Showing posts with label poems. Show all posts
Showing posts with label poems. Show all posts

Wednesday, April 18, 2012

প্রশান্তির ঘুম by Cold Topu

রাতে বিছানা গুছিয়ে শোয়ার জন্য যখন শরীর এলিয়ে দেই, ঠিক ঘুমানোর আগ পর্যন্ত ঐ সময়টুকু আমার, শুধুই আমার!!! এখানে এসে থেমে যায় দিনের কঠিন সময়গুলো,পরাজিত হয় জীবনের রুঢ় বাস্তবতা। এইসময় আমার সামনে ভেসে উঠে এক স্বপ্নময় জগত,যেখানে আমি অনেকটা সুপারম্যান! এই সুপারম্যান তার সামনের জীবনের সব স্বপ্ন পুরন করতে থাকে একের পর এক। স্বপ্নের কেন্দ্রবিন্দু যদি পড়ালেখা হয় তবে সে একের পর এক সর্বোচ্চ ডিগ্রী গুলো নিতে থাকে,... তারপর একলাফে কোনো বড় প্রতিষ্ঠানের শীর্ষে কিংবা রাতারাতি কোনো অসাধারন concept দিয়ে একটা মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানী প্রতিষ্ঠা করে ফেলা!!! এখানে সবই সম্ভব!!! এই সুপারম্যানই আবার কখনো রুপান্তরিত হয় দুর্দান্ত কোন ক্রিকেটারে,প্রতি বলে বলে হাকায় ছক্কা,সময়ের পরিবর্তনে ক্রিকেটের জায়গা দখল করে নেয় ফুটবল,কিন্তু কমেনা সুপারম্যানের ক্ষমতা। ম্যানচেষ্টার ইউনাইটেডের লেজেন্ডারী লাল জার্সী পরে করতে থাকে একের পর এক গোল!!!!

এইরকম জেগে জেগে স্বপ্ন দেখার সময় হঠাৎ রুমে কেউ চলে আসে। বিশ্ববিজয়ের অভিযান থেমে যায়,অপেক্ষা করি তার প্রস্থানের,তারপর আবার শুরু হয় স্বপ্ন দেখা!!

এই স্বপ্নের রঙ কি শুধুই রঙ্গীন থাকে?? না, স্বপ্নের রঙ মাঝে মাঝে নীলও হয়!!! মাঝে মাঝে বাস্তব এবং কল্পিত প্রিয়জনের প্রতি অভিমান করি,প্রিয়জনেরা আমায় ভূল বুঝে, এই স্বপ্নের মাঝেও তাদের উপর আবেগময়,অধিকারমিশ্রিত রাগ করি,কেন তারা আমাকে ভূল বুঝে??? কল্পিত প্রিয়জন নিয়েই ভাবতে অনেকসময় বেশি ভাল লাগে, এই কল্পিত প্রিয়জন আমাকে ভূল বুঝে অনেক অনেক দূরে সরে যায়, চলে যায় ভুল মানুষের সাথে,ভুল কোনো শহরের অজানা পাথুরে গলিতে। আর এই আমি সব ভুলে আরো শক্ত হই, ইস্পাতসম প্রতিজ্ঞা নিয়ে সাফল্যের সিডি ভাঙী, অতঃপর এক ভুল সময়ে দেখা হয়ে যায় সেই মানুষটির সাথে,দেখি অতিচেনা মানুষটির সেই চিরচেনা হাসি আর নেই, তার পছন্দ করা ভূল মানুষটি আর একদম পছন্দের নয় এখন। নানা অপমান,অপবাদ,অপঘাত আর সে মানুষটির নোংরামী তাকে পুড়ে খাচ্ছে। চেহারায় ঝুলিয়ে রাখা তার শুকনো হাসিটি দিনদিন আরো মলিন হয়। সে আমাকে দূর থেকে দেখে নিয়মিত। আর আমি? আর আমি এখন প্রচন্ড শক্ত একজন মানুষ, জীবনের নির্মম বাস্তবতায় হারিয়ে গেছে সব আবেগ কিংবা তাকে দেখানো যে আমি আর তাকে একদমই মনে করি না,এমনকি একবার ঘুরে তাকানোরও প্রয়োজনবোধ করিনা!! মাঝে মাঝে পরিকল্পিতভাবে এখানেই স্বপ্নের ইতি টানি,মাঝে মাঝে ইতি টানার আগেই হারিয়ে যাই ঘুমের রাজ্যে।

তবে মাঝে মাঝে ইচ্ছা হয় এই স্বপ্নকে পরিনতি দিতে,এবারের স্বপ্নে সেই প্রিয়জন ভুল মানুষের সাথে সকল সম্পর্ক ছিন্ন করে এবং একলা চলার জীবন শুরু করে। এই স্বপ্নে সে অনেক কঠিন,আবেগ তাকে স্পর্শ করেনা,নিজের ভুলের জন্য নিজেকে শাস্তি দিতে চায়! এই স্বপ্নে আমিই ছুটে যাই তার কাছে,তার পরিবারের কাছে,তার পরিবারের কাছে অনুরোধ জানাই তাদের জীবনের সবচেয়ে প্রিয় উপহারকে আমার হাতে তুলে দিতে। কিন্তু তাকে কিছুতেই রাজী করানো যায়না,ততদিনে ভাঙ্গা হৃদয় আর তীব্র অনুশোচনায় সে দগ্ধ। প্রচন্ড আবেগে হাত ধরে বলি,এই হাত আমি আর ছাড়তে চাইনা!! কখনো না!! জীবনের বাকিদিন গুলোতে এই মায়াভরা মুখ দেখতে চাই প্রতিদিন,এরপরও কি তুমি আসবে না??? উত্তর আসে কেবল কান্নায়, সেখানে মুখ ফুটে হ্যাঁ বলাটা অর্থহীন। আমি আবার বলতে শুরু করি, এ জীবন তোমার জন্য নয়,এই একটি ভুল তোমার অসম্ভব মায়াময় মুখে চিরকালের জন্য দুঃখের ছায়া একেঁ দিতে পারেনা!! এইবারও জবাব আসে কান্নায়,আরো প্রবল বেগে, আর ক্রমশ হাতের উপর আরেকটি হাতের চাপ বাড়তে থাকে......... আর অসম্ভব এক ভাল লাগায় দুচোখে প্রশান্তির ঘুম নেমে আসে।

Sunday, April 15, 2012

রবীন্দ্রনাথ

আমাদের রাজনীতিবিদেরা প্রায়ই নানা রকম বাণী দিয়ে আমাদের ধন্য করেন। যদি রবীন্দ্রনাথ থাকতেন তাঁদের ভূমিকায়, কী লিখতেন তিনি? আসুন, দেখা যাক। সঙ্গে আছেন আলিম আল রাজি

রবীন্দ্রনাথ যখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
আজি মম হূদয় জুড়িয়া ক্ষত
বাতায়ন মাঝে হাহাকার কত শত
চোখ মেলে চৌদিকে কী দেখি
কান পেতে শুনি—
হেরিলাম আমি এ কী!
কী ঘটিছে চারিপাশে আজি ওরে
কে নাকি মেরেছে কারে,
ঢুকিয়া তাহার ঘরে।
ব্যথিত হূদয়, তৃষিত আঁখি,
ব্যাকুল আমার মনটা
ধরিয়া আনিব খুনিকে আমি
যাক না ৪৮ ঘণ্টা।

রবীন্দ্রনাথ যখন বিরোধী দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব
সহসা আমি করেছি ভুল গানে
বেঁধেছি লয় তানে
সমুদ্রজয়ের পরে,
ধন্যবাদ দিয়েছিনু কবে কারে
উহা আর কোনো
কাজেই লাগিল না রে।
অবুঝ আমার চিত্ত
হঠাৎ দিল নৃত্য
বুঝিলাম আমি করিনু মহা ভুল
ধন্যবাদ ফিরিয়ে নিয়া
দিলেম তাহার মাশুল।

রবীন্দ্রনাথ যখন প্রধানমন্ত্রী
অনেক কথা যাই যে বলি
অনেক কথার ছলে
কথা শুনে তবু কেন
লোকে মন্দ বলে?
চিত্ত মম কত্ত ভালো
আলোকিত মম সত্তা,
বেডরুমে তবু কেন
চাও নিরাপত্তা?
তোমাদের ছোট নদীর
সকল মাছ-ব্যাঙকে
রাখিও যতনে
নতুন ছয় ব্যাংকে
বেডরুমে রেখো না।
কী কী ঘটে দেখো না?

রবীন্দ্রনাথ যখন বিদ্যুৎমন্ত্রী
না দেখিয়া আঁখি জুড়াও তারে
কেন তারে দেখিতে চাও বারে বারে?
বিজলি আসিবে, বিজলি হাসিবে,
বিজলি যাইবে চলিয়া।
এমনই তো হয়, বদলাবে কিছু
আবোল-তাবোল বলিয়া?
চুপ করিয়া সখা বসিয়া থাকো
কল্পনাতে কারেন্ট আঁকো।

http://www.prothom-alo.com/detail/date/2012-04-16/news/240429

আবার বৈশাখ যদি বাঙালির দেশে সৈয়দ শামসুল হক | তারিখ: ১৪-০৪-২০১২

আবার বৈশাখ যদি বাঙালির দেশে

সৈয়দ শামসুল হক | তারিখ: ১৪-০৪-২০১২

খরার চৈত্রের শেষে পহেলা বৈশাখে
গাঢ় এক অভিপ্রায়ে আমাদের প্রভূত আশায়
যখন এ দেশ তার সবুজ প্রথম এক সোনারোদ পায়
তখন হঠাৎ স্বর পেয়ে যায় শোলার বৈশাখ পাখি,
ডেকে ওঠে নদীপাড়ে আবার মেলায়
আমাদের ভুলে যাওয়া ডাকনাম ধরে ডাকে
আলতা মাখানো তার গাঢ় লাল ঠোঁটে!
তখন স্মৃতির ভিড় ঠেলে ওঠে
কবেকার লাল বহি হালখাতা সিঁদুরের মুদ্রাছাপ নিয়ে!

আমিও তখন কালঘুম থেকে জেগে উঠে জলসোঁতে গিয়ে
দাঁড়াই, জিজ্ঞাসা করি তুমি কি হে সেই নদী,
ইতিহাস-প্রসিদ্ধ নদীটি? হও যদি
তবে ভরে ওঠো তুমি প্রস্রবণের ঢলে আজ, তবে পুণ্য জলে
রাঁধন-হলুদমাখা আমাদের বধূটিকে ডাকো পুনরায়।
গাহনে শীতল যেন উঠে আসে আপন সংসারে—
যেন তব জলে বর মাটিমাখা হাতখানি ধুয়ে নিতে পারে,
যেন ঢেউ এসে লাগে পুনরায় নৌকোটির দাঁড়ে
গতিবেগ দিতে থাকে পারনের—আজও অভিলাষ
দূর স্বপ্নগ্রামে যায়—
যেন চোখ ফিরে পায় আবার গলুই তার,
যেন সেই অপার কাঠের চোখ দেখে ওঠে
ফসলের মাঠে মাঠে ধানের সম্ভার—
কবেকার নিবিড় সংসার সব—আবার—আবার।

মজে যাওয়া নদীটির তীরে এসে দাঁড়িয়েছি—এই ভোরে—
দেখেছি ভোরের রবি যদি আজ—বলি তাকে বড় স্তুতি করে,
তোমার রশ্মির লাল আলতার মতো যেন পুনরায়
বাংলার শ্রীমন্ত লক্ষ্মী আমাদের বধূদের চরণ রাঙায়
একদিন যারা ছাপ রেখে গিয়েছিল বাঙালির সম্পন্ন উঠানে;
পড়ে আছে বিমর্ষ লাঙল—
অচষা এখনো মাটি—মাঠে মাঠে—দিগন্তবিস্তারী—
কত নদী অপেক্ষায় দিতে হবে পাড়ি—
করতোয়া-বুকে ছিল জলের কল্লোল—
এখন সকলি গত—ইতিহাস জানে—
পদচিহ্ন পড়ে আছে—চৈত্রের খরায় পোড়ামাটির পাটায়—
পালযুগ কালের প্রত্নের মতো!—
কতদূর এসে গেছি এ পথ হাঁটায়!

খরার চৈত্রের শেষে নিদারুণ বিস্মৃতির পাড়ে
বৈশাখদিনের মেলা শুরু হয় করোটির ভেতর পাথারে।
আর সেই শোলার পাখিরা হঠাৎ সূর্যের লাল পাখায় পাখায়
মেখে নিয়ে জাদুবলে যেন উড়ে যায়,
স্বপ্নের সীমান্ত ছুঁয়ে খাল দহ ভেঙে চলে যায়।
সিঁদুরের মতো গুঁড়ো, গেরুয়ার ঈষৎ আভাস!—
আকাশ প্রচ্ছদপট জীবনের এইসব রঙিন বিকাশ
দেখে দেখে আজও আমি হালখাতা খুলে বসি আবার আশায়
যেন ফের এ বছর উড়ে যেতে পারি সেই দেশে
যেখানে নদীর জলে পালা-পট-পুরাণকথারা এসে
হিরন্ময় ঢেউ হয়ে যায়।
বেজে ওঠে জীবনের করতালি, নতুন বধূর মতো
আজও এই দিবসের মুখ
আমাদের প্রিয়তর হয়ে ওঠে—সাড়া জাগে—পহেলা বৈশাখে
আবার সৃজনবোধে মানুষেরা জেগে ওঠে—
ইতিহাসদগ্ধ দেহে হলুদ নবনী তারা পুনরায় মাখে \
ঢাকা, ৯ এপ্রিল ২০১২
EID MUBARAK to everybody