Showing posts with label JOKES. Show all posts
Showing posts with label JOKES. Show all posts

Monday, May 14, 2012

এসএসসির ফলাফলের পর তাদের ফেসবুক স্ট্যাটাস

ধরা যাক, হাজার হাজার পরীক্ষার্থীর সঙ্গে তাঁরাও এবার এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছিলেন। অনেক শিক্ষার্থীর মতো তাঁরাও নিজের ফলাফল জানিয়েছেন ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে। তাঁদের দেয়াল থেকে স্ট্যাটাসগুলো রস+আলোর পাঠকদের জন্য নিয়ে এসেছেন রুবেল হাবিব

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
১৫ বছর বয়সী কিশোরের প্রথম কাব্যগ্রন্থ বনফুল বাহির হইতেছে। এই সংবাদের চাইতে অধিকতর আনন্দের সংবাদ আমার জীবনে আর দ্বিতীয়টি ঘটে নাই। ঘটিবে বলিয়া আশাও করি না। আজিকে আমার মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হইয়াছে। আমি ৩ দশমিক ৬৩ পাইয়া কৃতকার্য হইয়াছি। তবে এই অর্জন আমাকে ছুঁইতে পারিতেছে না! কাব্যগ্রন্থ প্রকাশের তুলনায় এই ঘটনা কিছুই নহে।

কাজী নজরুল ইসলাম
লেটোগান, নাকি পড়াশোনা? আমি লেটোগানকেই বেছে নেব! পরীক্ষার প্রতিটি খাতায় অত ভালো ভালো কয়েকটি গান-কবিতা লিখে দিলাম, মাস্টাররা বুঝলই না! তাই এফ গ্রেড পেয়েও চির উন্নত মম শির। আসুন, আমরা নিপীড়িতরা বলি—মহা বিদ্রোহী রণক্লান্ত/আমি সেই দিন হব শান্ত/যবে এফ-অলাদের ক্রন্দনরোল আকাশে-বাতাসে ধ্বনিবে না/এ প্লাসধারীর খড়্গ কৃপাণ ভীম, রণভূমে রণিবে না...

জীবনানন্দ দাস
বনলতা, পাখির নীড়ের মতো চোখ মেলে দেখো, কচি সবুজ বেতফলের মতো সদ্যই আমার এসএসসির ফলাফল বের হয়েছে! বি গ্রেড পেয়েছি আমি! কেন এমন করলাম? কারণ, স্কুলের মুখ আমি দেখিয়াছি, তাই কলেজের রূপ খুঁজিতে যাই না আর! এক দণ্ড সময় হলে লাইক দিয়ো। সাথে একটা কমেন্টস, প্লিইইইইইইইইজ...! গালাগালি কোরো না, কে হায় হূদয় খুঁড়ে বেদনা জাগাতে ভালোবাসে!

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
পরীক্ষার কেন্দ্রে বসিয়া বাংলা পরীক্ষার খাতায় দেবদাস-এর প্রথম অনুুচ্ছেদটা লিখিয়াছিলাম। আমার কাছে ওই অনুচ্ছেদের কোনো প্রতিলিপি নাই! খাতা ফেরত পাওয়ার কোনো উপায় আছে কি? বোর্ডের কর্মকর্তা কেহ আমার ফ্রেন্ড লিস্টে থাকিলে ‘আওয়াজ দিয়েন’। আমার এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল দয়া করে কেহ জানতে চাইবেন না।

জসীমউদ্দীন
পড়াশোনাকে কবর দিয়ে দিলাম। ‘কবর’ কবিতায় দুটো লাইন যোগ করতে হবে—এইখানে আমার পড়াশোনার কবর, স্কুলগেটের তলে/সারা জীবন ভিজিয়ে রাখব নর্দমারই জলে!

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
বিদ্যুতের অপরিসীম সংকটের মধ্যেও আমার পড়াশোনা চালাইয়া গিয়াছি। ফেসবুকে বসিবার সময় ল্যাপটপের যে আলো পাইতাম, সেই আলো দিয়াই দিব্যি বিদ্যা অর্জন করিয়াছি। তাই সবাইকে বলি, ফেসবুকের আলোয় আলোকিত হোন, ভালো ফলাফল অর্জন করুন।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত
নাউ আই অ্যাম মাইকেল মধুসূদন দত্ত এসএসসি। মাই জিপিএ ইজ ফাইভ! ওয়েল ডান। থ্যাংকস গড। (ফেসবুকে প্রথম সনেট স্ট্যাটাস)

রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
নারী জাগরণের পথিকৃৎ হিসেবে সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইট ফেসবুক অন্তঃপুরের অবরোধবাসিনীদের উন্মুক্ত বিশ্বে পদার্পণের অন্যতম মাধ্যম। ঘরে বসে আইফোনের মাধ্যমে আমি আমার বন্ধুদের জানাতে পারছি আমার এসএসসির ফলাফল। আমি জিপিএ ফাইভ পেয়েছি। সবাইকে আমার অন্দরমহলে মিষ্টি খাওয়ার নিমন্ত্রণ।

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
কপিলা আমার পাশের সিটে বসে পরীক্ষা দিয়েছিল। আমার নিয়ে আসা সব নকল শুরুতেই ওকে দিয়ে দিয়েছিলাম। ও পাস করেছে, আর আমি...! হায়, কপিলা!

http://www.prothom-alo.com/detail/date/2012-05-14/news/257471

Tuesday, May 1, 2012

গুম থেকে বাঁচার উপায়

মানুষ গুম হয়ে যাওয়াটা যেন নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনায় পরিণত হতে যাচ্ছে। যেকোনো সময় আপনিও হয়ে যেতে পারেন গুম, বিপদে পড়বে আপনার পরিবার। তাই দেখে নিন গুমের হাত থেকে বাঁচার উপায়। ভেবেছেন আশিকুর রহমান

একা চলবেন না
কবিগুরু গেয়েছিলেন, যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চল রে। ভুলে যান কবিগুরুর দেওয়া একলা চলার পরামর্শ। কেউ যদি ডাক না শুনতে চায়, তবুও হাতে-পায়ে ধরে রাজি করান, যাকে পারেন সঙ্গে নিয়ে নিন। মনে রাখবেন—একা বের হলে আপনার নিরাপত্তার গ্যারান্টি কেউ দেবে না। বরং সঙ্গে লোকজন থাকলে এ যাত্রায় গুম নাও হতে পারেন।

ধারণ করুন ছদ্মবেশ
কম খরচের চমৎকার আইডিয়া ছদ্মবেশ ধারণ। ভালো কোনো মেকআপম্যানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন বা নিজে শিখতে পারেন মেকআপের এই আর্টটি। প্রতিদিন বাইরে বের হওয়ার সময় বৈচিত্র্যময় সাজ সাজতে পারবেন। একদিকে যেমন বাইরে বের হলে আপনি অনুভব করবেন রোমাঞ্চ, তেমনি গুমকারীর বাবারও ক্ষমতা থাকবে না আপনাকে চেনার। আপনি বেঁচে যাবেন গুম হয়ে যাওয়ার হাত থেকে। তবে সাবধান, ছদ্মবেশ ধারণ করে কোনো প্রকার অনৈতিক কাজে নিজেকে জড়াবেন না।

সাহায্য নিন প্রযুক্তির
আপনি ডিজিটাল বাংলাদেশের নাগরিক। প্রযুক্তি বাঁচাবে আপনাকে গুম হওয়ার হাত থেকে। গাড়ি চুরি ঠেকাতে যেমন গাড়িতে লাগানো হয় জিপিএস ট্র্যাকার সিস্টেম, তেমনি নিজের শরীরের সঙ্গে লাগিয়ে নিন এই জিপিএস ট্র্যাকার সিস্টেম। যাতে আপনি গুম হয়ে যাওয়ার পর দ্রুত আপনার অবস্থা শনাক্ত করা যায়। এ ব্যবস্থার ফলে জীবিত হোক বা মৃত আপনার পরিবার আপনাকে ফিরে পাবে।

করে ফেলুন ইনস্যুরেন্স
যেকোনো ইনস্যুরেন্স কোম্পানির কাছে আপনার গুম হওয়া নিয়ে ইনস্যুরেন্স করে ফেলুন। ইনস্যুরেন্সের টাকার পরিমাণ হতে হবে চোখ-ধাঁধানোর মতো। শর্ত থাকবে আপনি গুম হয়ে গেলে ওই পরিমাণ টাকা ইনস্যুরেন্স কোম্পানি দিতে বাধ্য থাকবে। আশা করা যায়, এর পর থেকে টাকা যাতে না দিতে হয় সে জন্য আপনার নিরাপত্তার দায়িত্ব নিয়ে ফেলবে ওই ইনস্যুরেন্স কোম্পানি।

বৃদ্ধি করুন নিজের ওজন
সব সময় নিজের শরীরের ওজন কমানোর কথা শুনে এসেছেন, কিন্তু এবারের পরিস্থিতি ভিন্ন। যত পারুন নিজের শরীরের ওজন বৃদ্ধি করুন। আপনার টার্গেট থাকবে নিজেকে সুমো কুস্তিগীরের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া। একবার যদি লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেন, ব্যস আর কোনো চিন্তা নেই। আপনার বিশাল শরীরকে তুলে নিয়ে যাওয়ার চিন্তা করে গুমকারীরা গুম করতে নিরুৎসাহী হয়ে উঠবে। আপনি যাবেন বেঁচে।

গুম হয়ে যান নিজেই
ওপরের একটা পন্থাও যদি আপনার পছন্দ না হয়, তাহলে নিজের নিরাপত্তায় একটা উপায় বাকি আছে। তা হলো নিজেই নিজেকে গুম করে ফেলুন। চলে যান আন্ডারগ্রাউন্ডে। সবার কাছে পৌঁছে দিন আপনার গুম হয়ে যাওয়ার খবর। এ ব্যবস্থার ফলে যদিও কিছুদিন আপনাকে নিয়ে টানাহেঁচড়া হবে, কিন্তু আপনি থেকে যাবেন নিরাপদ। গুমকারীরা চিন্তায় পড়ে আপনার নাম কেটে দেবে তাদের লিস্ট থেকে।

যা যা গুম হওয়া দরকার

মানুষ নিখোঁজ হয়ে যাচ্ছে। নিখোঁজ হওয়াকে গুমও বলছেন অনেকে। মানুষ নিখোঁজ না হয়ে আসলে কী কী জিনিস নিখোঁজ হওয়া দরকার কিন্তু কেন হচ্ছে না, তা নিয়ে গুম হয়ে গবেষণা করেছেন নূর সিদ্দিকী

লোডশেডিং
এই জিনিস দেশ ও জাতির স্বার্থে গণতন্ত্র রক্ষায় নিখোঁজ বা গুম হওয়া দরকার। লোডশেডিং গুম হলেই মানুষ নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাবে। কিন্তু লোডশেডিং গুম হচ্ছে না, কারণ বিদ্যুৎ উপদেষ্টা, মন্ত্রীরা বিদ্যুৎ উৎপাদনে দারুণ তৎপর আর বিরোধী দল চায় না উৎপাদন হোক। মানে রাজনীতির স্বার্থেই লোডশেডিং প্রয়োজন বলেই তা গুম হচ্ছে না।

দুর্নীতি
দুর্নীতির বিচরণ এখন সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে, সমাজকে সুস্থ করে তুলতে একে গুম করা সামাজিক দায়িত্বে পরিণত হয়েছে। কিন্তু দুর্নীতি গুম হবে না। কারণ, দুর্নীতি ঘোষ গুম হলে সামান্য কেরানি বা পিয়ন বা আমলাদের বাড়ি-গাড়ির মালিক হওয়া বন্ধ হয়ে যাবে।

যানজট
যানজট গুম হোক জনগণ চায় কারণ, জনজীবনে গতিশীলতা আনতে এর কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু যানজট গুম হবে না তার একটাই কারণ। আর তা হলো, জটে আটকে থাকার সময় মানুষের মস্তিষ্ক অলস হয়ে শয়তানের মতো কুবুদ্ধি আঁটে, দেশে কুবুদ্ধির যাতে সংকট না হয়, সে জন্যই যানজট গুম হচ্ছে না, হবেও না।

সূচক
পুঁজিবাজারের এই বস্তুটি গুম হওয়া দরকার এ জন্য যে সূচকবাবু গুম হলে আর এর উত্থান-পতন হবে না, বাজার হবে স্থিতিশীল, বন্ধ হবে জ্বালাও-পোড়াও। কিন্তু সূচকবাবু গুম হবে না, কারণ বাজারে চলছে এবং চলবে টাকার খেলা।

স্বজনপ্রীতি
স্বজন এবং প্রীতি মিলিয়েই তৈরি হয়েছে শব্দটির। কিন্তু এই স্বজনপ্রীতি যে ভীতির কারণ হয়ে পড়েছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না বলেই সবাই এর বিলোপ বা গুম চায়। কিন্তু এ ঘটনা বাঙালি দেখে মরতে পারবে না, কারণ স্বজনপ্রীতি গুম হলে ক্ষমতাবানদের পরিবারে পরিবারে বেকার মানুষের সংখ্যা বাড়বে। বেকারত্বের হার কমাতেই স্বজনপ্রীতি বহাল তবিয়তেই থাকবে।

সন্ত্রাস
সমাজে শান্তি আনতে সন্ত্রাসের গুম হওয়ার কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু এই ঘটনা কখনোই ঘটবে না, কারণ সন্ত্রাস গুম হলে রাজনীতিকেরা অশান্তিতে পড়বে এবং পুলিশ ও র‌্যাবও বেকার হয়ে পড়বে। বেকারত্ব জাতির জন্য অভিশাপ, তাই তা ঘটবে না।

বিশৃঙ্খলা
বিশৃঙ্খলা বাঙালির আত্মপরিচয়ের অংশ। এই সত্য মেনে নিয়েই এর বিলুপ্তি প্রত্যাশা করে সবাই। তবে বিশৃঙ্খলা বিলুপ্ত হোক—এমনটা স্বপ্নেও কেউ ভাবতে পারে না। কারণ, শৃঙ্খলা এমন একটা ঘটনা, যা এক দিনে শেখা যায় না, সামান্য শৃঙ্খলা শিখতেই যদি উন্নয়নশীল বাঙালি জাতি পিছিয়ে যায়! এই ভয়েই বিশৃঙ্খলাকে গুম করে দেওয়া সম্ভব নয়।

ক্ষমতা
ক্ষমতা সবাই চায়। কিন্তু ক্ষমতার দাপটে মানুষ অতিষ্ঠ বলেই ক্ষমতার বিলোপ এখন সময়ের দাবি। কিন্তু ক্ষমতা গুম হোক এমনটা তো কেউ মনে মনে ভাবারও সাহস রাখে না। আর যারা মুখ ফসকে বলে ফেলে, তারা তো নিজেরাই গুম হবে, এটাই স্বাভাবিক। তাই ক্ষমতা খান কখনো গুম হবে না।
EID MUBARAK to everybody