরই বলা হতো ‘ব্রিফকেস ব্যবসায়ী’। ওপর মহল থেকে টেলিফোন করিয়ে ব্যাংকের উচ্চপদস্থ অফিসারদের চেম্বারে হাজির হয়ে যেত ওই তদবিরবাজেরা, ব্রিফকেসে থাকতো নানা রকম প্রকল্পের ব্যবসায়ের বা আমদানি এলসির ফাইল। শুধু তদবির নয়, প্রায়ই বখরা ভাগাভাগির চুক্তিতে উপনীত হতো সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো। এভাবেই শুরু হয়েছিল স্বাধীন বাংলাদেশে ব্যাংক পুঁজি লুণ্ঠনের সর্বনাশা খেলা। কিন্তু তারল্যসংকটের কারণে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত খুব বেশি ‘কামেলিয়ত হাসিল’ করতে সমর্থ হয়নি পুঁজি লুটেরার দল।
স্বর্ণ-সুযোগটা অবারিত হয়েছিল সামরিক শাসক জিয়াউর রহমানের শাসনামলে। বঙ্গবন্ধুর শাসনামলের শেষ বছরটায় ব্যাংকগুলো ক্রমেই তারল্যসংকট কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছিল। আর ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওই স্বাস্থ্যকর অবস্থাটার ফায়দা নিলেন জিয়াউর রহমান, তাঁর রাজনৈতিক দল গঠনের প্রক্রিয়ায়। তাঁর কেনাবেচার রাজনীতির লোভনীয় হাতিয়ার হিসেবে অপব্যবহূত হলো ব্যাংক ঋণ এবং প্রধানত দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প ঋণ। শিল্পায়নের নামে বেধড়ক পুঁজি বিলানোর ওই মোচ্ছবের মাধ্যমেই দেশের আজকের দিনের কয়েক হাজার কোটিপতি পরিবারের নাটকীয় উত্থান পর্বটি জোরদার হয়েছিল। কারা কীভাবে ওই মোচ্ছবে শরিক হয়েছিল তার প্রামাণ্য কাহিনি সবিস্তারে উদ্ঘাটিত হয়েছে
২০১০ সালে প্রকাশিত আমার গবেষণা গ্রন্থ A Profile of Bank Loan Default in the Private sector in Bangladesh গ্রন্থে। এ ক্ষেত্রে স্বৈরশাসক এরশাদের আমলে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে প্রাইভেট ব্যাংকের মালিকানা বণ্টনের লোভনীয় দুর্নীতির অধ্যায়টি যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে, কিন্তু রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের মাধ্যমে পুঁজি-লুণ্ঠনের ধারা দুর্বল হয়ে গেছে মনে করার কোনো কারণ নেই। আমার গবেষণা গ্রন্থে উঠে এসেছে, একই ব্যক্তি কীভাবে ৩/৪/৫ বার তার রাজনৈতিক আনুগত্য ও সমর্থন পরিবর্তন করে ‘নির্দেশিত ব্যাংক ঋণের’ সুবিধা গ্রহণে সফল হয়েছিল তার কাহিনি, কীভাবে খেলাপি ঋণের কালচারটা এ দেশে গেড়ে বসে এখন দুরারোগ্য ক্যানসারে পরিণত হয়ে গেছে, কীভাবে শত শত ব্যাংকার প্রদত্ত ঋণের বখরা বাগিয়ে গত ৩০ বছরে ব্যাংকের মালিক বনে গেছে, কীভাবে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বাড়তে বাড়তে ১৯৯৬-৯৭ সালে মোট ঋণের প্রায় ৫০ শতাংশে পৌঁছে গিয়েছিল এবং ২০০২ সালে ঋণ অবলোপন (Write-off) পদ্ধতি চালু করে পুরোনো খেলাপি ঋণের সিংহভাগকে আলাদা হিসাবের বইয়ে পার করে দিয়ে পুরো সমস্যাকে লোকচক্ষুর অন্তরালে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। আমি বারবার বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে চ্যালেঞ্জ দিয়েছি, আপনারা প্রতি তিন মাস অন্তর যে খেলাপি ঋণের হিসাব প্রকাশ করেন তা অসত্য, জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল। কারণ, অবলোপনকৃত (Written-off) মন্দ ঋণের হিসাব আপনারা লুকাচ্ছেন। ওই অবলোপনকৃত ঋণের ১ শতাংশও যে বেশির ভাগ ব্যাংক গত ১০ বছরে আদায় করতে সমর্থ হয়নি, সে ব্যাপারে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না। জনগণের সঙ্গে এহেন লুকোচুরি সব গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রেই বেমানান। একই সঙ্গে বারবার পুনর্তফসিলীকরণ করে খেলাপি ঋণ সমস্যাকে ধামাচাপা দেওয়ার রোগটাও ছড়িয়ে পড়েছে ব্যাংকগুলোতে। অতএব, এ দেশে ব্যাংকিংয়ের যে খেলাপি ঋণ সমস্যা থেকে উত্তরণ ঘটেছে বলে দাবি করা হচ্ছে, ওটাও নির্ভেজাল প্রতারণা।
সে জন্যই আমি বলতে চাই, নতুন ব্যাংক নিয়ে চাপান-উতোর যা চলেছে, সেটা ব্যাংকিংয়ের মূল সমস্যাকে ফোকাসে নিয়ে আসছে না। সব সরকারই রাজনৈতিক পুরস্কার, গোপন নজরানা এবং আত্মীয়-তোষণের জন্য নতুন ব্যাংকের লাইসেন্স দিয়ে চলেছে।
ব্যাংকিং হলো ‘পরের ধনে পোদ্দারি’, আমানতকারীরাই ব্যাংক ব্যবসার প্রাণভোমরা। নতুন ব্যাংক পুরোনো ব্যাংকগুলোর সঙ্গে আমানত সংগ্রহের জন্য কাড়াকাড়ি করবে, সন্দেহ নেই। কিন্তু তাতে গড় আমানতের সুদের হার এবং প্রদত্ত ঋণের গড় সুদের হারের মধ্যে যে ৬-৭ শতাংশ পার্থক্য অনেক ব্যাংকে চালু রয়ে গেছে, তা ৪ শতাংশে কমিয়ে আনা যাবে কি না কিংবা ব্যাংকের নানা সেবা-পণ্যের জন্য যে গলাকাটা দাম বা ফি চালু রাখা হয়েছে, সেগুলো যৌক্তিকভাবে কমানো হবে কি না, তা তো বোঝা যাচ্ছে না। এসব ক্ষেত্রে প্রাইভেট ব্যাংকগুলো সিন্ডিকেশন পদ্ধতিতে যোগসাজশ ও সমঝোতা গড়ে তোলার মাধ্যমে যেভাবে মুনাফাবাজি করছে, সে ব্যাপারে তো বাংলাদেশ ব্যাংক কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ-ক্ষমতা প্রয়োগ করে ব্যাংকের গ্রাহকদের রিলিফ দিতে পারছে না। দেশের ‘স্টার ঋণখেলাপি’রা যে তাঁদের রাজনৈতিক প্রতিপত্তি ব্যবহার করে খেলাপি ঋণ শোধ না করেই আবার বিভিন্ন ব্যাংকের চেয়ারম্যান বা পরিচালক হয়ে গেছেন, সে ব্যাপারে যে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং সরকারের নীরব সম্মতি কিংবা গোপন সহায়ক ভূমিকা রয়েছে, তা কি অস্বীকার করা যাবে? এ দেশের ব্যাংকগুলো যে কয়েক হাজার কোটি টাকা মুনাফা করছে প্রতিবছর, ওই মুনাফা তো উৎপাদনশীল বিনিয়োগকে দোহন করে চলেছে—তার কী হবে? নয়তো ওই উচ্চ মুনাফায় ভাগ বসানোর খায়েশ নতুন ব্যাংকের সংখ্যার বৃদ্ধি ঘটাতে থাকবে, সেটাই স্বাভাবিক।
ড. মইনুল ইসলাম: প্রফেসর, অর্থনীতি বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও সাবেক সভাপতি বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি।

http://www.prothom-alo.com/detail/date/2012-04-19/news/251350

সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত প্রয়োজন পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতি

দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতু প্রকল্পে অর্থায়ন স্থগিত করার পর এটাই প্রত্যাশা ছিল যে সরকার এ ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ নেবে। কিন্তু সরকারের কর্মকাণ্ডে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না । এ অবস্থায় পদ্মা সেতু নিয়ে তোলা দুর্নীতির অভিযোগের ব্যাপারে আবার মুখ খুলেছে বিশ্বব্যাংক। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তারা ব্যবস্থা নেওয়ার তাগিদ দিয়েছে সরকারকে। বিশ্বব্যাংককে আশ্বস্ত করতে পারলে অর্থায়নের ওপর স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার হতে পারে বলেও সংশ্লিষ্ট মহল মনে করেন।
গত সেপ্টেম্বরে সরকারের কাছে পদ্মা সেতু নিয়ে ‘দুর্নীতির গুরুতর তথ্য’ তুলে ধরেছিল বিশ্বব্যাংক। সেখানে তৎকালীন যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন ও তাঁর ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান সাকোর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তোলা হয়। মন্ত্রী ও সরকারের তরফ থেকে তা অস্বীকার করা হয়েছে শুরু থেকেই। তবে মন্ত্রীকে শেষ পর্যন্ত যোগাযোগ মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে অন্য মন্ত্রণালয়ে দেওয়া হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের অভিযোগের পর ব্যবস্থা বলতে এটুকুই নিয়েছে সরকার। দুর্নীতি দমন কমিশন বা দুদক জানিয়েছে, তাদের তদন্তে দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি।
সরকারের কাছে দুর্নীতির তথ্য তুলে ধরার মাস সাতেক পর গত মঙ্গলবার এ ব্যাপারে নতুন করে বিবৃতি দেওয়া হয়েছে বিশ্বব্যাংকের পক্ষ থেকে। দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার তাগিদ দেওয়ার পাশাপাশি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশ সরকারের কাছে পদ্মা সেতু প্রকল্পে গুরুতর দুর্নীতির তথ্য ২০১১ সালের সেপ্টেম্বর থেকে দেওয়া শুরু করে এবং বিশ্বব্যাংক ‘নিজস্ব তদন্তে’ আস্থা রাখে। ধারণা করা যায়, বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতু নিয়ে তাদের তোলা দুর্নীতির অভিযোগের ব্যাপারে নিশ্চিত। পদ্মা সেতুর দুর্নীতি নিয়ে বিশ্বব্যাংকের তদন্ত প্রতিবেদনটি করা হয়েছিল বিভিন্নজনের সঙ্গে সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে। সেখানে বলা হয়েছে যে সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী ও সাকোর কর্মকর্তারা মিলে এমন একটি পরিস্থিতির সৃষ্টি করেন যে সাকো হলো পদ্মা সেতুর কাজ পাইয়ে দেওয়ার ব্যাপারে এক ধরনের নীরব প্রতিনিধি। কোনো কাজ পেতে হলে সাকোকে টাকা দিতে হবে। যোগাযোগমন্ত্রী ও তাঁর প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এ ধরনের গুরুতর অভিযোগ ওঠার পর এ নিয়ে বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
আমরা মনে করি, বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির যেসব তথ্য তুলে ধরেছে তার একটি যথাযথ ও গ্রহণযোগ্য তদন্ত জরুরি এবং সে অনুযায়ী দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের বিকল্প নেই। দেশ ও জনগণের স্বার্থ সমুন্নত রেখে বিকল্প সূত্র থেকে অর্থ জোগাড় করে পদ্মা সেতু নির্মাণ করা হলে কারও আপত্তি থাকবে না। কিন্তু বিশ্বব্যাংক যেসব দুর্নীতির অভিযোগ এনেছে, সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির স্বার্থেই তার সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত হতে হবে। সরকার দুর্নীতিবাজদের রক্ষার চেষ্টায় নিজেদের নিয়োজিত রাখবে, না ‘স্বপ্নের’ পদ্মা সেতু নির্মাণের সব বাধা দূর করতে এগিয়ে আসবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

http://www.prothom-alo.com/detail/date/2012-04-19/news/251348

চি ঠি প ত্র

তত্ত্বাবধায়ক সরকার
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রথা চালু করা নিয়ে দেশে চলছে অস্থিরতা। আওয়ামী লীগ সরকার হঠাৎ করে এর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে, অথচ এই প্রথা চালু করার জন্য তারা দেশ তোলপাড় করেছিল। ভুক্তভোগী হয়েছিল জনগণ। আওয়ামী লীগের দাবিতেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রথা চালু হয়। বর্তমানে এই দাবি শুধু বিরোধী দলের নয়, এই দাবি জনগণের, যা অবশ্যই সরকারকে মেনে নিতে হবে।
বর্তমান সরকার ক্ষমতা নেওয়ার পর তিন বছরে সব ক্ষেত্রে তাদের ব্যর্থতা মানুষের মনে প্রচণ্ড ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। বিদ্যুৎ, গ্যাস, তেল, পানিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের ক্রমাগত মূল্যবৃদ্ধি, আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি, অপরাধী শাস্তি না পাওয়া, রাষ্ট্রপতি কর্তৃক মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ক্ষমতাসীন দলের আসামিদের ক্ষমা করে দেওয়া, সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনীর হত্যাকারীরা গ্রেপ্তার না হওয়া, শেয়ার কেলেঙ্কারি, পদ্মা সেতুতে দুর্নীতি প্রভৃতি বিষয় সাধারণ মানুষকে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ করে তুলেছে। তা ছাড়া সরকার যেসব প্রকল্পের ওয়াদা করেছিল, যেমন-এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, ঢাকা- চট্টগ্রাম মহাসড়ককে চার লেনে উন্নীত করা—যার কোনোটিই পূরণ হয়নি।
সরকার শেষ সময়ে এসে বুঝতে পেরেছে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে আওয়ামী লীগের পক্ষে আবার নির্বাচিত হওয়ার আশা ক্ষীণ, তাই তত্ত্বাবধায়কের প্রথা বাতিল করার এই অপচেষ্টা।
আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রথা পুনর্বহালের দাবি জানাচ্ছি। আশা করি সরকার জনমত উপেক্ষা করবে না। দেশে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখা সরকারের পবিত্র দায়িত্ব ও কর্তব্য, নিজ স্বার্থে তা ক্ষুণ্ন করার কোনো অধিকার সরকারের নেই।
নূর জাহান
এসএম খালেদ রোড, চট্টগ্রাম।

টাকায় পত্র লেখা
প্রযুক্তির উন্নতির কারণে সম্প্রতি যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে এসএমএস, এমএমএস, ফেসবুক, টুইটার ইত্যাদি বহুল পরিচিত এবং এগুলো শক্ত মাধ্যমও বটে! ফেসবুকে বিভিন্ন বন্ধুকে অনুরোধ অফার পাঠিয়ে বন্ধু হওয়া আজকাল হারহামেশাই হচ্ছে। তবুও কেন মানুষ টাকার মাধ্যমে অফার করছে? প্রতিদিন দেখতে হয়, টাকার গায়ে মুঠোফোন নম্বরসহ লেখা, ‘বন্ধু হতে চাই।’ দেখলাম, একজন নিজেকে বিজিবির সদস্য পরিচয় দিয়ে লিখেছেন, ‘আমি খুব দুঃখী, আমি একজন বিজিবির সদস্য, বিরামপুর।’ ঠিক ওই দিনই আবার দেখলাম, কুড়িগ্রামের শিক্ষিত এক যুবক নামের শেষে ‘এমকম’ লিখে ঠিকানা দিয়েছেন। টাকার গায়ে লেখা দণ্ডনীয় অপরাধ। শুধু তাই নয়, এতে টাকার সৌন্দর্যও নষ্ট হয়। তাই এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী ও সরকারের ওপর মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
মো. ফজলে রাব্বী
দিনাজপুর সরকারি কলেজ, দিনাজপুর।

Tupac Coachella 2012


Tupac Coachella 2012

http://www.youtube.com/watch?v=ajVGIRsKXdo&feature=g-logo&context=G2d8a4d2FOAAAAAAABAA

Tuesday, April 17, 2012

যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল কেউই ইরানে হামলা চালাবে না


যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা করবে না। এ বছর তো নয়ই, আসন্ন বছরগুলোতেও নয়। নির্বাচনী বিবেচনা কিংবা সামরিক সীমাবদ্ধতার চেয়েও এই হামলা না করার পেছনে একটি গূঢ় কারণ লুকিয়ে রয়েছে। এ কারণটি হলো, যুক্তরাষ্ট্র যদি তা করে তবে সেটি হবে দেশটির নিজের পায়ে কুড়াল মারার শামিল। সেই সঙ্গে সারা বিশ্বের জন্যও তা বয়ে আনবে বড় ধরনের বিপর্যয়।
নেপোলিয়ন বলেছেন, ‘তুমি যদি কোনো দেশের পররাষ্ট্র ও অভ্যন্তরীণ নীতি বুঝতে চাও, তবে তার মানচিত্রের দিকে নজর দাও।’ হামলার শিকার হওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যে ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেবে। এ প্রণালির মধ্য দিয়ে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার, বাহরাইন, ইরাক ও ইরান থেকে বিশ্বের মোট ৪০ শতাংশ তেল রপ্তানি হয়ে থাকে। প্রণালিটি বন্ধ করে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বে তেলের দাম দ্বিগুণ, তিন গুণ, চার গুণ বেড়ে যাবে। ফলে মার্কিন ও বিশ্ব অর্থনীতিতেও নামবে ধস।
এসব ছোটখাটো বিষয়ও জেনারেল, সেনা বিশেষজ্ঞসহ বিশ্বকে সংকীর্ণ ‘নিরাপত্তা’র ঘেরাটোপ থেকে পর্যবেক্ষণকারী বিজ্ঞ লোকজনের মনোযোগ এড়ায় না।
এই প্রণালি বন্ধ করে দেওয়াটা হবে ইরানে সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে সবচেয়ে সহজ একটি পদক্ষেপ। কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপই এ জন্য যথেষ্ট হবে। তবে এটি পুনরায় খুলে দিতে হলে সেখানে মার্কিন নৌবাহিনীর রণতরীতে করে যুদ্ধবিমান পাঠানোই যথেষ্ট হবে না। এই জলসীমাকে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আওতামুক্ত রাখতে দেশটির বিশাল অংশ দখল করতে হবে যুক্তরাষ্ট্রকে। এ ক্ষেত্রে ইরানের বিশাল আকৃতির কথা বিবেচনা করতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে, এই দেশটি জার্মানি, ফ্রান্স, স্পেন ও ইতালির যৌথ আকৃতির চেয়েও বিশাল। কাজেই ইরান দখল করা সহজ হবে না। ইরানে হামলা করা হলে তা হবে অত্যন্ত দীর্ঘ একটি যুদ্ধ। হয়তো বা তা ভিয়েতনাম যুদ্ধের চেয়েও দীর্ঘতর হতে পারে।
এদিকে ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্র যে-ই ইরানে হামলা চালাক, মুসলিম দেশটির জন্য এর অর্থ একই হবে। ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্রকে ইরান এক ও অভিন্ন হিসেবেই বিবেচনা করে। দুই ক্ষেত্রেই হামলার পরিণতি হবে হরমুজ প্রণালি বন্ধ ও দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ। এসব বিবেচনা থেকেই যুক্তরাষ্ট্র নিজেও যেমন ইরানে হামলা চালাবে না, দোসর ইসরায়েলকেও হামলা করা থেকে বিরত রাখবে।
যুক্তরাষ্ট্রকে কোনো রকম অবগত না করে ১৯৫৬ সালে সেই যে ইসরায়েল যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছিল, এর পরও তো ৫৬ বছর পেরিয়ে গেছে। সেই যুদ্ধে বিজয়ের সব অর্জনই নিজের ঝুলিতে পুরেছিলেন তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট আইজেনহাওয়ার। এরপর আর কখনোই এ ধরনের ভুল করেনি ইসরায়েল। সিক্স ডে ওয়ার ও প্রথম লেবানন যুদ্ধের আগে ওয়াশিংটনের পূর্ণ সমর্থন পেতে সেখানে বিশেষ দূত পাঠায় ইসরায়েল। অনুমতি পাওয়ার পরই কেবল এসব যুদ্ধে নিজেকে জড়িয়েছিল ইসরায়েল। এবার যদি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছার বাইরে ইসরায়েল কোনো যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে, তবে কে আইডিএফকে (ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী) নতুন করে যুদ্ধ সরঞ্জামে সাজিয়ে দেবে? ইসরায়েলের নগরগুলোকে লক্ষ্য করে ইরান ও তার বন্ধুদের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের হামলা থেকেই বা কে রক্ষা করবে? তা ছাড়া মার্কিনদের ওপর এ রকম বিপর্যয় চাপিয়ে দেওয়ায় তাদের মধ্যে যে ইহুদি-বিদ্বেষ মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে না, সে ব্যাপারেই বা কে নিশ্চয়তা দিতে পারে?
এদিকে মার্কিন কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপই হয়তো ইরানকে যুদ্ধ থেকে দূরে রাখার জন্য যথেষ্ট হবে। লিবিয়ার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের এ নীতি কাজে লেগেছে। এখন উত্তর কোরিয়ার বেলায় তা কাজে লাগানো হচ্ছে। পারস্যের অধিবাসীরা জাতিগতভাবেই ব্যবসায়ী। তারা হয়তো নিজেদের জন্য লাভজনক কোনো চুক্তি স্বাক্ষরে ঠিকই সক্ষম হবে।
কয়েক বছর আগেও ওয়াশিংটনের নব্য রক্ষণশীলরা ইরান দখল করাটা কতটা সহজ হবে, তা নিয়ে আলোচনায় মেতে উঠেছিল। এ আলোচনা থেকে ইরানিরা বুঝে গেছে, তারা মার্কিন হামলার শিকার হচ্ছে না। অপর দিকে, দুই পক্ষের মধ্যে যদি কোনো চুক্তি না হয়, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি চালিয়ে যাবে। তবে অপেক্ষাকৃত সাহসী সেনা কর্মকর্তারা হিসাব করে দেখিয়েছেন, এটা বাকি বিশ্বের জন্য তেমন কোনো হুমকি সৃষ্টি করবে না। আমরা সহিংস কিন্তু ভারসাম্যপূর্ণ একটি জগতেই থাকব। শীতল যুদ্ধের সময় রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র যেমন ভারসাম্যপূর্ণ একটি অবস্থানে ছিল, ঠিক তেমন। বর্তমানে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার সম্পর্কটা যেমন, তেমন। খুব বন্ধুত্বপূর্ণও না, আবার খুব ভয়ংকর সহিংসও না—এমনই থাকবে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-বলয়ের সম্পর্ক।
ইতিহাস বলে, ইরান গত হাজার বছরের মধ্যে কোনো দেশকে আক্রমণ করেনি। দেশটির প্রেসিডেন্ট আহমাদিনেজাদ অবশ্য বন্য আবেগ নিয়ে কথা বলেন। কিন্তু বাস্তব ক্ষেত্রে ইরানি নেতৃত্ব বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে খুবই সতর্কতার সঙ্গে পা ফেলে। এদিকে ইসরায়েলও ইরানের লেজে সহজে পা দেবে না। ইসরায়েলের শিক্ষামন্ত্রী গিদিওন সা’আর যথার্থই বলেছেন, আসলে নেতানিয়াহু ফিলিস্তিন সমস্যা থেকে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি সরিয়ে নিতেই ইরানের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় করছেন। এ ক্ষেত্রে তিনি চমৎকার সাফল্যও দেখিয়েছেন। ওবামা হয়তো তাঁকে চুপি চুপি ডেকে বলে দিয়েছেন: ঠিক আছে, ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে তুমি যত ইচ্ছা বসতি স্থাপন করো কিংবা অশান্তির খেলা খেলে যাও। কিন্তু ইরানকে তোমার গুরুজনের হাতেই ছেড়ে দাও।
(বৈরুত যুদ্ধ চলাকালে ১৯৮২ সালের ৩ জুলাই ফিলিস্তিনি নেতা ইয়াসির আরাফাতের সঙ্গে দেখা করেন ইসরায়েলি সাংবাদিক ও শান্তিকর্মী ইউরি আভনেরি সারা বিশ্বে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেন। আরাফাতের পক্ষ থেকেও সেটা ছিল প্রথম কোনো ইসরায়েলি সাংবাদিকের সঙ্গে সাক্ষাৎ।
১৯২৩ সালে জার্মানির একটি ঐতিহ্যবাহী ধনাঢ্য ইহুদি পরিবারে এই আভনেরির জন্ম। হিটলারের উত্থানের পরপরই তাঁর বাবা ফিলিস্তিনে পাড়ি জমান। ১৯৪৭ সালে সাংবাদিকতাকে পেশা হিসেবে গ্রহণের আগ পর্যন্ত তিনি জীবিকার তাগিদে নানা পেশায় নিজেকে জড়িয়েছেন, জড়িয়েছেন নানা আন্দোলনে। তিনি বারবার হামলার শিকার হয়েছেন, স্তব্ধ করে দেওয়া হয়েছে তাঁর লেখনী, নিষিদ্ধ করা হয়েছে তাঁর গড়ে তোলা সংগঠন। ১৯৯৩ সালে বামপন্থী ও উদার ইহুদি এবং আরব বংশোদ্ভূত ইসরায়েলিদের নিয়ে তিনি গড়ে তোলেন ‘গুশ শালোম’ নামের সংগঠন। এ সংগঠন গাজা ও পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা, ইসরায়েলি কারাগারে আটক সব ফিলিস্তিনির মুক্তি, সব ইহুদি বসতি উচ্ছেদ ও জেরুজালেমকে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন দুই পক্ষেরই রাজধানী হিসেবে ঘোষণার দাবি করে। আভনেরি ২০০১ সালে ‘রাইট লিভিংহুড অ্যাওয়ার্ড’ (নোবেল পুরস্কারের বিকল্প হিসেবে বিবেচিত) লাভ করেন। সংবাদভিত্তিক ইসরায়েলি ওয়েবসাইট ওয়াই নেট-এর চালানো এক জরিপে ২০০৫ সালে আভনেরি সর্বকালের সেরা ১২৮ ইসরায়েলির মধ্যে অন্যতম নির্বাচিত হন।)
সূত্র: আউটলুক
অনুবাদ: ইসরাত জাহান

http://www.prothom-alo.com/detail/date/2012-04-18/news/240954

দেশের প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে না

দেশের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন দেশের অর্থনীতিবিদরা। চলতি অর্থবছরে (২০১১-১২) বাংলাদেশ তার প্রবৃদ্ধি বা মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) অর্জনে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছতে পারবে না। সরকার ৭ দশমিক ৩ লক্ষ্যমাত্রা ধরলে এ ক্ষেত্রে বড়জোর ৬ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হতে পারে। তার পরও আগামী ২০১২-১৩ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির হার আরো নিচে নেমে আসতে পারে। আগামী অর্থবছরে ৭ দশমিক ৩ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রা ধরা হবে এবং মূল্যস্ফীতি হতে পারে ১০ শতাংশের কিছু বেশি। জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার নিয়ে বিতর্ক লক্ষ করা যায় প্রতিবছরই। বিতর্ক রয়েছে মূল্যস্ফীতি নিয়েও। গত বছর সরকারের দাবি অনুযায়ী বার্ষিক প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৭ শতাংশ আর গবেষণা সংস্থা বিআইডিএসের মতে, বড়জোর ৬ দশমিক ২ শতাংশ। এডিবির মূল্যায়নের ক্ষেত্রেও যে সরকারের সঙ্গে মতানৈক্য সৃষ্টি হবে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে বাস্তবে জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রায় সব ক্ষেত্রেই যে নেতিবাচক প্রবণতা বিরাজ করছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। চলতি অর্থবছর রপ্তানি ও আমদানি প্রবৃদ্ধি কমে গেছে অনেকাংশে। গত বছর রপ্তানি খাতে ৪০ দশমিক ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হলেও চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে অর্জিত হয়েছে মাত্র ১০ দশমিক ৪ শতাংশ। অর্থবছর শেষে এ খাতে বড়জোর ১৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হতে পারে। অনুরূপ প্রবণতা রয়েছে আমদানি খাতেও। আমদানি প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ায় অভ্যন্তরীণ শিল্পোৎপাদন কমে যাবে।
ইতিমধ্যে কমেছেও। অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধার অভাবে বৈদেশিক বিনিয়োগসহ অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগও নেমে এসেছে প্রায় শূন্যের কোঠায়। সরকার এর মধ্যে দফায় দফায় জ্বালানি তেলসহ গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে। ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদহারও শিল্প খাতে বিনিয়োগ কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ। উচ্চ সুদের কারণে এর মধ্যে অনেক চালু শিল্প-কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে অথবা কোনো কোনোটি বন্ধের পথে। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ ঘাটতির নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে কৃষি খাতেও। সরকার ইতিমধ্যেই শিল্প খাতে বিদ্যুৎ সরবরাহের সময় বেঁধে দিয়েছে।
১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ বন্ধ রেখে এবং ব্যাংকের উচ্চ হারের সুদের টাকা নিয়ে উদ্যোক্তারা আর মৃতপ্রায় শিল্প-কারখানাগুলো টেনে নিতে চান না।
হাজি মো. রাসেল ভুঁইয়া
সিপাহীপাড়া খলিফাবাড়ী, মুন্সীগঞ্জ।

বিশুদ্ধ পানির জন্য বিশুদ্ধ মন চাই

রাজধানীতে ওয়াসা যে পানি সরবরাহ করে, তার ৮৭ শতাংশ ভূগর্ভ থেকে উত্তোলন করা হয়। মাত্র ১৩ শতাংশ পানি নদী থেকে শোধন করে সরবরাহ করা হয়। তবে নিষ্ঠুর বাস্তবতা হচ্ছে, ঢাকার আশপাশের কোনো নদীর পানিই এখন শোধনের অবস্থায় নেই। কারণ, এই নদীগুলোর দুই পাড় ঘেঁষে অসংখ্য শিল্প ও কল-কারখানা গড়ে উঠেছে, এসব কারখানার অধিকাংশ বিষাক্ত রাসায়নিক বর্জ্য পরিশোধনের জন্য ইটিপি স্থাপন না করেই অপরিশোধিত অবস্থায় নদীতে ফেলে দিচ্ছে। ফলে বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা, তুরাগ, বালু নদী_কোনোটির পানিই আর ব্যবহার উপযোগী নেই। নদী তীরবর্তী মানুষগুলো এই বর্জ্যমিশ্রিত পানি ব্যবহার করে নানাবিধ রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এমনকি মাত্রাতিরিক্ত কেমিক্যাল মিশিয়েও ওই পানি পরিশোধন করা যাচ্ছে না। আবার বিশুদ্ধ পানির নামে বোতলজাত ওয়াসার দূষিত পানি পান করেও রোগাক্রান্ত হচ্ছে অনেকেই।
ওদিকে ক্রমাগত গভীর নলকূপ বসিয়ে পানি উত্তোলন করতে থাকায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তরও ক্রমেই নেমে যাচ্ছে, যার ফলাফল অত্যন্ত ভয়াবহ, অর্থাৎ ভবনধস কিংবা ভূমিকম্পে রাজধানী তছনছ হওয়ার আশঙ্কা ক্রমেই প্রবল হচ্ছে।
এ অবস্থায় সুষ্ঠু পরিকল্পনা প্রয়োজন। ট্রলি বা গাড়িতে করে পানি সরবরাহ করে কোনো দিন পানির সমস্যা মেটানো সম্ভব নয়। প্রথমেই অপরিকল্পিত নগরায়ণ বন্ধ করতে হবে। গ্রামগুলো স্বনির্ভর করে গড়ে তুলতে হবে, যাতে ছিন্নমূল মানুষরা আর মিছে মরীচিকার পেছনে ছুটতে ছুটতে ঢাকামুখী না হয়। রাজধানীর মধ্যে ও আশপাশে যেসব খাল ও প্রাকৃতিক জলাশয়গুলো ভরাট করা হচ্ছে, সেগুলো পুনরুদ্ধার করতে হবে। এগুলো আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদ, এগুলো আমাদেরই রক্ষা করতে হবে। যদি দৃঢ়তার সঙ্গে প্রাকৃতিক সম্পদের ক্ষতিসাধন বন্ধ করা যায়, তাহলেই কেবল পানি সংকটের স্থায়ী সমাধান হবে, নইলে নিজেদের পাতানো ফাঁদে নিজেদেরই আটকে পড়তে হবে।
সতীশ চন্দ্র সরকার
অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক, বাউফল, পটুয়াখালী।

চি ঠি প ত্র

অর্থবছর
অর্থনৈতিক যাবতীয় পরিকল্পনা, বাজেট প্রণয়ন এবং বাস্তবায়ন করা ব্যক্তিগত, প্রাতিষ্ঠানিক ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই অর্থনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বার্ষিক সময়সীমা ধরা হয় ১ জুলাই থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত, যাকে অর্থবছর বলে।
তা ছাড়া অন্যান্য যাবতীয় পারিবারিক, সামাজিক, রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক কার্যক্রমের পরিকল্পনা কর্মসূচি প্রণয়ন ও পরিচালিত হয়ে থাকে বার্ষিক সময় সীমা ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত।
উল্লেখ্য, আমাদের যাবতীয় জীবনযাপন কার্যক্রমের সঙ্গে আর্থিক সংশ্লেষ আছে। এখানে আর্থবছর ধরা হয় ১ জুলাই থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত আর অন্যান্য কার্যক্রমের বছর ধরা হয় ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। যার কারণে দুটি ভিন্ন বছরের সময় সীমার পার্থক্যের জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনায় অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়।
আমার ধারণা, অর্থবছরের বর্তমান নির্ধারিত সময় সীমা ১ জুলাই থেকে ৩০ জুনের পরিবর্তে ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর করা হলে উপর্যুক্ত অসুবিধা থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে।
জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রসহ পৃথিবীর অনেক দেশেই ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত অর্থবছর বিবেচনা করে তাদের অর্থনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করে। তাই অর্থমন্ত্রণালয় ও সরকার এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে—এ মর্মে অনুরোধ করছি।
মাহতাব আলী
মিরপুর, ঢাকা।

বাদুড়ের অভয়াশ্রম
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার দক্ষিণ রাজানগর ইউনিয়নের মুন্সিবাড়ী গ্রামে আছে শতবর্ষী একটি শিশুগাছ ও পুকুরঘেরা বাঁশবন। এই বাঁশবন ও শিশুগাছের ডালে আস্তানা গেড়েছে লাখ লাখ বাদুড়। শুধু বাদুড় ঝোলার দৃশ্য দেখার জন্য প্রতিদিন এখানে হাজারো লোকের আগমন ঘটে।
মুন্সিবাড়ীর এই বাদুরগুলো বৃষ্টিতে ভিজে, রোদে পুড়ে সারা দিন ওই বিশাল গাছেই ঝুলে থাকে। সন্ধা হলেই তারা দলবেঁধে ধীর লয়ে ছন্দময় গতিতে উড়ে চলে। সারা রাত খাদ্য সংগ্রহের পর তারা আবার ফিরে আসে আস্তানায়। প্রায় ২০০ বছর ধরে বাদুড়গুলো ওই গাছে আস্তানা গেড়ে আছে। স্বাধীনতার কিছু আগে এখানে আরও অনেক বাদুড় ছিল। প্রাকৃতিক পরিবেশ নষ্ট, খাবারের উৎস কমে যাওয়া আর একশ্রেণীর মানুষের বৈরী আচরণ এদের স্বাভাবিক বংশবিস্তার আর নিরাপত্তাকে বিঘ্নিত করায় ধীরে ধীরে কমছে বাদুড়ের সংখ্যা।
বাদুড়ের মল থেকে খুব ভালো সার হয়। যে জমিতে এরা মল ত্যাগ করে, সেখানে ফসল ভালো হয়। তাই সরকারি উদ্যোগ বা পৃষ্ঠপোষকতায় রাঙ্গুনিয়ার স্থানটিকে বাদুড়ের অভয়াশ্রম হিসেবে রক্ষা করা দরকার। কেননা, প্রকৃতির জন্যই এসব প্রাণীর টিকে থাকা প্রয়োজন। তা না হলে একটা সময় এসে আমাদের প্রাকৃতিক পরিবেশের শোভাবর্ধনকারী চিরচেনা এসব বৈশিষ্ট্যপূর্ণ প্রাণীর অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাবে।
জাহেদুর রহমান
পুরানা পল্টন, ঢাকা।

রাজশাহীর ফুটপাত
রাজশাহী মহানগরের বেশির ভাগ ফুটপাত এখন দখলদারদের কবলে। একশ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী গুরুত্বপূর্ণ ফুটপাতের পুরোটাই অবৈধ দখল করে রেখেছেন। নগরের এমন কোনো রাস্তা নেই, যেটি দখলদারের কবল থেকে রক্ষা পেয়েছে। দখলদারেরা এমনভাবে রাস্তা দখল করে রেখেছেন, যার ওপর দিয়ে কোনোভাবেই হাঁটা যায় না। বাধ্য হয়ে পথচারীরা ফুটপাত ছেড়ে রাস্তার ওপর দিয়ে হাঁটেন। এতে পথচারীদের ছোট-বড় দুর্ঘটনায় পড়তে হচ্ছে। বিষয়টি প্রশাসনের একটি দায়িত্বপ্রাপ্ত বিভাগের দেখার কথা থাকলেও এ ব্যাপারে যেন তারা চরম উদাসীন। প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তা মাসিক মাসোয়ারার বিনিময়ে দখলদারদের প্রশ্রয় দিয়ে থাকে। মাঝেমধ্যে দখলদারীদের লোক-দেখানো উচ্ছেদ করলেও পরদিনই তারা আবার এসে বসে। মহানগরের দখল হওয়া ফুটপাতের অধিকাংশই বাজার এলাকা। রাজশাহীর প্রাণকেন্দ্র সাহেববাজারের প্রধান রাস্তা, রানীবাজার রাস্তা, লক্ষ্মীপুর মোড় এলাকা, গণকপাড়া, নিউমার্কেট ও বাসস্ট্যান্ডের সামনের এলাকাগুলো সম্পূর্ণটাই অবৈধ দখলদারদের কবলে। ফুটপাত ব্যবহার করতে না পেরে রাস্তা দিয়ে চলাচলের ফলে দুর্ভোগ ও দুর্ঘটনার হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। অবিলম্বে দখলদারদের কবল থেকে এসব ফুটপাত উদ্ধার করা দরকার। এ বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের জন্য রাজশাহী সিটি মেয়র, কাউন্সিলর, পুলিশ কমিশনার, সর্বোপরি ব্যবসায়ী নেতা ও সুশীল সমাজের সুনজর আকর্ষণ করছি।
জাহেদুর রহমান
বাগমারা, রাজশাহী।

Monday, April 16, 2012

আগুন ছাড়া রান্না!



শুধু কী চুলার আগুনেই রান্না হবে? মোটেও না, মাঝেমধ্যে স্বাদবদলের জন্য ওভেনেও করতে পারেন নানা পদ। দেখে নিন সাইদা বেগমের দেওয়া বেকড খাবারের রেসিপিগুলো

গরুর কিমা আর ম্যাশড পটেটো
উপকরণ: আলু ১ কেজি, গরুর মাংস (কিমা) ১ কেজি, পনিরের ঝুরি ১ কাপ, মাখন ৩ টেবিল চামচ, ময়দা ৩ টেবিল চামচ, দুধ ২ কাপ, গোলমরিচের গুঁড়া পরিমাণমতো, চিলি ফ্লেক্স ১ চা-চামচ, সয়াসস ১ চা-চামচ, ম্যাগিসস ১ চা-চামচ, লবণ পরিমাণমতো।
প্রস্তুত প্রণালি: আলু ধুয়ে সেদ্ধ করে পানি ঝরিয়ে চুলায় শুকিয়ে নিন। সেদ্ধ আলুর খোসা ছাড়িয়ে লবণ ও গোলমরিচের গুঁড়া মিশিয়ে মসৃণ করে ছেনে নিন। কিমা ধুয়ে পানি ঝরিয়ে লবণ, ও সস ও গোলমরিচ গুঁড়া দিয়ে সেদ্ধ করে নিন। ১ টেবিল চামচ তেলে ভেজে নিন। অল্প আঁচে মাখন ও ময়দা ২ মিনিট ভেজে নিন। দুধ মিলিয়ে ৮ মিনিট পর্যন্ত নেড়েচেড়ে জ্বাল দিয়ে হোয়াইট সস তৈরি করুন। নামানোর আগে গোলমরিচের গুঁড়া দিন ও লবণ দিন। ওভেন প্যানে মাখন মেখে ১ ইঞ্চি পুরু আলু বিছান। তার ওপরে আধা ইঞ্চি কিমা বিছান। কিমার ওপর আধা ইঞ্চি হোয়াইট সস বিছান। একইভাবে দ্বিতীয় স্তর সাজিয়ে ওপরে পনির ঝুরি দিন। পনিরে চিলি ফ্লেক্স বিছিয়ে দিন। ১৯০ ডিগ্রি সেলসিয়াস প্রি-হিট ওভেন ৩০-৪০ মিনিট বেক করুন। ওপরে বাদামি রং ধারণ করলে নামিয়ে নিন। পরে পরিবেশন করুন।

বেকড পাস্তা
উপকরণ: পাস্তা সেদ্ধ ২ কাপ, একটি মুরগির বুকের মাংস, মাখন ২ টেবিল চামচ, ময়দা ২ টেবিল চামচ, গোলমরিচের গুঁড়া আধা চা-চামচ, চিলি ফ্লেক্স আধা চা-চামচ, লবণ পরিমাণমতো, তেল ১ টেবিল চামচ, দুধ ২ কাপ, পনির ঝুরি ১ কাপ।
প্রস্তুত প্রণালি: মুরগির বুকের অংশ ছোট করে টুকরো করে ভালোভাবে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিন। দুধে আধা চামচ লবণ দিয়ে মুরগি সেদ্ধ করে ছেঁকে নিন। প্যানে মাখন দিয়ে অল্প আঁচে ময়দা ২ মিনিট ভেজে মাংস ছাঁকা দুধ দিয়ে ১০ মিনিট পর্যন্ত নেড়েচেড়ে হোয়াইট সস তৈরি করুন। গোলমরিচ মিশিয়ে নামিয়ে নিন। হোয়াইট সস, মুরগির মাংস ও সেদ্ধ পাস্তা একত্রে মিলিয়ে নিন। বেকিং ট্রেতে মাখন মেখে অর্ধেক পাস্তা বিছিয়ে দিন। ওপরে পনির বিছিয়ে দিন। বাকি পাস্তা দিয়ে একইভাবে আরেকটি স্তর দিন। ১৯০ ডিগ্রি সেলসিয়াস হিটে ৩০-৪০ মিনিট বেক করুন। ওপরে সোনালি রং ধারণ করলে নামিয়ে নিন। পরে পরিবেশন করুন।

হান্ডি কাবাব
উপকরণ: মুরগি ১টি, ডিম ১টি, পাউরুটি বড় ১ পিস, ঘন দুধ ২ টেবিল চামচ, লবণ সিকি চা-চামচ, গোলমরিচ গুঁড়া আধা চা-চামচ, চিলি ফ্লেক্স আধা চা-চামচ, সয়াসস ঘন আধা চা-চামচ, ওয়েচেস্টার শায়ার সস আধা চা-চামচ, ম্যাগি সস আধা চা-চামচ, মাখন ২ টেবিল চামচ।
প্রস্তুত প্রণালি: হাড় থেকে মুরগির মাংস ছাড়িয়ে নিন। মাংস ভালোভাবে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিন। মেশিনে বা পাটায় মসৃণ করে বেটে নিন। ডিম ভেঙে দুধের সঙ্গে ফেটে নিন। ডিমের সঙ্গে রুটি গুঁড়া করে ভিজিয়ে রাখুন ১০-১৫ মিনিট। বাকি উপকরণগুলো দিয়ে রুটি ভালোভাবে চটকে নিন। এবার বাটা মুরগির সঙ্গে খুব ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। রুটির প্যানের মধ্যে মাখন মাখানো কাগজ কেটে বিছিয়ে নিন। এবার একত্রে মেলানো উপকরণগুলো প্যানের মধ্যে সমান করে বিছিয়ে দিন। ওপরে একটু মাখনের প্রলেপ দিন। ১৯০ ডিগ্রি সেলসিয়াস হিটে ৪০-৫৫ মিনিট বেক করুন। ওপরে সোনালি রং ধারণ করলে নামিয়ে নিন। পরে পরিবেশন করুন।

http://www.prothom-alo.com/detail/news/240704

হিটলারের অজানা কথা


‘জার্মানির সাবেক চ্যান্সেলর ফুয়েরার অ্যাডলফ হিটলারকে কখনো সামনে থেকে না দেখলেও আকস্মিকভাবে এত দিন পর এবার তাঁর খুব কাছে পৌঁছে যেতে পেরেছি, সামনে থেকে দেখেছি, স্পর্শ করেছি এমনকি তাঁর শরীরের গন্ধ পর্যন্তও আমি নিতে পেরেছি।’ দৃশ্যত না ঘটলেও এত ঘটনা যে ঘটল, তার সবটাই কিন্তু সম্ভব হয়েছে অ্যানড্রিউ নাগোরস্কির লেখা হিটলার ল্যান্ড বইটি পড়ে। বইটির ভেতর এত চমত্কার বুননে নাগোরস্কি হিটলারের বর্ণনা করেছেন, তা যেন চোখের সামনে ছবি হয়ে ভাসে। যেন মনে হলো দৃশ্যগুলো এই মাত্র আমার চোখের সামনেই ঘটে গেল। আর আমি তাঁর সাক্ষাত্ দর্শক-শ্রোতা।’ অ্যানড্রিউ নাগোরস্কির (নিউজউইকের সাবেক প্রতিনিধি) লেখা ‘হিটলার ল্যান্ড’ বইটির আলোচনায় এমনভাবেই ব্যাখ্যা করেছেন আলোচক ক্রিস্টোফার ডিকি।
বইটিতে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের শেষ সময় থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শুরুর দিকের অভিজ্ঞতাই তুলে ধরেছেন লেখক। আর এই লেখাই হিটলারকে একই সঙ্গে মানবিক, নিষ্ঠুর, প্রতিনিধি, কূটনৈতিক, ব্যবসায়ী, তোষামোদকারী ও সবশেষে একজন সৈনিক হিসেবেই পরিচয় করিয়ে দিয়েছে আমাদের কাছে।
আমেরিকার অনেকেই বিশেষ ধরনের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে পারে। আর আমেরিকার এই সাংবাদিক বার্লিনে হিটলারের খুব কাছাকাছি যাওয়ার পুরো সুবিধাটাই যেন ভোগ করে নিয়েছেন।
সিবিএস রেডিওর কর্মকর্তা ইয়াং উইলিয়াম শিরের তাঁর ডায়েরিতে হিটলারকে নিয়ে নানা বিষয় লিখেছেন। ১৯৩৮ সালে মিউনিখ কনফারেন্সের আগের দিন হিটলার যে বক্তব্য দিয়েছিলেন, তা-ও দেখেছিলেন তিনি। কোনো ধরনের সহিংসতা ছাড়াই চেকস্লোভাকিয়া থেকে জার্মানিকে বিচ্ছিন্ন করার জন্য যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স সমর্থন করেছিল বলে ওই বক্তব্যে দাবি করেছিলেন হিটলার।
ইয়াং উইলিয়াম শিরের তাঁর ডায়েরিতে লিখেছেন, বক্তব্য দেওয়ার সময় হিটলারকে বেশ বিচলিত মনে হচ্ছিল। আর এসবই খুব কাছ থেকে ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে স্পষ্ট দেখেছিলেন তিনি। বক্তব্য দেওয়ার পুরো সময়টাই হিটলার বারবার তাঁর কাঁধ ঝাঁকাচ্ছিলেন।
‘সামনের দিকে থাকা দর্শক-শ্রোতারা কিন্তু এসবের কিছুই দেখতে পায়নি। কিন্তু আমি তা দেখতে পেয়েছিলাম ঠিকই। প্রথমবারের মতো আমি তাঁকে পর্যবেক্ষণ করতে গিয়ে বুঝতে পারি, আজ হিটলার তাঁর নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি হারিয়ে ফেলেছেন।’ ডায়েরিতে এভাবেই লিখেছেন উইলিয়াম শিরের।
হিটলারের জয়ের ঠিক কিছুদিন পরই শিরের দেখলেন, একটা হামবড়া ভাব চলে এসেছে তাঁর আচরণে। খিঁচুনি ভাবটা চলে গেছে।
হিটলারের সঙ্গে অপ্রত্যাশিতভাবে সবচেয়ে বেশি যাঁদের সামনা-সামনি দেখা হয়েছে, তাঁদের বেশির ভাগই ছিলেন আমেরিকার নারী। ১৯২০ সালের শুরুর দিকে নিউইয়র্কে হেলেন নেইমার নামের এক নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন তিনি। হেলেন নেইমার ছিলেন আর্নেস্ট পুতজি নামের জার্মান-আমেরিকান এক কূটনীতিকের স্ত্রী। তিনি পুতজি নামেই বেশি পরিচিত ছিলেন। পরে অবশ্য পুতজি হিটলারের ব্যক্তিগত উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেন।
হেলেন নেইমার পরে বলেছিলেন, তাঁর নািস নেতা নপুংসক ছিলেন। কিন্তু হিটলার তাঁর সঙ্গে অনেক বেশি সময় কাটাতে চাইতেন। ১৯২৩ সালের দিকে ব্যাভেরিয়ার সরকারের ওপর প্রতিশোধ নেওয়ার চেষ্টা যখন তাঁর ব্যর্থ হলো, তখন হিটলার পালানোর চেষ্টা করেছিলেন। পরে অবশ্য হেলেন নেইমারের ঘরে দুজন একসঙ্গে ধরা পড়েছিলেন।
এরপর নিজেই নিজের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে হিটলার বলেছিলেন, ‘এখন সব কিছুই হারিয়েছি—বাকি আর কিছু নেই!’ এ সময় পিস্তলসহ হিটলারের হাত ধরে ফেলেছিলেন হেলেন। সে সময় জার্মানদের মধ্যে যাঁরা হিটলারের আদর্শকে বিশ্বাস করেন, তাঁদের কথা মনে করিয়ে দিয়ে হেলেন বলেছিলেন, ‘আপনি যা করছেন, তা কি ভেবে দেখেছেন? আপনার সামনে এগিয়ে যাওয়ার দিকেই তাকিয়ে আছে তাঁরা।’ এভাবেই হিটলারের কাহিনিগুলো লিপিবদ্ধ হয়েছে অ্যানড্রিউ নাগোরস্কির ‘হিটলারল্যান্ড’ বইটিতে।
এরপর কারাগার থেকেই হিটলার লিখেছিলেন বিখ্যাত বই ‘মেইন ক্যাম্প’। গ্রেপ্তার হওয়ার প্রায় এক দশক পর সত্যিকার অর্থে ক্ষমতা পেয়েছিলেন হিটলার।
সময়গুলো বদলে গিয়েছিল কিন্তু তার পরও হিটলারের পাশেই ছিলেন সেই হেলেনের স্বামী পুতজি। হিটলারের একনায়কত্বের প্রথম বছর পর্যন্ত সব দৃশ্যেই তিনি ছিলেন। এ সময় পুতজি হিটলারের সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সুন্দরী মেয়ে মার্থা ডডের পরিচয় করিয়ে দেন। হিটলারের ওই মুহূর্তে একজন নারীর প্রয়োজন। আর হিটলারের এই প্রয়োজনের কথাটি পুতজি সরাসরি জানিয়ে দিয়েছিলেন মার্থাকে। এরপর অনেক ঘটনার মধ্য দিয়ে বার্লিনের একটি হোটেলে হিটলারের সামনে মার্থাকে উপহার হিসেবে নিয়ে আসেন পুতজি। কিন্তু এই ঘটনা আগে থেকে ঘুণাক্ষরেও জানতে পারেননি হিটলার। একান্তে সামনে পেয়েই মার্থার হাতে চুমু দিলেন হিটলার। মিনমিন করে কী যেন বলে আবারও তাঁর হাতে চুমু দিলেন তিনি। এরপর সেই দিন পুরো সময়টা মার্থার সঙ্গে অতি উত্সাহ আর অস্বস্তি নিয়ে কাটিয়েছিলেন হিটলার।
এমনই সব কাহিনি রূপায়িত হয়েছে পুরো বইটিতে। অসম্ভব সুন্দর উপস্থাপনায় যেন পুরো বিষয়টিই একটা চিত্রকল্প। বইটির শেষে এসে আরও বিস্মিত হতে হয় পাঠকদের। প্রশ্ন উঠতে পারে, হিটলার যদি সে সময় আত্মহত্যা করতেন, তাহলে কী হতো? আমেরিকার এই প্রত্যক্ষদর্শী লেখক কী গোটা দুনিয়ায় হিটলারের এই পাগলামো লুকাতে পারবেন? যদি তা না পারেন, তাহলে কী হবে? কিন্তু প্রকৃত অর্থে তাঁরা যা দেখেছেন, এই ইতিহাসে তার পুরো একটা নির্যাসই যেন ফুটে উঠেছে দারুণভাবে।
নিউজ উইক থেকে অনূদিত

http://www.prothom-alo.com/detail/date/2012-04-17/news/240848
EID MUBARAK to everybody