Showing posts with label Public Letters. Show all posts
Showing posts with label Public Letters. Show all posts

Monday, March 10, 2014

Has Privacy Become a Luxury Good?



For More Online Privacy

To the Editor:
Julia Angwin (Op-Ed, March 4) highlights the need for a new definition of privacy. My parents and their friends tell my generation that if we want something kept private, we should keep it off the Internet. But merely browsing online generates enough data to guess a person’s age, gender, politics, education, religion, sexual orientation and more.
When all of that information is sold to the highest bidder, it turns people into commodities.
We need more transparency on what information is being sold to whom, how secure it is and how we can opt out of it. But we can’t get there if we continue to treat online activities as less worthy of protection than the offline ones.
SHARONE TOBIAS
New York, March 4, 2014

Tuesday, May 8, 2012

আমরা নাকি দুই নম্বর মেয়ে!

ওপরের কথাটি এখন চট্টগ্রামের দক্ষিণ হালিশহরে অবস্থিত দেশের প্রথম ইপিজেডের অভ্যন্তরে অবস্থিত বিদেশি মালিকানাধীন ও শ্রীলঙ্কান ম্যানেজমেন্ট কর্তৃক পরিচালিত তৈরি পোশাকশিল্প কারখানার মহিলা শ্রমিকদের প্রতিদিন শুনতে হচ্ছে কর্মস্থলে কাজ করতে গিয়ে। সিইপিজেডে অভ্যন্তরে বেশির ভাগ পোশাকশিল্প কারখানায়ই নিত্যদিন মহিলা শ্রমিকদের নানা রকম অকথ্য গালাগাল, অনেক ক্ষেত্রে শারীরিক নির্যাতনও সহ্য করতে হয়। এসব কারখানার মধ্যে আইএসও সনদপ্রাপ্ত এবং শ্রীলঙ্কানদের ব্যবস্থাপনাধীন প্রতিষ্ঠানও রয়েছে।
বাংলাদেশি সুপারভাইজার, ইনচার্জ, ওয়ার্কস্ট্যাডি, সহকারী কোয়ালিটি ম্যানেজার পদের লোকদের কাছ থেকে শ্রীলঙ্কানরা বাংলা ভাষার গালি শিখে নিয়েছে। উৎপাদন লাইনে কাজ করতে গিয়ে কোনো ভুল হলে কিংবা সমস্যা পাওয়া গেলে সঙ্গে সঙ্গে ওই মেয়েকে শুনতে হয় 'দুই নম্বর মেয়ে' ইত্যাদি চরম অশালীন ভাষা ও শব্দ। কিছু বাংলাদেশি নিজেদের বেতন-ভাতা ও সুবিধা বাড়িয়ে নেওয়ার কৌশল হিসেবে শ্রীলঙ্কান কর্তাব্যক্তিদের বাংলায় গালাগাল করার জন্য কিছু ভাষা শব্দ শিখিয়ে দিয়েছে।
শ্রীলঙ্কান কর্তাব্যক্তিদের এমন অনৈতিক কর্মকাণ্ড এত বেড়ে গেছে যে বাংলাদেশি শ্রমিকদের ওরা জাত ধরে গালাগাল করে রুমে ডেকে নিয়ে। প্রচলিত আছে, এসব শ্রীলঙ্কান লোক শুধু ড্রাইভার ভিসা নিয়ে বাংলাদেশে চাকরি করতে এসে অবৈধভাবে এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সিইপিজেডের কারখানাগুলোতে ম্যানেজার, ফ্যাক্টরি ম্যানেজার, অ্যাডভাইজার, ডিরেক্টর ইত্যাদি উচ্চ ও লাখ লাখ টাকার বেতনের পদে চাকরি করে যাচ্ছে।
লীনা ফেরদৌসী
উত্তর হালিশহর, চট্টগ্রাম।

Tuesday, May 1, 2012

বুয়েট খুলবে কবে

আমার পরিবার আল্লাহকে কৃতজ্ঞতা জানাই, তিনি আমার সন্তানকে বুয়েটের মতো প্রতিষ্ঠানে পড়ার সুযোগ করে দিয়েছেন। ভর্তি হওয়ার পর থেকে আবার আশায় আছি, কখন ইঞ্জিনিয়ার হয়ে বেরিয়ে আসবে। অন্যদিকে আতঙ্কেও আছি দেশের কিছু উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো দুর্যোগ না এখানেও তৈরি হয়! যদিও বুয়েটে শিক্ষার্থীদের মধ্যে রাজনৈতিক কামড়াকামড়ি নেই। কিন্তু সেই রাজনৈতিক দুর্বৃত্তপনা বুয়েটেও দেখা গেল শিক্ষকদের মধ্যে। দুই দল শিক্ষক সেখানে আধিপত্য বিস্তারের জন্য কি না জানি না, মুখোমুখি অবস্থানে এখন। সেখানে ভিসির বিরুদ্ধে শিক্ষকদের একটি অংশ আন্দোলন করছে। তিন সপ্তাহ হয়ে গেছে বুয়েটে ক্লাস বন্ধ করে দিয়েছেন আন্দোলনকামী শিক্ষকরা। তাঁদের দাবি যৌক্তিক কিংবা অযৌক্তিক সে বিবেচনায় যেতে চাই না, আমার প্রশ্ন হচ্ছে, শিক্ষার্থীদের ক্ষতি না করে কি মাননীয় শিক্ষকরা তাঁদের দাবি আদায়ের পথে যেতে পারেন না? বুয়েটের শিক্ষকরা জাতির অতি সম্মানীয় ব্যক্তি। তাঁদের কাছে আমাদের সন্তানদের পাঠাতে পেরে আমরা গর্ব বোধ করি। সেই শিক্ষকরা কি আমাদের সেই গর্বের কারণকে নষ্ট করে দেবেন? আমার প্রস্তাব হচ্ছে, আপনারা ক্লাস চালু রেখে প্রতিবাদ চালিয়ে যান। মানববন্ধন থেকে শুরু করে ভিসি অফিসের সামনে অবস্থান করার মতো কর্মসূচি পালন করতে পারেন। আপনারা সংবাদ সম্মেলন করতে পারেন। ইচ্ছা করলে দেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে পারেন। রাষ্ট্রপতির কাছেও যেতে পারেন। দয়া করে ধর্মঘটের পথ পরিহার করে বুয়েট খুলে দিন। আপনাদেরই শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার পথ উন্মুক্ত করে দিন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক
ঢাকা

মে দিবসের আহ্বান, প্রতিবন্ধী কোটা, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর প্রতি, সরকারি ব্যাংক

মে দিবসের আহ্বান
মে দিবস কী—এ বিষয়ে শ্রমিকদের জিজ্ঞাসা করলে অনেকেই এ নিয়ে কিছু বলেন না। কারণ, তাঁদের কাছে সবই সমান। তাঁরা বলেন, ‘এ দিবসে কি আমাদের কোনো লাভ আছে, না আমাদের নিয়ে কারও ভাবার সময় আছে।’ শ্রমিকের ঘাম শুকানোর আগে তাঁর পারিশ্রমিক বুঝিয়ে দেওয়ার কথা ধর্মে উল্লেখ থাকলেও তাঁরা কি তা পান? দেশের বিভিন্ন পোশাক কারখানায় শ্রমিকদের বেতন-ভাতা দেওয়া হয় মাসের ১০ বা ১১ তারিখে। কিন্তু তাঁদের বাড়িভাড়া মাসের ১ তারিখেই দিতে হয়। এ ছাড়া ছেলেমেয়েদের শিক্ষা, চিকিৎসা, খাদ্য ইত্যাদি ব্যাপার তো আছেই। এসব প্রয়োজন মেটাতে গিয়ে অনেক শ্রমিক অপরাধমূলক কাজে জড়িয়ে পড়েন, যা থেকে উত্তরণ পাওয়া খুবই কঠিন। ভুক্তভোগী শ্রমিকদের মতে, তঁদের বেতন-ভাতা যদি মাসের ১ থেকে ৫ তারিখের মধ্যে দেওয়ার ব্যবস্থা হয়, তাহলে এ সমস্যা থেকে অনেকটা উত্তরণ সম্ভব। তাই আজকের এই দিনে শুধু আলোচনা নয়, সরকার ও সব পোশাক কারখানার মালিকদের প্রতি অনুরোধ, তাঁরা যেন মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে শ্রমিকদের বেতন-ভতা প্রদান করেন।
ফারজানা আক্তার
সরকারি তিতুমীর কলেজ।

প্রতিবন্ধী কোটা
আমার মতো অনেক প্রতিবন্ধী আছে, তারা যেকোনো চাকরিতে আবেদন করতে পারে না। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী আমাদের আশার বাণী শুনিয়েছেন, এখন থেকে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর সরকারি চাকরিতে প্রতিবন্ধীদের জন্য ১% কোটা সংরক্ষিত থাকবে। কিন্তু দুঃখের বিষয়, সম্প্রতি বিসিএসসহ পিএসসির অন্যান্য চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে মুক্তিযোদ্ধা, উপজাতি কোটার কথা উল্লেখ থাকলেও ফরমে প্রতিবন্ধী কোটা সম্বন্ধে কোনো কথা উল্লেখ ছিল না। এতে আমার প্রতিবন্ধী সনদ থাকা সত্ত্বেও কাগজপত্রের সঙ্গে জমা দিতে পারেনি। তাহলে আমাকে কীভাবে প্রতিবন্ধী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবে; বরং আমাকে সাধারণ প্রার্থীদের তালিকায় রাখা হলো। এরই মধ্যে বিভিন্ন ব্যাংকে কর্মকর্তা ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নিয়োগের বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিবন্ধী কোটার কথা উল্লেখ না থাকায় সনদটি জমা দিতে পারেনি, যেখানে সরকার বলার পরও তা কার্যকর হলো না। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও সরকারি চাকরিতে ১% কোটা সংরক্ষণ রাখার কথা বলার পরও তা কর্তৃপক্ষ পালন করছে না। এ ছাড়া প্রতিবন্ধীদের জন্য চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩২ বছর নির্ধারণ করা হোক।
অতএব, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার আবেদন, তিনি যেন দ্রুত সরকারি চাকরিতে ১% কোটা রাখার বিধান বাস্তবায়ন করে প্রতিবন্ধীদের মেধাকে আরও গতিশীল করেন। ফলে দেশের উন্নয়নে প্রতিবন্ধীরাও যথেষ্ট ভূমিকা রাখতে পারবে।
সাইম, ময়মনসিংহ।

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর প্রতি
সিলেকশন গ্রেড যেকোনো সরকারি কর্মকর্তার জন্য অত্যন্ত আবশ্যকীয় এবং এটি নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে অবশ্য প্রাপ্য। আমরা ৮৫১ জন চিকিৎসক, অর্থাৎ বিসিএসের (স্বাস্থ্য) বিভিন্ন সময়ে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তা, নভেম্বর ২০১০-এ সিলেকশন গ্রেডের জন্য মন্ত্রণালয় বরাবর আবেদন করেছিলাম। ওই সময়ে তা মহাখালীর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে জমা দিয়েছিলাম। গত বছর ফেব্রুয়ারি মাসে নথিটি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।
কিন্তু এক বছর ধরে ৮৫১ জন চিকিৎসা কর্মকর্তার এ গুরুত্বপূর্ণ ফাইলটি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পড়ে আছে। লাল ফিতার এ অনাকাঙ্ক্ষিত বাঁধনের ফলে আমরা জুনিয়র স্কেলে বেতন পাচ্ছি এবং ভবিষ্যতে সিনিয়র স্কেলে আবেদন করার সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হচ্ছি। অন্যান্য ক্যাডারভুক্ত কর্মকর্তাদের এ ধরনের ন্যায্য সিলেকশন গ্রেডের ফাইল এক থেকে দেড় মাসের বেশি আটকে থাকে না।
মস্বাস্থ্যমন্ত্রী বরাবরে আবেদন, আমাদের সিলেকশন গ্রেডের ফাইলটির দ্রুত নিষ্পত্তি করুন।
ডা. মোস্তাফিজুর রহমান
নর্থ সার্কুলার রোড ঢাকা।

সরকারি ব্যাংক
বাংলাদেশে একসময় হাতেগোনা কয়েকটি ব্যাংক থাকলেও বর্তমানে অসংখ্য ব্যাংকের অস্তিত্ব লক্ষ করা যায়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের দৈনন্দিন জীবনে আর্থিক লেনদেনের ধরন ও পরিমাণ বহু গুণ বেড়েছে। এর ফলে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন বেসরকারি ব্যাংকের সৃষ্টি হচ্ছে। বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা বেশি থাকায় গ্রাহকেরা এসব ব্যাংকে সরকারি ব্যাংকের চেয়েও উন্নত সেবা পেয়ে থাকেন।
অন্যদিকে, সরকারি ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রে আমরা শুধুই হতাশার চিত্র দেখতে পাই। সরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজেকর্মে অবহেলা, গ্রাহকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার প্রভৃতি যেন নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।
সরকারি ব্যাংকের অনিয়ম শুধু আইন করে বন্ধ করা যাবে না। এ জন্য চাই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আচরণ ও মানসিকতার পরিবর্তন।
উজ্জ্বল দাস পোদ্দার
ধানমন্ডি আ/এ, ঢাকা।

Monday, April 30, 2012

আলীর পক্ষে

২৩ এপ্রিল প্রথম আলো পত্রিকার সম্পাদকীয় পাতায় অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত কলামে প্রকাশিত ‘সাহসী যুবক হযরত আলীর প্রতি শ্রদ্ধা’ শিরোনামের লেখাটির প্রতি আমাদের দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়েছে। বিশেষ করে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে আত্মোৎসর্গীত হযরত আলীর পরিবারের প্রতি কেউ সমবেদনা প্রকাশ করেনি কিংবা সহমর্মিতার হাত বাড়িয়ে দেয়নি এমন মন্তব্যকে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেড (এমটিবি) বিনীতভাবে সংশোধনের প্রস্তাব করছে।
আত্মত্যাগে মোড়া হযরত আলীর প্রতিবাদী মৃত্যুতে লাখো মানুষের ব্যথিত ও ক্ষুব্ধ হূদয়ের মতো সমাজের একজন করপোরেট নাগরিক হিসেবে এমটিবির হূদয়ও গভীরভাবে মর্মাহত হয়। এমটিবির পরিচালনা পর্ষদ এবং ব্যাংকের সব কর্মকর্তা ও কর্মচারীর পক্ষ থেকে ১৫ এপ্রিল হযরতের পরিবারের হাতে খুবই সামান্য কিছু অর্থ (দুই লাখ টাকা মাত্র), একটি স্মারক ও সম্মাননাপত্র তুলে দেওয়া হয়। সঙ্গে সঙ্গে হযরতের দুই শিশুসন্তানের লেখাপড়া যাতে কোনোভাবেই বন্ধ হয়ে না যায়, সে জন্য এমটিবির পক্ষ থেকে যাবতীয় দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়।
হযরত আলীর বীরোচিত অকাল আত্মবলিদানে তাঁর পরিবারে যে অপূরণীয় ক্ষতি সাধিত হয়েছে, তা কোনোক্রমেই প্রতিদান করা সম্ভব নয়। তবু আমাদের ক্ষুদ্র প্রয়াস যদি সরকারি-বেসরকারি, প্রাতিষ্ঠানিক বা ব্যক্তিক প্রচেষ্টাকে হযরতের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে সহমর্মিতা প্রদর্শন করতে উৎসাহিত করে, তবেই সমাজের প্রতিবাদী কণ্ঠস্বরগুলো উজ্জীবিত হবে। আর অন্যায়কে রুখতে নতুন করে আর কোনো আত্মবলিদানের প্রয়োজন হবে না।
মো. সামি-আল হাফিজ
চিফ কমিউনিকেশনস অফিসার
মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেড, ঢাকা।

কৃষকদের দুর্দিন

কৃষকদের দুর্দিন
২০০৯ সালের কৃষিশুমারি অনুযায়ী দেশে কৃষক পরিবারের সংখ্যা এক কোটি ৮০ লাখ। এদের মধ্যে এক কোটি ২০ লাখ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষি। এই কৃষক পরিবারগুলোর সদস্য ছয় কোটির বেশি।
যে কৃষককুল দেশের অর্থনৈতিক উন্নতির হাতিয়ার, তাঁদের জীবন আজ হতাশাগ্রস্ত। এর প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির সঙ্গে কৃষকদের উৎপাদিত ফসলের মূল্যের সামঞ্জস্য না থাকা। গত মৌসুমে ডিজেলের দাম ছিল প্রতি লিটার ৪০ টাকা, এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬২ টাকা। ইউরিয়া সারের দাম ছিল প্রতি কেজি ১২ টাকা, এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৫ টাকা। বিদ্যুতের দামও গত মৌসুমের তুলনায় অনেক বেড়েছে। এসব কারণে এ মৌসুমে প্রতি কেজি বোরো ধানে ব্যয় বেড়েছে প্রায় দেড় টাকা করে। অন্যদিকে গত মৌসুমে ধানের দাম ছিল মণপ্রতি ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা, কিন্তু এখন ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা।
প্রতিবছর সরকারিভাবে কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান কেনার উদ্যোগ নিলেও পরিশেষে সেটি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হয় না। তাই দ্রব্যমূল্যের বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেশি দামে কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান কেনায় সক্রিয় উদ্যোগ নেওয়ার জন্য কৃষি মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
সুকদেব বিশ্বাস
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।

শরীরচর্চার পাঠ্যক্রম
শারীরিক শিক্ষাকে মাল্টিডিসিপ্লিনারি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এর মধ্যে শারীরিক শিক্ষার তত্ত্ব ও নীতি, শারীরিক শিক্ষার ইতিহাস, ক্রীড়াবিজ্ঞান, ক্রীড়া মনোবিজ্ঞান, খেলাধুলার আইনকানুন, স্বাস্থ্যবিদ্যা, প্রাথমিক চিকিৎসা ইত্যাদি বিষয় স্বল্প আকারে হলেও তত্ত্বীয় অংশে অন্তর্ভুক্ত থাকে। ইনডোর ও আউটডোর খেলাগুলো এই শিক্ষার ব্যবহারিক অংশ। একটি জাতির তরুণ ও যুবসমাজের মধ্যে শৃঙ্খলাবোধ, নিয়মানুবর্তিতা ও নেতৃত্ব বিকাশে খেলাধুলা তথা শারীরিক শিক্ষার বিরাট ভূমিকা রয়েছে।
কিন্তু এই বিষয়টি এখনো উচ্চমাধ্যমিক ও স্নাতক পর্যায়ে পাঠ্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। অথচ স্নাতক-বিপিএড (ব্যাচেলর অব ফিজিক্যাল এডুকেশন) যোগ্যতায় শরীরচর্চা শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে তাঁকে কর্মহীন করে রাখা হয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। প্রসঙ্গত, কলেজ পর্যায়ে শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়ার বিষয় চালু করলে নতুন করে শিক্ষকের পদ সৃষ্টি ও পদায়ন করার প্রয়োজন হবে না। শরীরচর্চা শিক্ষকই এ বিষয়টি পড়াতে পারবেন। শুধু শিক্ষকের পদটি আপগ্রেড করে শারীরিক শিক্ষার প্রভাষক করতে হবে। শরীরচর্চা শিক্ষকের পদটিকে ঘিরে দীর্ঘদিন অসমতা ও অসামঞ্জস্য বিদ্যমান। সাচিবিক বিদ্যা ও কম্পিউটার শিক্ষার প্রভাষক নিয়োগের ক্ষেত্রে কোর্স সার্টিফিকেটের সঙ্গে যেকোনো বিষয়ে মাস্টার্স থাকলে প্রভাষক হওয়া যায়। লাইব্রেরিয়ানদের সংশ্লিষ্ট বিষয় বা অন্য বিষয়ে মাস্টার্স থাকলে প্রভাষকের বেতন স্কেল পাওয়ার বিধান আছে। অথচ শরীরচর্চা শিক্ষকদের সংশ্লিষ্ট বা অন্য বিষয়ে মাস্টার্স ডিগ্রি থাকলেও প্রভাষকের মর্যাদা ও বেতন স্কেল পান না—স্কুলশিক্ষকের মর্যাদায় থাকেন।
উচ্চমাধ্যমিক ও স্নাতক পর্যায়ে শারীরিক শিক্ষার পাঠ্যক্রম চালু ও যোগ্যতা অনুযায়ী শরীরচর্চা শিক্ষকদের প্রভাষকের মর্যাদা দেওয়ার জন্য মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী মহোদয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
চঞ্চল কুমার কর্মকার
কুমারখালী কলেজ, কুমারখালী, কুষ্টিয়া।

http://www.prothom-alo.com/detail/date/2012-04-27/news/253346

লোডশেডিং

দেশে বড় সমস্যার মধ্যে অন্যতম হলো বিদ্যুৎ। সরকার চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারছে না। বিদ্যুৎ ছাড়া কলকারখানা, অফিস-আদালত, কৃষি সেচ সম্ভব নয়। বর্তমানে বিদ্যুতের অভাবে অনেক শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ব্যাঘাত ঘটছে কৃষিকাজের। বাসাবাড়িতে দিনে ৮-১০ ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। জনজীবনে নেমে এসেছে দুর্ভোগ। সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ বলে মানুষকে আশ্বস্ত করলেও বিদ্যুৎ উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি লক্ষ করা যাচ্ছে না। ডিজিটাল করার লক্ষ্যে সরকার কত আশা মানুষকে দেখাচ্ছে, কিন্তু বিদ্যুৎ ছাড়া তা হতাশায় রূপ নিয়েছে। আশা করি, কর্তৃপক্ষ চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সচেষ্ট হবে।
মো. ফারুকুল আলম
এমএ, চবি।

অসহায় বোধ করি

অসহায় বোধ করি
একসময় মানুষের মধ্যে একটা ভ্রান্ত ধারণা ছিল, কন্যাসন্তান জন্ম নিলে পরিবার ও জাতির ওপর অভিশাপ আসে। তাই তারা সদ্য ভূমিষ্ঠ কন্যাসন্তানকে জীবন্ত কবর দিত। কী অমানবিক!
কিন্তু আমরা এই আধুনিক যুগে বাস করে তার চেয়ে অনেক রোমহর্ষক ঘটনা ঘটাচ্ছি, তাতে কারও তেমন বিকার দেখছি না। একটা ঘটনা ঘটার পর কিছুদিন না যেতেই আরও বেশি রোমহর্ষক ও নিকৃষ্ট আরেকটি ঘটনা ঘটছে। ফলে আমরা পেছনের ঘটনাটি ভুলে যাচ্ছি। মানুষের মস্তিষ্কেরও নির্দিষ্ট ধারণক্ষমতা আছে।
সম্প্রতি বগুড়ার কাহালু উপজেলায় ঘটে যাওয়া স্কুলছাত্র নাইমুল ইসলামকে অপহরণের পর হত্যা, তারপর তার লাশ ইটভাটায় পুড়িয়ে পুরো আলামত নষ্ট করার যে প্রক্রিয়া, তা সেই অন্ধকার যুগের ঘটনাকেও হার মানিয়ে দেয়। কারণ, নাইমুলের ভাগ্যে কবরও জোটেনি। কতটা বর্বর হলে হত্যার পর লাশ পোড়ানোর জন্য ইটভাটা বেছে নেওয়া হয়! যশোরের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সুমন ব্যানার্জিকে অপহরণের পর শ্বাসরোধে যেভাবে হত্যা করা হলো, তা কল্পনাতীত। এই হত্যাকাণ্ড কারা ঘটিয়েছে?
আমরা যখন শুনি, অপহরণ কিংবা গুমের ঘটনাগুলো প্রশাসন জানে, প্রশাসন চাইলে এসব জঘন্য অপরাধ রোধ করতে পারে, তখন আমাদের কিছু বলার থাকে না। আমরা বড়ই অসহায় বোধ করি।
ইউনুস কানন
চকবাজার, চট্টগ্রাম।

দুই দলের দুই ইস্যু

দুই দলের দুই ইস্যু
সরকারি দলের ইস্যু হচ্ছে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা। অন্যদিকে বিরোধী দলের ইস্যু নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহাল করা। প্রতিদিন এই দুটি বিষয় শুনতে শুনতে মানুষ অতিষ্ঠ। তাই সরকারি দলের উচিত, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের কথা না বলে বিচার নিশ্চিত করা। নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা চালু করে বিরোধী দলকে আন্দোলন থেকে বিরত রাখা। সরকার যুদ্ধাপরাধীদের আটক করে তাদের বিচার নিশ্চিত করতে না পারলে কঠিন প্রশ্নের সম্মুখীন হবে জাতির সামনে। তাই সরকার যুদ্ধাপরাধের কথা মুখে না বলে কাজে প্রমাণ করলে মানুষ বেশি খুশি হবে। বিচারকাজে যেন কোনো প্রতিহিংসা কাজ না করে, কাউকে যেন হেয়প্রতিপন্ন করা না হয়। যাদের দোষী সাব্যস্ত করা হবে, তাদের বিচার নিশ্চিত করা সরকারের চ্যালেঞ্জ। তাই সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে গণমানুষের দাবি, যুদ্ধাপরাধীর বিচার ও জাতীয় নির্বাচন যাতে নিরপেক্ষ হয়, সেদিকে সরকার সচেষ্ট হবে।
মো. ফারুকুল আলম, এমএ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

শিক্ষক নিয়োগ
সারা দেশে রেজি. বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মেধামান উল্লেখ করে ৮ এপ্রিল চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশিত হয়। ওই নিয়োগে যথার্থ মেধামান মূল্যায়িত হচ্ছে না। যেমন, কোনো একটি উপজেলায় বা ইউনিয়নে মোট ২৫টি পদ শূন্য আছে। ওই শূন্যপদের বিপরীতে ১ থেকে ২৫ পর্যন্ত মেধামান সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাবেন, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু বাস্তবে মেধামান প্রথম স্থান অধিকার করেও সেই পুরুষ প্রার্থী নিয়োগ পাচ্ছেন না। ২৫টি পদের মধ্যে নারী ৬০% ও পুরুষ ৪০% নিয়োগদান করলেও ৮-১০ জন পুরুষ শিক্ষক হওয়ার কথা। তা হলে ছেলেরা বেকারত্বের অভিশাপ থেকে অনেকটা মুক্তি পাবে।
ওই নিয়োগে স্কুলের ওপর অনুপাত করে নিয়োগদান করলে ১০০% নারী শিক্ষক নিয়োগ পাবেন। কেননা, আগে পুরুষের সংখ্যা বেশি ছিল। রেজি. বেসরকারি প্রা. বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পদে ওই নিয়োগেই যেন মেধামান ও নারী-পুরুষ অনুপাত বজায় থাকে, সে জন্য শিক্ষামন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
আকতার, নওগাঁ সদর।

রোগীদের বিড়ম্বনা
দেশের ডায়াবেটিক রোগীদের চিকিৎসা গ্রহণের একমাত্র বিশেষায়িত হাসপাতাল হচ্ছে বারডেম। এ হাসপাতালে সেবা নিতে আসা রোগীদের অধিকাংশই বৃদ্ধ এবং ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত। কিন্তু সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে তাঁদের নানা ধরনের বিড়ম্বনার মুখে পড়তে হয়। বিশেষ করে, বিভিন্ন ওষুধ ক্রয় বা রোগনির্ণয়ের ফি বাবদ ‘ক্যাশ কাউন্টারে’ টাকা জমাদানের জন্য রোগীদের দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। প্রতিদিন হাজার হাজার রোগীকে সেবা প্রদানের জন্য মাত্র দুটি কাউন্টার খোলা রাখা হয়। ফলে বৃদ্ধ রোগীদের বিড়ম্বনার সীমা থাকে না। তাই ‘কাউন্টারের’ সংখ্যা বৃদ্ধির মাধ্যমে এ সমস্যা দূর করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
মো. কামরুল হাসান
কবি নজরুল সরকারি কলেজ, ঢাকা।

http://www.prothom-alo.com/detail/date/2012-04-29/news/253790

Sunday, April 29, 2012

কৃষক ও ধানের দাম

কৃষক ও ধানের দাম
হাওরপাড়ে চলছে ধান কাটার উৎসব। আমার বাবা একজন ক্ষুদ্র কৃষক। আমাদের নিজস্ব কৃষিজমি থাকার পরও বীজ কেনা, জমি চাষ, পানি সেচ, সার দেওয়া, ধানের চারা রোপণ, আগাছা পরিষ্কার, ধান কাটা, ধান মাড়াই ও বাড়িতে আনা প্রভৃতি অত্যাবশ্যকীয় কাজে এক কিয়ারে (৩০ শতাংশ) খরচ হয়েছে প্রায় ছয় হাজার টাকা। যাঁদের নিজস্ব জমি নেই, তাঁরা প্রতি কিয়ার জমি কমবেশি তিন হাজার টাকা দিয়ে ইজারা নেন। অর্থাৎ তাঁদের প্রতি কিয়ারে মোট খরচ হয় প্রায় নয় হাজার টাকার মতো। কৃষক ছয় মাস (অগ্রহায়ণ-বৈশাখ) ঘাম ঝরানো পরিশ্রম করে। এই বছর প্রতি কিয়ার জমিতে সর্বোচ্চ ১৪-১৫ মণ ধান হয়েছে। এই চিত্র পুরো হাওর এলাকার। বর্তমানে প্রতি মণ ধানের প্রকৃত দাম ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে। অর্থাৎ ধানের বর্তমান দামে যাঁরা জমি ইজারা নিয়ে ধান চাষ করেছেন, তাঁরা পুরোপুরি লোকসানের সম্মুখীন। ধান বিক্রি করেই কৃষকদের পরিবার চালাতে হয়। এ সুযোগে ধানের আড়তদার, চালের ব্যবসায়ী, একশ্রেণীর মহাজন স্বল্পমূল্যে ধান ক্রয় করছেন। এতে কৃষকের পরিশ্রমের লাভের অংশ তাদের ঘরেই যাচ্ছে। এ অবস্থায় কৃষক যাতে তার ফসলের উপযুক্ত মূল্য পায়, সেদিকে নজর দেওয়া সংশ্লিষ্ট সবার উচিত নয় কি?
সুমন চক্রবর্তী
শাবিপ্রবি, সিলেট।

টেক্সটাইল গবেষণা
বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল স্তম্ভ পোশাকশিল্প। প্রতিবছর প্রায় ৭৫-৮০ শতাংশ বৈদেশিক মুদ্রা আয় হয় এই খাত থেকে। মুক্ত অর্থনৈতিক বাণিজ্যের এই বিশ্বে আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশকে টিকে থাকতে হলে এই খাতের উন্নয়নের কোনো বিকল্প নেই। দেশে বর্তমানে কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট থাকলেও নেই কোনো টেক্সটাইল গবেষণা ইনস্টিটিউট। ফলে প্রতিবছর অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রার সিংহভাগই চলে যাচ্ছে দেশে কার্যরত বিদেশি গবেষকদের পেছনে। আজ যদি টেক্সটাইল রিসার্চ ইনস্টিটিউট থাকত, তাহলে যেমন অর্থনেতিক অপচয় রোধ হতো, তেমনি অসংখ্য মেধা কাজে লাগিয়ে পরিবেশবান্ধব উৎপাদনব্যবস্থা গড়ে তোলা সক্ষম হতো। উল্লেখ্য, দেশে একটি সরকারি টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় থাকলেও সেখানে নেই গবেষণার জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা। ফলে ক্রমবিকাশমান টেক্সটাইল-শিল্প বহির্বিশ্বে তীব্র প্রতিযোগিতার শিকার হচ্ছে। আর এই প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য তথা দেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার জন্য একটি স্বতন্ত্র টেক্সটাইল রিসার্চ ইনস্টিটিউট অতীব প্রয়োজন। তাই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতি আবেদন, দেশে একটি টেক্সটাইল রিসার্চ ইনস্টিটিউট স্থাপন করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হোক।
মো. মশিউর রহমান
বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়।

http://www.prothom-alo.com/detail/date/2012-04-30/news/254066

Tuesday, April 24, 2012

উল্টো রাজার দেশে

উল্টো রাজার দেশে
নচিকেতার একটি বিখ্যাত গানে বলা হয়েছে, এক রাজার যেভাবে দেশ চালানো দরকার সে সেভাবে না চালিয়ে অন্যভাবে চালায়। প্রত্যেক সরকারের আমলে বাংলাদেশে এটা নিত্য ঘটনা। বর্তমান সময়েও এর একটুও ছন্দপতন হচ্ছে না। আজকে দেশের মানুষ তার শোবার ঘরেও নিরাপদ নয়। হত্যা, গুম, অপহরণ নিত্য ঘটনায় পরিণত হয়েছে। এই তো সেদিন বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য নিখোঁজ হলেন। তাঁর কোনো খবর আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখনো বের করতে পারছে না। এর আগে সাংবাদিক দম্পতি হত্যার রহস্য এখনো অজানা। আরো আগে যেসব গুম, হত্যা, অপহরণ হয়েছে তার অধিকাংশের রহস্যই এখনো অজানা। এসব কাজে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তেমন কোনো ভূমিকা না থাকলেও সরকার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তার দলীয় ক্যাডারের মতো ব্যবহার করে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অভিযোগ পাওয়া যায়। আগে দেখা যেত, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যবহার হতো রাজনৈতিক স্বার্থে। কিন্তু বর্তমান সময়ে তাদের বিরুদ্ধে মানুষের বাড়ি দখলে সাহায্য করার অভিযোগ পাওয়া যায়। আর বেশি দিন নয়, যেদিন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া যাবে তারা মানুষের বাগান বা অন্য কিছু দখলে সাহায্য করছে। এভাবে আর কত দিন উল্টো রাজার দেশের মতো উল্টো পথে চলবে আমাদের সোনার বাংলা?
আহাদ আলম শিহাব
কৃষি অনুষদ, বাকৃবি, ময়মনসিংহ।

চাকরির বয়স

চাকরির বয়স
সরকারি চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার সময়সীমা সম্প্রতি দুই বছর বাড়িয়ে ৫৯ করা হয়েছে। আমাদের দেশের মানুষের গড় আয়ু বেড়েছে। তাই এ সিদ্ধান্তের ফলে মানুষ তাদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দেশসেবার সুযোগ বেশি পাচ্ছে। সরকারের এই উদ্যোগ একদিকে যেমন প্রশংসনীয়, তেমনি উদ্বেগেরও কারণ। কেননা, এতে পদ শূন্য হওয়ার মাত্রা কমে যাবে, বেড়ে যাবে বেকারত্ব। ফলে তরুণ সমাজ জড়িয়ে যাবে অপরাধমূলক কাজে।
আমাদের দেশের উচ্চশিক্ষিতের এক বিরাট অংশ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করে থাকে।
সেশনজটের কারণে তাদের শিক্ষাজীবন দীর্ঘায়িত হয়। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ও সেশনজটমুক্ত নয়। চাকরির নিয়োগ পরীক্ষার প্রতিযোগিতামূলক যুদ্ধে অবতীর্ণ হওয়ার সময় সময়সীমা ৩০ বছর, আবার অনেকের এই বয়সটা শিক্ষাজীবনেই ব্যয় হয়। আবার এসব নিয়োগ-প্রক্রিয়াও দীর্ঘমেয়াদি। বিভিন্ন কারণে যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরি পেতে অনেকেই ব্যর্থ হন। অথচ দু-এক বছর বেশি সময় থাকলে হয়তো বা তাঁদের এ ধরনের ব্যর্থতার সম্মুখীন হতে হতো না। তাই চাকরিতে আবেদনের সময়সীমা ৩২ বছর করা হলে এ সমস্যা অনেকটা দূর হতে পারে।
ফারজানা আক্তার
অনার্স বাংলা (চতুর্থ বর্ষ)
সরকারি তিতুমীর কলেজ, ঢাকা।

Sunday, April 22, 2012

ইউনিয়ন পরিষদ সচিবদের চাকরি দ্বিতীয় শ্রেণীতে উন্নীত করুন

ইউনিয়ন পরিষদ সচিবদের চাকরি দ্বিতীয় শ্রেণীতে উন্নীত করুন
ইউনিয়ন পরিষদ হচ্ছে স্থানীয় সরকারের তৃণমূল পর্যায়ের প্রশাসন ও প্রাচীন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান। এ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানটি থেকে গ্রামীণ জনসাধারণ সরাসরি সেবা পেয়ে থাকে। ইউনিয়ন পরিষদের যাবতীয় কাজ- রিপোর্ট রিটার্ন থেকে শুরু করে অন্যান্য সব কাজই পরিষদের নির্দেশনা মোতাবেক জেলা প্রশাসক কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয়ের নূ্যনতম দ্বিতীয় শ্রেণীর স্নাতক ডিগ্রিধারী ইউপি সচিবদের করতে হয়। এ ছাড়া স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন ২০০৯-এর ধারা-৪৬(১) মোতাবেক পরিষদের সব আয় ও ব্যয় ইউপি চেয়ারম্যান ও সচিবের যৌথ স্বাক্ষরে পরিচালনা ও ধারা-৫৪(৪) মোতাবেক পরিষদের তহবিল চেয়ারম্যান ও সচিবের যৌথ স্বাক্ষরে পরিচালনার বিধান রাখা হয়েছে। ইউপি সচিবরা টিআর, কাবিখা, ভিজিডি, ভিজিএফসহ প্রায় সব কমিটিতে সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করে থাকেন। এ ছাড়া ইউনিয়ন উন্নয়ন সমন্বয় সভার সদস্যসচিব হিসেবেও সচিবরা দায়িত্ব পালন করেন। এখানে উল্লেখ্য, ইউনিয়ন উন্নয়ন সমন্বয় সভায়, উপ-সহকারী প্রকৌশলী, সহকারী শিক্ষা অফিসার, উপসহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা, প্রাণিসম্পদ সহকারীসহ (কৃত্রিম প্রজনন) সরকারের প্রায় সব দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সদস্য হিসেবে থাকেন। একমাত্র সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা ছাড়া সবার নিয়োগের শিক্ষাগত যোগ্যতা ইউপি সচিবের নিচে হলেও সবাই দ্বিতীয় শ্রেণীর কর্মকর্তা হিসেবে উন্নীত হয়ে দায়িত্ব পালন করছেন। তাই ইউপি সচিব পদটি দ্বিতীয় শ্রেণীতে উন্নীত করে ইউপি সচিবদের পরিষদের সব উন্নয়নমূলক প্রকল্প তদারক করার ক্ষমতা এবং প্রশাসনিক ক্ষমতা প্রদান করলে পরিষদের সব কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা নিশ্চিতসহ সরকারি অনেক অর্থের অপচয় রোধ সম্ভব।
পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের স্থানীয় সরকারের এই স্তরকে পঞ্চায়েত বলা হয়, সেখানে সচিব একজন সরকারি কর্মকর্তা এবং স্থানীয় কৃষি, মৎস্য, স্বাস্থ্য ও অন্যান্য বিভাগের মাঠপর্যায়ের কর্মচারীদের তদারক করেন। কিন্তু বাংলাদেশের ইউনিয়ন পর্যায়ের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় ইউপি সচিবরা গ্রাম পুলিশদের অফিসিয়াল কোনো কাজ করার কোনো আদেশ করতে পারেন না, যা সত্যই দুঃখজনক। স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন ২০০৯-এ সাতটি মন্ত্রণালয়ের মাঠপর্যায়ের নির্দিষ্ট কিছু কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে ইউনিয়ন পরিষদে হস্তান্তরের জন্য বলা হয়েছে। আশা করি সরকার স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে দ্রুত মাঠপর্যায়ের এসব কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে ইউনিয়ন পরিষদে হস্তান্তর করবেন। ইউপি সচিবদের চাকরি দ্বিতীয় শ্রেণীর কর্মকর্তা হিসেবে উন্নীতকরণ ও প্রশাসনিক ক্ষমতা প্রদানে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
এ কে এম হাসান নুর জামান
ইউপি সচিব
৩ নম্বর ফাজিলপুর ইউনিয়ন পরিষদ
দিনাজপুর সদর, দিনাজপুর।

নরসুন্দা কি অস্তিত্ব হারিয়ে ফেলবে

নরসুন্দা কি অস্তিত্ব হারিয়ে ফেলবে
কিশোরগঞ্জ এক সমৃদ্ধ জনপদের নাম। আর এ সমৃদ্ধির পেছনে রয়েছে জেলার কৃতী ও স্বনামধন্য ব্যক্তিদের পদচারণ, ঐতিহাসিক স্থাপনা, হাওর-বাঁওড় আর নদ-নদীর সংমিশ্রণে প্রাকৃতিক লীলাময় সুন্দর ও মনোরম পরিবেশ। আজ সেই সুন্দর পরিবেশও যেন কিছু আত্মকেন্দ্রিক সুবিধাভোগী অবৈধ প্রভাবশালীদের কারণে বিপন্ন হতে চলেছে। একসময় শহরের কোল ঘেঁষে বয়ে যাওয়া প্রমত্তা নরসুন্দা নদীর ঢেউ এই অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকার অংশ ছিল। কত মানুষ নরসুন্দার বুকে নৌকা চালিয়ে সুখের সংসার চালাত। নৌকাবাইচ আর মাঝিমাল্লার মন মাতানো উদাসী গান সব সময় মাতিয়ে রেখেছে নদীকূলের মানুষকে। আজ সবই যেন স্মৃতি। আর এখন নরসুন্দার বুকজুড়ে শোভা পাচ্ছে বড় বড় আগাছা, ময়লার স্তূপ, আর অবৈধ দখলদারদের তৈরি বড় বড় নান্দনিক অট্টালিকা। নরসুন্দার নীরব ক্রন্দন যেন আর কেউ শুনতে পায় না। দিন দিন প্রভাবশালী অবৈধ দখলদারদের অর্থের উত্তাপে নরসুন্দার বুকের জল শুকিয়ে সেখানে ভরাট করা হচ্ছে মাটি। আর অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়, নরসুন্দার এই ক্রন্দন যেন শুধু নরসুন্দারই। বর্তমানে শহরের অনেক জায়গায় নরসুন্দা তার স্মৃতিচিহ্নটুকুও ইতিমধ্যে হারিয়ে ফেলেছে।
স্থানীয় প্রশাসন ও যথাযথ কর্তৃপক্ষ কি নরসুন্দাকে বাঁচাতে দল-মত নির্বিশেষে দখলদারদের অবৈধ দখলের উৎসব বন্ধ করে তার অতীত স্মৃতিটুকু ফিরিয়ে আনতে পারে না?
প্রশাসনও অবৈধ দখলদারদের অর্থ আর প্রভাবের কাছে দাসত্ব মেনে নিয়েছে। কিন্তু আমরা যারা সাধারণ মানুষ, যারা এ শহরের নির্মল পরিবেশে একটু কোলাহলমুক্ত বিনোদন প্রত্যাশী, যারা এখনো নরসুন্দার বুকে নিজের শরীরটাকে ভিজিয়ে একটু শীতল হতে চাই, তাদের এ প্রত্যাশা কে পূরণ করবে?

সুমিত বণিক
উন্নয়নকর্মী, কিশোরগঞ্জ।

সুস্থ শিক্ষাঙ্গন

সুস্থ শিক্ষাঙ্গন
জ্ঞান অর্জনের জন্য অভিভাবকেরা তাঁদের সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠান। আমরা একই ধরনের সীমাবদ্ধ পড়া পড়তে যেমন বিরক্ত হই, তেমনি তাঁদের—‘এখন এখানে পড়ো, সেখানে গিয়ে পড়ো, এর কাছে পড়ো, তার কাছে পড়ো, তার মতো পড়ো’ শুনতেও বিরক্ত হই। তাঁদের বুঝিয়ে বললে আমরা ছোট মুখে বড় বক্তৃতা দিয়ে ফেলি। প্রতিবাদ করলে ‘নষ্ট সন্তান’ হয়ে যাই। ক্লাসে প্রথম হয়েও কোনো উৎসাহ পাই না। এত বিরক্তি নিয়েও জোর করে আমরা আমাদের পাঠ্যবইয়ে ‘সীমাবদ্ধ’ পড়াটি পড়তে চাই।
আমরা শ্রদ্ধেয় অভিভাবকদের আদরের সন্তান ও গর্বের বস্তু হতে চাই। সীমাবদ্ধ জ্ঞানে যেমন জানার আগ্রহ পূরণ হয়, বিদ্যালয়গুলোতে তেমন ব্যবস্থাও গৃহীত হয় না। ‘লাইব্রেরি’ সিল লাগানো একচিলতে কক্ষটাও তাই এখন রান্নাঘর! বিদ্যালয়ের লাইব্রেরিই যদি না থাকে, কতটা বিদ্যা সেখানে অর্জন করা সম্ভব, তা সবাই বুঝতে পারে। কর্তৃপক্ষ পরীক্ষার নির্ধারিত তারিখ তো দিয়ে দেয়। পরীক্ষাটা জ্ঞান যাচাইয়ের জন্য, নাকি উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য—এর খোঁজ কেউ রাখে না। এখন ৬০ শতাংশ সৃজনশীলতার যাচাই হলেও (যদিও অধিকাংশই গাইড বইয়ের অনুসারে প্রশ্ন করা হয়) ৪০ শতাংশ নম্বর মুখস্থভিত্তিক নৈর্ব্যক্তিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। নানা রকম সমস্যার মধ্যে আরও এক সমস্যা শিক্ষকদের মধ্যেও বিরাজমান। আমাদের শ্রদ্ধেয় শিক্ষকেরা বলেন, আমরা যদি তাঁদের কাছে জ্ঞান অর্জনের উদ্দেশ্যে না যাই, তাহলে পরীক্ষায় ফেল সুনিশ্চিত। প্রকৃতপক্ষে তাঁরা তাঁদের ‘শিষ্যদের’ কাছে প্রশ্নপত্রটি ফাঁস করে দেন। এভাবে তাঁদের অত্যন্ত কঠিন ও বইয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ উচ্চপর্যায়ের প্রশ্নপত্রে অধিকাংশ ছাত্রছাত্রী পাস করে না এবং ‘বিজ্ঞান’ বিভাগ থেকে তাঁদের ‘মানবিক’ বা ‘ব্যবসায় শিক্ষা’ বিভাগে পাঠানোর আশঙ্কা থাকে। একটি ছাত্রের ভবিষ্যৎ নষ্ট করার এরূপ ষড়যন্ত্র এবং শিক্ষকের এরূপ চরিত্র কে সংশোধন করবে?
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক
নবম শ্রেণীর এক ছাত্রী।

পানির সংকট
প্রতিবছরের মতো এবারও গ্রীষ্মকাল শুরু হওয়ার আগে থেকেই নিরাপদ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এটি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। মানুষ নিরাপদ পানির অভাবে দূষিত পানি পান করছে। এ ছাড়া দূষিত পানি দিয়ে গোসল, রান্নার কাজ করার ফলে মানুষ চর্মরোগসহ নানা ক্ষতিকারক রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। বিশুদ্ধ পানির অভাবে শিশুরা ডায়রিয়া, কলেরা, আমাশয় রোগে বেশি ভুগছে। যেকোনো সময় এ পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। প্রতিনিয়ত নিরাপদ পানির অভাবে মানুষের হাহাকার বাড়ছে। অথচ প্রতিবছর গ্রীষ্মকালের শুরুতেই ওয়াসা কর্তৃপক্ষ গ্রাহকদের জন্য নিরাপদ পানি সরবরাহের উদ্যোগ নিলে মানুষকে এই দুর্ভোগে পড়তে হয় না। কাজেই মানুষের মধ্যে পুঞ্জীভূত ক্ষোভ বিস্ফোরিত হওয়ার আগেই পর্যাপ্ত পরিমাণ নিরাপদ পানি গ্রাহকদের মধ্যে সরবরাহের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
উজ্জ্বল দাস পোদ্দার
ধানমন্ডি আ/এ, ঢাকা।

Saturday, April 21, 2012

কপোতাক্ষ নদ

কপোতাক্ষ নদ
নদীমাতৃক বাংলাদেশের নদ-নদীগুলোর অবস্থা খুব করুণ। নদ-নদীগুলো তাদের চরিত্রই হারিয়ে ফেলেছে। ঐতিহ্যবাহী কপোতাক্ষ নদসহ দেশের অসংখ্য নদ-নদী আজ দুর্বল হয়ে পড়েছে। গ্রীষ্মকালে কপোতাক্ষ নদের বুকে স্থানে স্থানে সম্পূর্ণ শুকিয়ে পড়ে। পানিপ্রবাহের গতি কমে যাওয়ায় নদের তলদেশে ধীরে ধীরে পলিমাটি জমতে থাকে। বেশ কয়েক বছর এভাবে একই স্থানে পলিমাটি জমার পর ওই স্থানে চর জেগে ওঠে এবং নদের নাব্যতা হ্রাস পায়। নদের বক্ষে পলিমাটি জমে ভরাট হওয়ার প্রাকৃতিক কারণের পাশাপাশি মানুষের সৃষ্ট কারণও কম দায়ী নয়। মৃতপ্রায় কপোতাক্ষ নদের পারে এখন গড়ে উঠেছে অসংখ্য অবৈধ স্থাপনা।
সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তি ও অসাধু রাজনৈতিক নেতারা কপোতাক্ষ নদের পারের জমি দখল করে বেড়িবাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করছে। ছোট ছোট খাল এখন সুযোগসন্ধানী ব্যক্তিদের ঘেরে পরিণত হয়েছে। তারা অবৈধভাবে ঘরবাড়ি ও দোকানপাট তৈরি করে অতিরিক্ত সুবিধা ভোগ করে। অনেকে অবৈধভাবে নদের বুকে আড়াআড়ি বাঁধ দিয়ে মাছ শিকার করে, অথচ নদ-নদীতে বেড়া দিয়ে মাছ শিকার মৎস্য আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। অবৈধ স্থাপনার কারণে নদের স্বাভাবিক গতিতে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। অন্যদিকে, বর্ষাকালে নদের পানি বহনের ক্ষমতা হারানোর ফলে পানি দ্রুত নিঃসারিত না হওয়ায় বন্যার সৃষ্টি করছে। এ নদের সঙ্গে আমাদের জীবন, জীববৈচিত্র্য, কৃষি ও অর্থনীতির নিবিড় সম্পর্ক। তাই মনে রাখা দরকার, ‘কপোতাক্ষ নদ’ অবৈধ দখলমুক্ত করতে সরকারের পাশাপাশি সবাইকে নিজ নিজ উদ্যোগ নিতে হবে। সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।


মিল্টন দাশ
সারসা, পাটকেলঘাট, সাতক্ষীরা।

খাবারে বিষ

খাবারে বিষ

বর্তমানে দেশে আম-জাম-কলা-কাঁঠাল, খেজুর, আনারস, আঙুর, মুড়ি, ডাল, পাটালি গুড়, দুধ, ঘি, তেল, মাছ-মাংস, গো-খাদ্য—সবকিছুতেই বিষাক্ত রাসায়নিক দ্রব্য মিশিয়ে খাওয়ানোর ফলে মানুষ ও পশু বিভিন্ন মরণব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে। আম মোটাতাজাকরণ, পাকাতে এবং পচন রোধে ফরমালিন ব্যবহার করা হচ্ছে। এই ফরমালিন কিডনি, লিভার ক্ষতি করাসহ মারাত্মক রোগের সৃষ্টি করে। এ ছাড়া ক্যানসারের মতো মরণব্যাধিতেও আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ।
সূত্রে জানা যায়, আম বড় হলে রং সুন্দর করতে ব্যবহার করা হয় সেভেন পাউডার। আম গাছ থেকে পাড়ার পর তা পরিষ্কার করতে ব্যবহার করা হয় নয়ন পাউডার। আম বেশিদিন সতেজ রাখতে ফরমালিন স্প্রে করা হয়। অনেক সময় গাছেই আমে ফরমালিন স্প্রেসহ ক্যালসিয়াম, ক্যালসিয়াম কার্বাইড এসব বিষাক্ত কেমিক্যাল স্প্রে করার ফলে আমে হলদে রং আসে এবং দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যায়। বিষাক্ত খাদ্যের প্রভাবে নানা ধরনের দুরারোগ্য জটিল রোগের প্রাদুর্ভাব আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে রোগী এবং রোগীর আত্মীয়স্বজন চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করতে গিয়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছে। ভেজাল খাদ্যের কারণে সৃষ্ট এই সামাজিক ব্যাধি প্রতিকারে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।
উৎপাদিত প্যাকেটজাত করা প্রক্রিয়াজাত তরল ও কঠিন খাদ্যের অধিকাংশ খাদ্যই বিষ ও ভেজালে ভরপুর। বাজারে প্রায় সব ফলমূলে ক্ষতিকর রাসায়নিক দ্রব্য মিশ্রিত। ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম উপায়ে ফল পাকাতে এবং বেশিদিন সংরক্ষণ করতে কপার সালফেট, ক্যালসিয়াম, ক্যালসিয়াম কার্বাইড, পটাশের লিকুইট সলিউশন, কার্বনের ধোঁয়াসহ বিভিন্ন ধরনের কীটনাশক ব্যবহার করছেন। বিষাক্ত ক্যালসিয়াম কার্বাইড ও ফরমালিন মিশ্রিত খাদ্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এতে লিভার ও কিডনি নষ্ট হয় এবং ক্যানসারসহ বিভিন্ন মরণব্যাধি দেখা যায়। এসব বিষাক্ত দ্রব্য খেলে ২০২০ সালনাগাদ দেশে মরণব্যাধি মহামারি আকারে দেখা দেবে। বর্তমানে এ সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে বলে এক জরিপে জানা যায়। এ ব্যাপারে লিভার বিশেষজ্ঞ মোমিন খান, কিডনি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও কিডনি বিশেষজ্ঞ হারুন-অর রশিদ, ক্যানসার বিশেষজ্ঞ আকরাম হোসাইন, শিশু বিশেষজ্ঞ ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিশু নেফ্রোলোজি বিভাগের চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন এবং ঢাকা শিশু হাসপাতালের চেয়ারম্যান মঞ্জুর হোসেন বলেন, দেশে মরণব্যাধি আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধির জন্য ফলমূল ও খাদ্যদ্রব্যে বিষাক্ত কেমিক্যাল মিশিয়ে বাজারজাত করাই দায়ী।
শুধু তাই নয়, দেশে আশঙ্কাজনক হারে প্রতিবন্ধী, বোবা, বিকলাঙ্গ শিশুর জন্ম হচ্ছে। এর কারণ হিসেবে তাঁরা বলেন, গর্ভাবস্থায় মা যে ফল, শাকসবজি, মাছসহ অন্যান্য খাবার খাচ্ছেন, ওই সব খাবারে অতিরিক্ত বিষাক্ত কেমিক্যাল মেশানো থাকে; সে কারণেই এ ধরনের শিশুর জন্ম হচ্ছে। সময় থাকতে এর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান তাঁরা। একজন সন্ত্রাসী একজনকে খুন করে একটি পরিবারকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। কিন্তু ফলমূল ও খাদ্যসামগ্রীতে বিষাক্ত কেমিক্যাল মিশিয়ে এরা জাতিকে একেবারে ধ্বংস করে দিচ্ছে। এরা পেশাদার খুনির
চেয়েও ভয়ংকর!
হাফিজুর রহমান
বনওয়ারীনগর, ফরিদপুর, পাবনা।

কোচিংনির্ভর শিক্ষা
বর্তমানে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার মান ঠিক কোন পর্যায়ে, এর সঠিক উত্তর আমরা কেউ দিতে পারব না। সর্বত্র এখন শিক্ষাব্যবস্থা কোচিং সেন্টারনির্ভর হয়ে পড়েছে। দেশের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ শহর ও মফস্বলে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে কোচিং সেন্টার। শিক্ষকেরা এখন শ্রেণীকক্ষে পাঠদানের চেয়ে কোচিং সেন্টারে পাঠদানে বেশি আগ্রহী। ভালো স্থানে ভর্তি বা ভালো ফল করার আশায় মা-বাবা তাঁদের সন্তানদের কোচিং সেন্টারে পাঠান। এতে অভিভাবকেরা একদিকে যেমন আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের মেধার বিকাশও তেমন ঘটছে না। আসলে বর্তমানে শিক্ষাব্যবস্থা অর্থনৈতিকভাবে নিছক এক ব্যবসায়ে পরিণত হয়েছে। শিক্ষকেরা যদি কোচিংয়ের কথা না ভেবে শ্রেণীকক্ষে মনোযোগের সঙ্গে পাঠদান করেন, তাহলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা উপকৃত হবেন। তা ছাড়া ছাত্রছাত্রীদের কোচিং সেন্টারকেন্দ্রিক শিক্ষার বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে হবে। সর্বোপরি সরকারকেও এ ব্যাপারে সহযোগিতা ও নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে।
জাহেদুর রহমান
পুরানা পল্টন, ঢাকা।

আলীর জন্য

ছিনতাইকারীদের হাতে হযরত আলীর মৃত্যু সাম্প্রতিক সময়ের একটি সাড়া জাগানো ঘটনা। তাঁর এই আত্মত্যাগ আমার মনে হয় দেশের সব বিবেকবান মানুষের মনকে সাড়া দিয়েছে।
মূল্যবোধের চরম অবক্ষয়ের এই কালে হযরত আলীর মতো মানুষের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে কমে যাচ্ছে। যদিও পৃথিবীকে বসবাসযোগ্য রাখতে হলে এদের প্রয়োজন অবশ্যই আছে।
হযরত আলী আমাদের সমাজের হয়তো মূল্যবান কেউকেটা ছিলেন না, কিন্তু মানবিকতার মাপকাঠিতে তিনি সমাজের তথাকথিত ‘মূল্যবানদের’ সবাইকে ছাড়িয়ে গেছেন।
আপাতদৃষ্টিতে ‘ছোট’ এসব মানুষের আত্মত্যাগ আমাদের আলোচনার বিষয়বস্তু হয় না। কারণ, আমাদের সমাজে এবং এই প্রিয় দেশে সততার চেয়ে ক্ষমতার মূল্য বেশি, ত্যাগের চেয়ে ভোগের, মেধার চেয়ে বাগাড়ম্বরের, সৃজনশীলতার চেয়ে আত্মপ্রচারের, সত্যের চেয়ে সুবিধাবাদের। দুই নারীকে রক্ষার জন্য এই নগণ্য মানুষটির ইট হাতে প্রতিহত করা ছাড়া আর কিই বা করার ছিল?
আমাদের দেশে সত্যিকারের নন্দিত হওয়ার যোগ্য লোকজন সব সময়ই অবহেলিত হন, অনেক সময় নিন্দিতও হন।
আমি মনে করি, হযরত আলীর এই আত্মদানের মূল্যায়ন হওয়া প্রয়োজন। সমাজ, দেশ ও রাষ্ট্র এ ব্যাপারে উদ্যোগ নিতে পারে। তাঁর ওপর নির্ভরশীল পরিবারটির জন্য কিছু করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।
এ ব্যাপারে প্রথম আলোয় প্রকাশিত সম্পাদকীয়টি আমার ভালো লেগেছে।
সবশেষে বলব, সবকিছু ভালোর সঙ্গে যে প্রথম আলো, তারও কিছু নিজস্ব উদ্যোগ এ ক্ষেত্রে হযরত আলীর কাছে আমাদের যে বিরাট ঋণ, তার কিছুমাত্র হলেও পরিশোধের সুযোগ দিতে পারে।
মো. সালেহউদ্দিন
মণিপুরিপাড়া, ঢাকা।

অর্ক
২০১২.০৪.২১ ০৪:০৪
আমাদের সমাজে এবং এই প্রিয় দেশে সততার চেয়ে ক্ষমতার মূল্য বেশি, ত্যাগের চেয়ে ভোগের, মেধার চেয়ে বাগাড়ম্বরের, সৃজনশীলতার চেয়ে আত্মপ্রচারের, সত্যের চেয়ে সুবিধাবাদের।

Riazul
Riazul
২০১২.০৪.২১ ০৫:৪৪
"নি:শেষে প্রাণ যে করিবে দান ক্ষয় নাই তার ক্ষয় নাই."......... হজরত আলি অন্যের বিপদে এগিয়ে এসেছিলেন, আমাদের উচিদ তার পারিবারকে সহযোগিতা করা. সুন্দর একটি চিঠি লিখার জন্য লেখককে অনেক ধন্যবাদ.

Mallik Intaqab Ahsan
Mallik Intaqab Ahsan
২০১২.০৪.২১ ১১:০৩
Please protmom alo take a initiative for Hazarat Ali.

পল্টন ময়দান বাঁচান

বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সর্বোপরি রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পল্টন ময়দান একটা উজ্জ্বল নক্ষত্র। অনেক রথী-মহারথী তাদের আগুনঝরা বক্তৃতার মাধ্যমে এই মাঠ কাঁপিয়ে গেছেন। আমাদের স্বাধীনতার পূর্ব সময় নতুন দেশের জন্ম ও পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক মিছিল-মিটিংয়ের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে এই মাঠ পরিচিত। আজ বিশাল জনসভা শব্দটি কানে বাজলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে বিশাল একটা খোলা মাঠ। কিন্তু দুঃখের বিষয়, আজ সেই ঐতিহ্য এখন সাবেক। এখন মাঠের চারদিকে বড় বড় বিল্ডিং উঠে মাঠটি সংকীর্ণ হয়ে গেছে। স্থান সংকুলানের জন্য বিভিন্ন মহল্লার খেলাপ্রেমীদের খেলা এখন আর তেমন চোখে পড়ে না।
তাই কর্তৃপক্ষের প্রতি বিশেষ অনুরোধ, পল্টন ময়দানকে দখলের হাত থেকে রক্ষা করুন।
মো. রফিক, ঢাকা।
EID MUBARAK to everybody