Saturday, October 10, 2015

নজরুল-অনূদিত ‘দীওয়ান-ই-হাফিজ' Kazi Nazrul Islam কাজী নজরুল ইসলাম

নজরুল-অনূদিত ‘দীওয়ান-ই-হাফিজ'-এর অগ্রন্থিত একাংশ -আবদুল মান্নান সৈয়দ

কবি কাজী নজরুল ইসলাম (১৮৯৯-১৯৭৬) সর্বাধিক উদ্বুদ্ধ অনুপ্রেরিত-আলোড়িত হয়েছিলেন ফারসি কবিদের দ্বারা। তিনজন ফরাসি কবির কবিতা নজরুল অনুবাদ করেন : ওমর খৈয়াম (-১১২৩), জালালউদ্দীন রুমি (১২০৭-৭৩) এবং শামসুদ্দীন মুহম্মদ হাফিজের (১৩২৫-৮৯)। এঁদের মধ্যেও আবার নজরুল সর্বাধিক উজ্জীবিত ছিলেন হাফিজ-এর কবিতায়।
নজরুলের বন্ধু কমরেড মুজফফর আহমদ (১৮৮৯-১৯৭৩) নজরুলের করাচি থেকে কলকাতায় ফেরার পরে বর্ণনায় লিখছেন : ‘কৌতূহলের বশে আমরা তার গাঁটরি বোঁচকাগুলি খুলে দেখলাম।... কবিতার খাতা, গল্পের খাতা, পুঁথি-পুস্তক, মাসিক পত্রিকা এবং রবীন্দ্রনাথের গানের স্বরলিপি, ইত্যাদিও ছিল। পুস্তকগুলির মধ্যে ছিল ইরানের মহাকবি হাফিজের দিওয়ানের একখানা খুব বড় সংস্করণ। তাতে মূল ৭টির প্রতি ছত্রের নিচে উর্দু তরজমা দেওয়া ছিল। অনেক দিন পরে আমারই কারণে নজরুল ইসলামের এই গ্রন্থখানা, আরো কিছু পুস্তক, কিছু চিঠিপত্র, অনেক দিনের পুরানো কবিতার খাতা, বিছানা, কিট-ব্যাগ, সুটকেস এবং ‘ব্যথার দান' পুস্তকের উৎসর্গে বর্ণিত মাথার কাঁটা সোয়া যায়।' (পৃ. ৪৯, ‘কাজী নজরুল ইসলাম : স্মৃতিকথা' তৃ মুদ্রণ ১৯৬৯)।
মুজফফর আহমদ বর্ণিত এই হাফিজের দিওয়ান বইটির বড়ো সংস্করণের বইটি থেকেই নজরুল তর্জমা করতে শুরু করেন। ‘মোসলেম ভারত' পত্রিকায়। ১৯২০ সালে। অন্যান্য পত্রিকাতেও আরো লেখা প্রকাশিত হয়।
কী আছে হাফিজের দিওয়ান বইটিতে?- পার্বতীচরণ ভট্টাচার্য জানাচ্ছেন, ‘হাফিজের দিওয়ান ৫০০ গজল, তিনটি সুদীর্ঘ নীতিকবিতা, বহু রুবাই এবং কিছু মসনবীর ও কসীদার সমষ্টি। একমাত্র পুত্রের অকালমৃত্যুতে তার একটি মরসিয়াও আছে।' (পৃ. ২২০, পারস্য সাহিত্য পরিক্রমা, ১৯৮৪)।
১২০ এ প্রকাশিত নজরুল ইসলামের হাফিজ সংক্রান্ত রচনাও বিচিত্র :
১ আশায়। ‘প্রবাসী', পৌষ ১৩২৬।
২ প্রিয়ার দেওয়া শরাব। বঙ্গীয় মুসলমান-সাহিত্য প্রতীক : বৈশাখ ১৩২৭।
৩ বোধন। ‘মোসলেম ভারত' জ্যৈষ্ঠ ১৩২৭।
৪ বাদল রাতের সরাব। ‘মোসলেম ভারত', আষাঢ় ১৩২৭।
৫ সালেক (গল্প) ‘বকুল', আষাঢ় ১৩২৭।
৬ হাওয়ার দূতী। ‘উপাসনা' শ্রাবণ ১৩২৭।
৭ দিওয়ান-ই-হাফিজ (১-২)। ‘মোসলেম ভারত', অগ্রহায়ণ ১৩২৭।
৮ দিওয়ান-ই-হাফিজ (৩-৪)। ‘মোসলেম ভারত' পৌষ ১৩২৭।
৯ দিওয়ান-ই-হাফিজ (৫-৬)। ‘মোসলেম ভারত' মাঘ ১৩২৭।

নজরুল ইসলাম হাফিজের দিওয়ানের বেশ কিছু তরজমা করেছিলেন। এরকম ৮টি তরজমা কবির সর্বশেষ কবিতাগ্রন্থ ‘নির্ঝর' (১৩৪৫) এ স্থান পায়। ‘প্রবর্তক' পত্রিকার জ্যৈষ্ঠ ১৩৩০ সংখ্যায় আমি আর একটি দিওয়ানের অনুবাদ আবিষ্কার করেছি। (নৌজোয়ানীর জৌলুসে ঢের)। ঠিক কটি হাফিজের গজল অনুবাদ করেছিলেন নজরুল? অন্ততপক্ষে ১৩টি গজল যে অনুবাদ করেছিলেন তার সাক্ষ্য দেবে ‘প্রবর্তক' পত্রিকার আষাঢ় ১৩৩৩ প্রায় ‘দিওয়ান-ই-হাফিজ' শিরোনামে যে অনুবাদ ছাপা হয়েছিল (জাগো মাঝি হামদরদী')।, সেখানে লেখা ছিল গজল ১৩১। আমরা এখন পর্যন্ত দিওয়ানের ৯টি অনুবাদ পাচ্ছি। তাহলে কি অন্তত পক্ষে ৪টি দিওয়ান-ই-হাফিজ অনুবাদ করেছিলেন কবি? আপাততপ্রাপ্ত দিওয়ানগুলি এখানে প্রকাশের ক্রম অনুসারে চিহ্নিত হলো:
১ হ্যাঁ, ত্রয় সাকি, শরাব ভর লাহা। ‘মোসলেম ভারত', অগ্রহায়ণ ১৩২৭।
২ হে মোর সুন্দর। ঐ, অগ্রহায়ণ ১৩২৭।
৩ হতে হতে মোর। ঐ, পৌষ ১৩২৭।
৪ মোর পত্রের মদ্যরোশনায়ে। ঐ, পৌষ ১৩২।
৫ কোথায় সুবোধ-সংযমী। ঐ, মাঘ ১৩২৭।
৬ যদিই কান্ত সিরাজ সজনী। ঐ, মাঘ ১৩২৭।
৭ বুক-ব্যথানো বেণুর বেদন। বঙ্গীয় মুসলমান-সাহিত্য পত্রিকা, বৈশাখ ১৩৩০।
৮. নৌজোয়ানীর জৌলুসে ফের। প্রবর্তক' জ্যৈষ্ঠ ১৩৩০।
৯ জাগো সাকি হামদরদী। ‘প্রবর্তক', আষাঢ় ১৩৩৩।
ধারাবাহিক প্রকাশক্রমের কথা বলা হলো, কিন্তু এই প্রকাশক্রমও হয়তো অল্প কেননা ‘নৌজোয়ানীর জৌলুসে ফের' পত্রিকাটি প্রবর্তকে প্রকাশিত হয় ‘সোনার বাংলা' থেকে উদ্ধৃত হিসেবে। ‘সোনার বাংলা' পত্রিকা আমরা দেখিনি, সুতরাং ওই পত্রিকায় ওই লেখা কবে প্রকাশিত হয়েছে বলা যাচ্ছে না।
নজরুল-এর দিওয়ান-ই-হাফিজ সংক্রান্ত নতুন-প্রাপ্ত তথ্যগুলি এই ১. আগে আমাদের জানা ছিল না, ‘জাগো সাকি হামদরদী' প্রবর্তক পত্রিকায় বেরিয়েছিল; ২. যদিই কান্ড সিরাজ সজনী' কবিতায় ‘কুঞ্জিকা' মোসলেম ভারত' পত্রিকা থেকে ‘নির্ঝর' গ্রন্থে উদ্ধৃত হয়নি- বাদ গিয়েছিলো ৩. নৌজোয়ানীর জৌলুসে ফের' কবিতাটিই অজ্ঞাত ছিল নতুন আবিষ্কৃত হলো।
এই অনুবাদগুচ্ছের বৈশিষ্ট্য এগুলির শব্দ ব্যবহার এবং ছন্দ ও অন্তমিলের প্রয়োগ। বাংলার সঙ্গে এখানে নজরুল অবলীলায় মিশিয়েছেন আরবি-ফারসি-উর্দু শব্দ। ছন্দে আমরা লক্ষ্য করি নানা বৈচিত্র : ১ ও ২ সংখ্যক গজল ৭ মাত্রায় মাত্রাবৃত্তে, ৩ সংখ্যক গজল ৬+৫+৬+৫ মাত্রাবৃত্তে, ৪-সংখ্যক গজল ২+৬+৬+৮ মাত্রাবৃত্তে এবং ৫, ৭, ৮ ও ৯ সংখ্যক গজল স্বরবৃত্ত ছন্দে রচিত। ১, ২, ৩, ৪, ৫ ও ৬ সংখ্যক গজল অসাধারণ যৌগিক অন্তমিলে সম্পন্ন। এই গজলগুচ্ছ শব্দ ছন্দ মধ্যমিল-অন্তমিলের কুশলতায় অসাধারণ। এগুলোকে মনে হয় পূর্ণসৃষ্টি।
সব মিলিয়ে আমাদের মনে হয়েছে, হয়তো নজরুল ‘দিওয়ান-ই-হাফিজ' নামে কোনো বই এর পরিকল্পনা করেছিলেন। মুজফফর আহমদ বইটি হারিয়ে ফেলায় তা কি পরিত্যক্ত হয়েছিল? কিন্তু কলকাতায় ‘দিওয়ান-ই-হাফিজ'এর কোনো মূল সংস্করণ সংগ্রহ করা অসাধ্য ছিল না। নজরুল অন্যভাবে পরিব্যস্ত হয়ে গিয়েছিলেন- হয়তো সেজন্যেও কাজ অসম্পূর্ণ থাকে। তবে, নজরুল-অনূদিত হাফিজের অন্তত আরো ৪টি গজল পাওয়া যেতেও পারে কোনো সময়।

দীওয়ান-ই-হাফিজ
নজরুল ইসলাম
নৌ-জোয়ানীর জৌলুসে ফের গুলজার আজ গোলেস্তান,
ফুল-কিশোরীর খোশ-খবরী গায় বুলবুল খোশ এলহান।

যৌবনাতুর ফুলকুঁড়ি বাস যাচ্ছ মলয় ঘোড়সওয়ার,
সরো, গোলাব, যুঁই, বেলীদের কইবে কি মোর নমস্কার?

চাঁদ চেহেরায় ম্লান করো না কস্তুরী-কেশ-ধূপছায়ায়,
চুনোট চুলের খুনসুটি তোর করবে এবার খুন আমায়।

মদপায়ীদের নিত্য যারা বদনামী গায়, হচ্ছে ভয়-
এই খারাবীর খেয়াল-সুখই ঈমান তাদের করবে ক্ষয়।

খোদার প্রিয়ের হও প্রিয়তম- আছেন বুঝি ‘নোহের' নায়
সিন্ধুকে যে বিন্দু ভাবে তুফান যাহার হুকুম চায়।

শনির সরাই দুনিয়াখানায় পাতিসনে হাত, পালিয়ে আয়,
অতিথি এলেই কঞ্জুসা এই কাফের করে কতল তায়

মদ-পূজারী বাচ্চা পুঁড়ি পুতুল যদি হয় আমার
নয়ন-পাতায় করবো ঝাড়ু সরাবখানার দোরেব তায়।

‘সোহহম সত্য' ‘জগৎ মিথ্যা' গন্ডুষে যদি নাও শুষেও
দেহ-দেউলের কণা-রহস্য বুঝাতে নারবে বন্ধু কেউ।

আখেরে যাহার সম্বল ভাই দু'মুঠো মাটির নিঁদ-মহল,
বল সে বেকুবে, গগনচুম্বী সাত-মহলাতে তার কি ফল?

হে মোর বন্দী কিনানের চাঁদ। মেঘের আজ তর দন্ডাধীন,
কারাবাসে এবে বিদায় বলিয়া হও এসে যথা তখতনশীন।

জানিনে লো তোর এলো কুন্তলে কি খেয়াল খেলে এলোমেলো,
আ মলো! শ্যামল কস্তুরী-কেশ দিনে কতবার আলগে লো।

মুক্তি মুলুক, সবুরীর কোঠা এমন অজেয় উচ্চশির
জিনিবে তা বলে নাই হেন শত বাদশার তরবারির।

মদ পি হাফিজ, মস্তানী চালা, বাস্ নেচে গেয়ে কাটুক কাল!
অন্যের মতো করো না কোরানে ফেরেববাজির ফন্দী-জাল!

নৌ-জোয়ানী=নবযৌবন। গোলেস্তান-মালঞ্চ। খোশ-খবরী=শুভসংবাদ। খোশ-এলহান= সুধা কণ্ঠ। বাগ=বাগিচা। সরো=পারস্যদের এক সুন্দর সরল তরুর নাম। প্রিয়ার ক্ষীণ, সরল, দীর্ঘতরুর সঙ্গে এর তুলনা দেন পারস্য কবিকুল। নোহ-হজরত নূহ এক বড় পয়গম্বর ছিলেন। এর প্রার্থনায় খোদার অভিশাপ তুফান রূপে এসে সমস্ত পাপাক্রান্ত পৃথিবী সয়লাব করে দেয়। কেবল ইনি এবং এঁর ধার্মিক পুণ্যাত্মা শিষ্যেরা এক জাহাজে চড়ে ঐ প্রলয় তুফান থেকে বেঁচেছিলেন। বাইবেলে, কোরানে এর বিবরণ আছে। কঞ্জুশ-কৃপণ। কতল=হত্যা। কাফের=এর মানে কবিতাতে প্রায় অধিকাংশ স্থলেই নিষ্ঠুর, অত্যাচারী। কিনানের চাঁদ=হযরত য়ূসোফ (বাইবেলের জোসেফ)। ইনি আগে বন্দী, পরে মিশরের অধীশ্বর হন। কোরানে বাইবেলে এর অপূর্ব কাহিনী বিবৃত আছে। তখতনশীন=সিংহাসনে আসীন। সবুরী=সহ্যগুণ ধৈর্য। 

http://www.dailysangram.com/news_details.php?news_id=43166 

book  




নতুন বইবায়োডাটা
রেজাউদ্দিন স্টালিন বর্তমান বাংলা কবিতার গুরুত্বপূর্ণ কণ্ঠস্বর। তার পুরাণমনস্ক ইতিহাসচেতনা আমাদের ভৌগোলিক সীমারেখাকে বিস্তৃত করে দেয়। এবারের একুশে বইমেলায় তার ৯টি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে 'বায়োডাটা' প্রকাশ করেছে কুঁড়েঘর প্রকাশনী। এ গ্রন্থের ৭২টি কবিতার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কবিতা বায়োডাটা, নিসিদ্ধ সংখ্যা, সময়ের গল্প, এক মৃত ব্যক্তির সাক্ষাৎকার ইত্যাদি। করপোরেট সংস্কৃতিতে বায়োডাটানির্ভর মানবজীবনের বিরুদ্ধে তিনি দ্রোহের বাণী উচ্চারণ করেছেন। তিনি বলেন, আমার আলাদা কোনো বায়োডাটা নেই/জন্মেছি মানুষ হিসেবে এই আমার বায়োডাটা। বর্তমান বিশ্বপরিপ্রেক্ষিত এবং সমাজ বাস্তবতায় রেজাউদ্দিন স্টালিনের কবিতা এক দায়বদ্ধ শিল্পের ইতিহাস। এই অস্থির সময়ের বিরুদ্ধে রেজাউদ্দিন স্টালিন অমোঘ উচ্চারণ আমাদের সচকিত করে। গবেষক ও লেখক অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী রেজাউদ্দিন স্টালিনের কবিতা সম্পর্কে বলেন_
<a href='http://bdads.bd-ads.com/ads/www/delivery/ck.php?n=a0d63775&amp;cb=INSERT_RANDOM_NUMBER_HERE' target='_blank'><img src='http://bdads.bd-ads.com/ads/www/delivery/avw.php?zoneid=79&amp;cb=INSERT_RANDOM_NUMBER_HERE&amp;n=a0d63775' border='0' alt='' /></a>
'রেজাউদ্দিন স্টালিনের জগৎটা আমাদের পরিচিত তার সীমানাটা আমরা জানি। কিন্তু ওই সীমানাটা এই কবি মানে না। নিজের শক্তিতে তাকে সে প্রসারিত করে নেয়। এবং একই সঙ্গে গভীরতাও সৃষ্টি করে। দেখার দৃষ্টি, অনুভবের শক্তি, কল্পনার ক্ষমতা, ভাবনার বৈশিষ্ট্য এবং উপস্থাপনার অনুশীলিত দক্ষতায় পরিচিত বিষয়গুলো নতুন হয়ে ওঠে। ওর কবিতায় স্থান আছে, রয়েছে বৃষ্টিভরা আকাশ, আছে আকাশ ও পৃথিবীর জানাজানি, রয়েছে আন্তর্জাতিক বিশ্ব। সব মিলিয়ে রেজাউদ্দিন স্টালিনের একটা নিজস্ব ও ভিন্ন রকমের জগৎ। স্টালিনের কবিতা এই সঙ্গে আত্মজৈবনিক ও সর্বজনীন।' রেজাউদ্দিন স্টালিন ইতোমধ্যেই এক অনুকরণীয় কণ্ঠস্বরে উন্নীত হয়েছেন। তার 'বায়োডাটা' এবারের বইমেলায় বহুল বিক্রয়ের তালিকায় রয়েছে। গ্রন্থটির প্রচ্ছদ এঁকেছেন মোস্তাফিজ কারিগর। মূল্য ১৩৫/- টাকা।
হাসনাত মোবারক


১০০০ অমৃত কথা
বাঙালির ইতিহাসে প্রবচনের বিশেষ গুরুত্ব আছে। আদিকাল থেকে বিভিন্ন প্রবচনের মাধ্যমে আমাদের শিক্ষার বিষয়টি প্রসারিত হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তির বর্তমান যুগেও আমরা ভুলে যাইনি বিভিন্ন প্রবচন। বাঙালির নিত্যজীবন যাপনে এখনো বাণী, প্রচবন কিংবা অমৃত কথার বিশেষ ভূমিকা আছে। প্রবচনের কথা আসতেই আমাদের মনে পড়ে খনার বচনের কথা। খনার বচন বা অমৃত কথা এখনো বাঙালির মুখে মুখে লেগে আছে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায় একটি বচন। যেমন_ 'কলা রুয়ে না কাট পাত/তাতেই কাপড় তাতেই ভাত'। একটি ছোট-অন্ত্যমিল সস্নোগানের মতো এটি। প্রতীকী এই বচনে ফুটে উঠেছে কলা চাষের যত্নের কথা। বাঙালির জীবনে খনার অন্য একটি বচন হলো_ 'যদি বর্ষে মাঘের শেষ/ধন্য রাজার পুণ্য দেশ'। খনা বচনের মাধ্যমে বাঙালি সমাজকে বিভিন্ন বিষয়ে সচেতন করেছেন।
সাংবাদিক, লেখক সালাম সালেহ উদদীন নিজেও হয়তো খনার বচন কিংবা অমৃত কথার দ্বারা বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত হয়েছেন। তারই ফল হলো তার লেখা ১০০০ অমৃত কথা। ৮০ পৃষ্ঠার এ বইয়ে মলাটবন্দি করেছেন ১০০০ অমৃত কথা, সমাজের প্রতিটি বিষয়কেই তিনি বচনের মাধ্যমে বিশ্লেষণ করেছেন। বইটির মলাট ওল্টাতেই চোখে পড়ে ফ্ল্যাপ। তাতে কয়েকটি অমৃত কথা রয়েছে। এগুলোকে ভূমিকা বচন বলা যেতে পারে। ভূমিকা বচনের শুরুটি হলো_ 'ফুলের সৌন্দর্য যে না বোঝে সে জীবনের সৌন্দর্য উপলব্ধি করতে পারে না'। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এমন বচন সাজানো হয়েছে। উল্লেখযোগ্য কয়েকটি অমৃত কথা পাঠকের জন্য বলে দিচ্ছি। ক্রমিক নাম্বার দিয়ে সাজানো এক নাম্বার অমৃত কথা হলো_ 'মানুষের কণ্ঠ ও চেহারা প্রত্যেকেরই প্রায় আলাদা_ এটা সৃষ্টির বিস্ময়। কিন্তু মানুষ যখন আপনজন দ্বারা প্রতারিত হয় তখন আরো বিস্ময় জাগে।' চার নাম্বার অমৃত কথা হলো_ 'ভাগ্যের অপর নাম চেষ্টা বা সংগ্রাম, কেবল ভাগ্যনির্ভর মানুষ অলস, অকর্মণ্য হয়। ভাগ্য এসে তখনই ধরা দেয় যখন মানুষ কঠোর পরিশ্রম করে। কেবল লটারিতে জিতে বা দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে হয়তো পরিশ্রম ছাড়া ভাগ্যের চাকা ঘোরানো সম্ভব। দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে আমাদের বদনাম রয়েছে। দুর্নীতির মাধ্যমে একশ্রেণির মানুষ ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়ে নিচ্ছে।' এই অমৃত কথা শতভাগ সত্য।
জন্মই আমার আজন্ম পাপ_ শিরোনামের একটি কাব্যগ্রন্থে কবির হতাশা প্রকাশিত হয়েছিল। আজও দেশের বেশির ভাগ মানুষ হতাশাগ্রস্ত। জীবনটাকে অনেকেই নাটক মনে করে বিশ্লেষণ করেন। আসলেই তৃতীয় বিশ্বের অধিবাসী আমরা সবাই নাটকে অভিনয় করে চলেছি। ৯৭ নাম্বার অমৃত কথা_ 'জীবন নাটকে আমরা কম-বেশি সবাই অভিনেতা, যিনি দক্ষ তিনিই সফল।' এ অমৃত কথা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় ভূপেন হাজারিকার বিখ্যাত গান_ 'জীবন নাটকের নাট্যকার বিধাতা...'। নগর জীবন নিয়ে তার অমৃত কথার ১২০-এ বলা হয়েছে_ 'নগর জীবনের অপর নাম নিষ্ঠুরতা আর অমানবিকতা। যারা এসব রপ্ত করতে পারেনি তারা গ্রাম্য।' এ অমৃত কথায় উঠে এসেছে শহরের মানুষের নিষ্ঠুরতার কথা, দিন দিন শহুরে মানুষের জীবনযাপন হয়ে উঠছে নিষ্ঠুর আর অমানবিক। ২৫৯ নাম্বার অমৃত কথা_ 'স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি যে দেশে নেই, সে দেশে বাস করা উচিত নয়।' এ অমৃত কথাটির বিশ্লেষণের প্রয়োজন নেই। কারণ তা আমরা নিত্যদিন টের পাচ্ছি। উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে ৫১৭টি অমৃত কথা শোভা প্রকাশ থেকে বের হয়েছে অমৃত কথা নামে।
পেশায় সাংবাদিক সালাম সালেহ উদদীন নিরন্তর লিখে চলেছেন। উপন্যাস, গল্প, কলামসহ সব ধরনের লেখা লিখছেন। ১০০০ অমৃত কথা তার একটি ব্যতিক্রমধর্মী প্রয়াস। আশা করি তার এ প্রচেষ্টা সফল হবে। পাঠক বইটিকে সাদরে গ্রহণ করবেন, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
১০০০ অমৃত কথা
সালাম সালেহ উদদীন, মিজান পাবলিশার্স
ফেব্রুয়ারি ২০১৫, মূল্য : ১২৫ টাকা
শহীদ খান

হৃদয় চিরিয়া যদি দেখাতে পারিতাম
উপন্যাস মূলত জীবনের বিশদ বিবরণ। আর সে জীবনেরই নৈমিত্তিক ঘটনাগুলোই যখন একজন লেখক তার উপলব্ধি এবং নিজস্ব ভাষার বুননে উপস্থাপন করেন। আর সেই অনুভূতির সঙ্গে পাঠক একাত্ম হয়, তখনই উপন্যাস পাঠের যে মুগ্ধতা, তা বোঝা যায়। মঈনুদ্দিন কাজলও 'হৃদয় চিরিয়া যদি দেখাতে পারিতাম' উপন্যাসে কাহিনীকে এমনভাবে বিন্যস্তত্ম করতে প্রয়াসী হয়ে ওঠেন যে, সেই কাহিনীর সাবলীল উপস্থাপন আমাদের অনুভূতিতে চেনা-অচেনার দোলাচলে ক্রিয়াশীল হয়ে ওঠে। উপন্যাসে সমাজ, জীবন, বাস্তবতার সংঘাত, টানাপড়েন এবং নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনাগুলো যখন স্বতঃস্ফূর্ত প্রকাশে জীবন্ত হয়ে ওঠে আর অনুভূতিকে উস্কে দেয়; তখন তার মধ্য দিয়ে পাঠকের মনেও একেকটি দৃশ্যের অবতারণা হয়। একেকটি অংশ হয়ে ওঠে। এটা অস্বীকারের সুযোগ নেই যে, আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের বিভিন্ন অনুষঙ্গের মধ্যেও অপরিহার্য বিষয় হয়ে ওঠে 'প্রেম'। এই প্রেম নিয়ে কল্পকথা, কত কাহিনী, আবেগ, কবিতা, গান, ছবি। যেন প্রেমের ক্রিয়াশীল এই অনুভূতির ব্যঞ্জনা শেষ হয় না কখনো। যেন তার শেষও নেই কোনো। সময় বয়ে গেলেও বার বার প্রেম উজ্জীবিত হয়ে ওঠে। রহস্যাবৃত হয়ে ওঠে এমনভাবে যে, তার কোনো আবেদনই শেষ হয় না। সবকিছু বদলে গেলেও, মানুষের পাওয়ার যে আকাঙ্ক্ষা, যে বাসনা হৃদয়ে প্রজ্বলিত তা স্তিমিত হতে চায় না। মঈনুদ্দিন কাজলও প্রেমের এমনই এক কাহিনী তুলে ধরেন যেখানে পাওয়ার তীব্র বাসনা জেগে থাকে।
এই অপরিহার্য বাস্তবতাতেই আমরা মঈনুদ্দিন কাজলের উপন্যাসে লক্ষ্য করি, প্রেমের সরল উপাখ্যান যেখানে ভালোবেসে পাওয়ার এক তীব্র বাসনা স্পষ্ট। যেখানে সাবরিনা রায়হানের কথা ভাবে, তখন ভাবে_ যখন আকাশে পূর্ণিমার চাঁদ জ্বলজ্বল করছে। আর সেই আলো সবখানে ছড়িয়ে পড়েছে। এমন এক মায়াময় পরিস্থিতির মধ্যেই যে ভালোবাসার মানুষটির কথা ভাবনায় আসে, এ আবেগকে উপস্থাপনের মধ্য দিয়েই শুরু হয় উপন্যাসের। এরপর বিভিন্ন ঘটনার মধ্য দিয়ে এড়িয়ে যেতে থাকে কাহিনী। হাতে হাত, ভালোবাসার মানুষের সানি্নধ্য, পরস্পরের কাছে আসার তীব্রতা এ সবই। আর এসব উপস্থাপনের মধ্য দিয়েই লেখক যেন এমন এক দৃশ্য তুলে আনেন তা পাঠকের হৃদয়কেও আন্দোলিত করে। কাহিনীর ভেতরে যে বোধ তা প্রাত্যহিক ঘটমান বিষয়গুলোকেই নতুন উন্মাদনায় প্রতিস্থাপন করতে চায় পাঠকের মননে। উপন্যাসের নায়ক অসুস্থ হয়েও হাসপাতালে যখন অপারেশন করবে তখন তার কাছে জীবনের ভয়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে প্রিয় মানুষটির মুখ। যদি রায়হান মারা যায় তবে সাবরিনার কী হবে? এমন প্রেমের অনুভূতি সত্যিই জীবনের পরতে পরতে এক অপূর্ব দোলাচলে উন্মাদ করে দেয় মনকে। মঈনুদ্দিন কাজলের এই পথচলা আরো সুদূর হোক। তার জন্য শুভ কামনা।
প্রকাশক : রিদম প্রকাশনা সংস্থা
প্রচ্ছদ : মোমিন উদ্দীন খালেদ
মূল্য : ১৫০ টাকা

যত দূরে যাও
'যত দূরে যাও' উপন্যাসের নামকরণের মধ্য দিয়েই প্রিয়জনের দূরে চলে যাওয়ার এক হাহাকারের ছবি ভেসে ওঠে। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে এই প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিতও থাকে যে, দূরত্বও প্রেমের কাছে কিছু নয়! অর্থাৎ দূরত্ব প্রেমের অনুভবকে মস্নান করতে পারে না। সত্যিকারের প্রিয়জন দূরে গেলেও প্রিয়ই থেকে যায়। উপন্যাসেও লেখক বর্ণনা করেন প্রিয়জনের এমনই দূরে যাওয়ার এক প্রতিচ্ছবি যেখানে প্রিয় মানুষ দূরে গেলে যেন অনুভূতিগুলো আরো বেসামাল হয়ে উঠতে চায়। উপন্যাসেই দেখা যায় নায়ক তার নায়িকার চলে যাওয়ার আগমুহূর্তে বলে, 'আমি তোমাকে থামাতে আসিনি। সে অধিকারও আমার নেই। যেখানেই যাও, যত দূরে যাও, ভালো থেকো।' একজন প্রেমিকের এই চাওয়ার মূল্য কতখানি? এই অমীমাংসিত বিষয় আমলে নিয়েই এই সত্য অস্বীকার করা যায় না যে, চলে যাওয়া, কাছে আসা সবই প্রেমের এমন এক আস্ফালন যা মানুষের জীবনে গুরুত্বপূর্ণভাবেই অনুরণন তোলে। চলে যাওয়ার যন্ত্রণা বুকে নিয়েই মানুষ বাঁচতে চায় আবারো। লেখক সহজভাবে এরকমই এক বিয়োগান্ত কাহিনী বর্ণনা করেন। পাঠকের হৃদয়েও একধরনের বিয়োগান্ত অনুভবকে টেনে বের করে আনেন।
আর এটা বলা জরুরি যে, প্রেমের মিলনের অনুভূতি যেমন উন্মাদনার তেমনি বিয়োগান্ত বিষয়গুলোও ক্রিয়াশীল। এ উপন্যাসেও লেখক প্রেমের এমনই এক অপূর্ব কাহিনী উপস্থাপন করেন। যেখানে পাঠকেরও মন বিষাদগ্রস্ত হতে পারে অনুভূতির সঙ্গে মিশে। মোহাম্মদ আলী কাওসার আগামীতে আরো বেশি দক্ষতার স্বাক্ষর রাখবেন, আরো অনুভূতির ধারালো লেখনীতে পাঠককে তৃপ্ত করবেন_ সে প্রত্যাশাই রইল।
প্রকাশক : শোভা প্রকাশ
প্রচ্ছদ : সুখেন দাস, মূল্য : ১২৫ টাকা

ত্রিতাল
ত্রিতাল নাম শুনলেই গানের কথা মনে আসে। হয়তো কবির গানের প্রতিও দুর্বলতা আছে। কবি এই কাব্যগ্রন্থের শুরুতে নিজেই বলেছেন, 'কবিতা গান আবৃত্তি_ এ আমার নিত্য সহচর'। কবির জীবনের এ বিষয়গুলো ও নিত্যনৈমিত্তিক জীবনযাপনের অনুভূতি যখন কবিতায় আনেন তখন ব্যঞ্জনাময় হয়ে ওঠে কাব্যিক ধারায়। ত্রিতাল কাব্যগ্রন্থে কবি তার কবিতার উপজীব্য হিসেবে অভিমান, ভালোলাগা-মন্দলাগা, প্রগাঢ় অনুভূতির দোলাচল, বিদ্রোহ, জটিলতাসহ বিভিন্ন বিষয় হাজির করেন। জীবনের একেকটি অনুভবকে তিনি যেভাবে তার কবিতায় উপস্থাপন করেছেন তা প্রশংসার দাবিদার। যদিও এই পথের শেষ নেই। ক্রমাগত সাধনাই কবিকে আরো শানিত করে। কিন্তু এটা বলা যায় যে, তামান্না জেসমিনের কবিতার পরতে পরতে তার মেধার স্বাক্ষর মেলে। তার কবিতায় যে ছবি অাঁকতে চান তিনি, তা জীবন্ত হয়ে ওঠে অনুভূতিতে। তামান্না জেসমিনের প্রথম কবিতাতেই তিনি এক পৃথিবীর স্বপ্ন দেখেন যা বৈষম্যহীন। তিনি আহ্বান জানান_ 'এসো শান্তির মিছিলে যোগ দিই/এসো সাম্যের পৃথিবী গড়ি'।
কখনো কখনো কবি খুব সহজভাবে এমন এক বিষয়কে আনেন যা হয়তো খুবই চেনা, কিন্তু তিনি যখন কাব্যিক ধারায় তা উপস্থাপন করেন তখন যেন তা আরো বেশি সাবলীল হয়ে ওঠে। খুব অবলীলায় তিনি পরম সত্যকে সহজভাবে বলতে পারেন। 'চলে যায়' কবিতায় দেখা যায় তার উপস্থাপন_ 'যে চলে যায়/সে আর ফিরে আসে না/তাকে পিছু ডেকে/কোনো লাভ নেই' এরকম সত্যর এক অমোঘ উচ্চারণ কবি তামান্না জেসমিনের কবিতাকে ভিন্ন মাত্রা এনে দেয়।
প্রকাশক : বাংলালিপি
প্রচ্ছদ : জুবায়ের কেওলিন
মূল্য : ৩০০ টাকা
আহমেদ নিলয়

ক্যামেরার পেছনের মানুষ
এবার বইমেলায় 'দেশ পাবলিকেশন্স' থেকে প্রকাশিত হয়েছে কথাশিল্পী আখতার জামানের তৃতীয় গল্পগ্রন্থ 'ক্যামেরার পেছনের মানুষ'। মোট সাতটি গল্পের সঙ্কলন এটি। আখতার জামানের গল্পে মধ্যবিত্ত জীবনের অস্তিত্বের সঙ্কট, আনন্দ-বেদনা, আশা-নিরাশার চিত্র স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সমাজ ও রাষ্ট্রে অসহায় ও বিচিত্র মানুষ তার গল্পে জায়গা করে নেয়। মানুষের লেবাসকে উন্মোচন করে, তার ভেতরের কদর্য ও সৌন্দর্যকে বের করে এনে পাঠকের সামনে প্রদর্শন করতে তিনি সিদ্ধহস্ত। গ্রন্থের প্রথম গল্প 'ডোম'। আমাদের সমাজে নিগৃহীত ডোমদের দুঃসহ জীবন ও প্রেম এবং বঞ্চনার চিত্র ফুটে উঠেছে এতে।
'বিবি চাপানো খেলা'য় চিত্রিত হয়েছে মফস্বলি রূপান্তরশীল জীবন। নগরায়ণের থাবায় গ্রাস হচ্ছে গ্রাম। ফলে চির চেনাজানা পরিবেশ ও মানুষজন বদলে গিয়ে অচেনা হয়ে উঠছে_ যা সত্যি উদ্বেগজনক।
ব্যঙ্গাত্মক ঢঙে লোভী, দুর্নীতিবাজ এক ভ- নেতার মুখোশ উন্মোচিত হয়েছে 'হা-মুখ' গল্পে। মৃত্যুর পরও যেন তার সবকিছু গ্রাস করার ইচ্ছা দূর হয় না। আরো খেতে চায় সে।
একজন বিখ্যাত কবির পরকীয়া প্রেম লক্ষ্যযোগ্য হয়ে ওঠে 'একটি ইঁদুর, বিড়াল ও দত্তক বালকপুত্রের গল্প'-এ।
নগরে ভদ্রতার মুখোশ পরে একশ্রেণির অর্থলোভী মানুষ পতিতাবৃত্তি ব্যবসা চালায়। গ্রামের অসহায় মেয়েরা তাদের নিষ্ঠুর শিকারে পরিণত হয়। এসব মেয়ের অন্তর্গত যন্ত্রণার গল্প 'কাকটা এখন শহরের পাখি'।
সমাজ ও রাষ্ট্রে নির্যাতিত, নিষ্পেষিত নিম্নবর্গীয় মানুষের অসহায়ত্ব, দুঃখ-কষ্টকে পুঁজি করে মিডিয়া ও মিডিয়াকর্মীরা লাভবান হলেও, সেই অসহায় মানুষের ভাগ্যের কোনোই পরিবর্তন হয় না। চিরকাল তারা পড়ে থাকে অন্ধকারে। 'ক্যামেরার পেছনের মানুষ'-এ সত্যই উন্মোচিত হয়েছে।
'হলুদ পাখি-নীল পাখি' গল্পে নারী ও অর্থলোভী মানুষের চরিত্র নিখুঁতভাবে চিত্রিত করেছেন আখতার জামান। মানুষের অসহায়ত্বকে এসব মানুষ সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করে স্বার্থ হাসিলের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে।
আগের গল্পগ্রন্থ দুটিতে আখতার জামান হুমায়ূন আহমেদ দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন। এ গ্রন্থে তিনি 'হুমায়ূন' মুক্ত হতে সর্বদা সতর্কদৃষ্টি রেখেছেন। তারপরও ছিটেফোঁটা প্রভাব থাকলেও থাকতে পারে। তবে সেটা তেমন দৃষ্টিগ্রাহ্য নয়। তার ভাষা গতিশীল। গল্পবয়নকৌশলে পাঠককে ধরে রাখার ক্ষমতা রাখে।
ক্যামেরার পেছনের মানুষ
আখতার জামান
দেশ পাবলিকেশন্স
প্রচ্ছদ _ মোস্তাফিজ কারিগর
মূল্য - ১৭০ টাকা।

সূর্যঘড়ি
'রাতের রূপ একবার যে দেখতে পেয়েছে তার কাছে সেটা উপেক্ষা করা প্রায় অসম্ভব। রাতের নিশ্ছিদ্র অন্ধকারের একটা রূপ আছে, শান্ত বাতাসের একটা মধুরতা আছে, নির্জন নৈঃশব্দ্যের একটা মাদকতা আছে... কল্পনার রাজপুত্রের কথা বাদ দিয়ে রাতের এই নির্জনে নাছিমা একাকী জেগে সঙ্গীর অপেক্ষায় মগ্ন হয়ে আছে...।' (সূর্যঘড়ি, পৃঃ ৪৮)
বইয়ের নাম সূর্যঘড়ি। লেখক নতুন। ইদানীং কলরব করে খুব দ্রুত জনপ্রিয় হতে চায় তরুণ লেখকরা। কিন্তু নীরব সাহিত্য সাধনার বিষয়টি উপেক্ষিত থেকে যায়। আবুল বাসারের এ বইটি পড়ে মনে হয়েছে, এই তরুণ যাপিত ও অনাগত সময়ের মাঝখানে দ্বিধার দোলাচলে দোলে। যায় দিন ভালো নাকি অপার সম্ভাবনায় আগামী আরো কল্যাণ নিয়ে আসবে আমাদের জীবনে! এ নিয়ে দ্বিধা। এই উপন্যাসের গল্পের পটভূমি ও কাহিনী প্রায় চলি্লশ বছর আগেকার সময়ের। যা পড়লে ফিরে যাবেন সেই জগতে, যা আপনি পেরিয়ে এসেছেন চলি্লশ বছর আগে। যখন আপনার বাবা-কাকারা লাঙ্গল-জোয়াল আর গরু দিয়ে জমিনে হালচাষ করতেন। এখন আপনি ইঞ্জিনচালিত ট্রাক্টরে খুব অল্প সময়ে হালচাষের কাজটা সেরে নেন। তখন চিঠির মাধ্যমেই দেশ-বিদেশে যোগাযোগ করা হতো। এখন এসএমএস, ইন্টারনেট, ফেসবুক, আর স্কাইপির মাধ্যমে যোগাযোগ করতে মাত্র কয়েক সেকেন্ডে সময় লাগে। সাদা-কালো টেলিভিশনটাতে অ্যালুমিনিয়ামের অ্যান্টেনায় সিলভারের পাতিলের ঢাকনা লাগিয়ে কত সাধনা করে বাংলাদেশ টেলিভিশনে বিভিন্ন প্রোগ্রাম দেখতে হতো, এখন ঘরে রঙিন টেলিভিশন আছে, স্যাটেলাইট সংযোগে কত চ্যানেল দেখা যায়! তখন হয়তো আপনি আপনার বাবার আঙুল ধরে হেঁটে হেঁটে গঞ্জের হাটে যেতেন, আর হাটের মধ্যস্থলে ডালপালা মেলে নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে থাকা বুড়ো বটবৃক্ষের তলে লোকজনের সঙ্গে মিলিত হয়ে সাপ-বেজিতে লড়াই দেখার প্রত্যাশায় বড় বড় দাড়ি-গোঁফওয়ালা একটি লোকের লেকচার শুনে মুগ্ধ হতেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও সাপ-বেজিতে লড়াই শুরু না করে লোকটি একটি চামড়ার ব্যাগ থেকে গাছের শেকড়-বাকড় দিয়ে তৈরি নানারকমের ওষুধ বিক্রি শুরু করতে দেখে বিরক্ত হয়ে বাড়ি ফিরে আসতেন। কখনো সময় গড়িয়ে সন্ধ্যা হয়ে যেত। অবশ্য তখন সময় বোঝার উপায় ছিল না। কারণ তখনও মানুষ খুব বেশি ঘড়ি ব্যবহার করতে শেখেনি। তাছাড়া ঘড়ি সহজলভ্যও ছিল না। তাই মানুষ সময় নির্ধারণ করত আকাশের বুকে সূর্যের অবস্থান দেখে। সূর্যঘড়িই ছিল সময় নির্ধারণের একমাত্র উপায়। চলি্লশ বছর আগেকার সেই সময়ের মানুষের জীবনযাপন, আচার-আচরণের চালচিত্র বর্ণিত হয়েছে এই উপন্যাসের কাহিনীতে। বইটি অমর একুশে গ্রন্থমেলায় প্রকাশ করেছে_
লেখক : আবুল বাসার
প্রকাশক : দি রয়েল পাবলিশার্স
প্রচ্ছদ : সহিদুল ইসলাম রনি
পৃষ্ঠা : ৮০, মূল্য : ১৫০ টাকা
সমীর আহমেদ
- See more at: http://www.jjdin.com/?view=details&archiev=yes&arch_date=24-02-2015&feature=yes&type=single&pub_no=1112&cat_id=3&menu_id=75&news_type_id=1&index=1#sthash.uHxGY7nK.dpuf
নতুন বইবায়োডাটা
রেজাউদ্দিন স্টালিন বর্তমান বাংলা কবিতার গুরুত্বপূর্ণ কণ্ঠস্বর। তার পুরাণমনস্ক ইতিহাসচেতনা আমাদের ভৌগোলিক সীমারেখাকে বিস্তৃত করে দেয়। এবারের একুশে বইমেলায় তার ৯টি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে 'বায়োডাটা' প্রকাশ করেছে কুঁড়েঘর প্রকাশনী। এ গ্রন্থের ৭২টি কবিতার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কবিতা বায়োডাটা, নিসিদ্ধ সংখ্যা, সময়ের গল্প, এক মৃত ব্যক্তির সাক্ষাৎকার ইত্যাদি। করপোরেট সংস্কৃতিতে বায়োডাটানির্ভর মানবজীবনের বিরুদ্ধে তিনি দ্রোহের বাণী উচ্চারণ করেছেন। তিনি বলেন, আমার আলাদা কোনো বায়োডাটা নেই/জন্মেছি মানুষ হিসেবে এই আমার বায়োডাটা। বর্তমান বিশ্বপরিপ্রেক্ষিত এবং সমাজ বাস্তবতায় রেজাউদ্দিন স্টালিনের কবিতা এক দায়বদ্ধ শিল্পের ইতিহাস। এই অস্থির সময়ের বিরুদ্ধে রেজাউদ্দিন স্টালিন অমোঘ উচ্চারণ আমাদের সচকিত করে। গবেষক ও লেখক অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী রেজাউদ্দিন স্টালিনের কবিতা সম্পর্কে বলেন_
<a href='http://bdads.bd-ads.com/ads/www/delivery/ck.php?n=a0d63775&amp;cb=INSERT_RANDOM_NUMBER_HERE' target='_blank'><img src='http://bdads.bd-ads.com/ads/www/delivery/avw.php?zoneid=79&amp;cb=INSERT_RANDOM_NUMBER_HERE&amp;n=a0d63775' border='0' alt='' /></a>
'রেজাউদ্দিন স্টালিনের জগৎটা আমাদের পরিচিত তার সীমানাটা আমরা জানি। কিন্তু ওই সীমানাটা এই কবি মানে না। নিজের শক্তিতে তাকে সে প্রসারিত করে নেয়। এবং একই সঙ্গে গভীরতাও সৃষ্টি করে। দেখার দৃষ্টি, অনুভবের শক্তি, কল্পনার ক্ষমতা, ভাবনার বৈশিষ্ট্য এবং উপস্থাপনার অনুশীলিত দক্ষতায় পরিচিত বিষয়গুলো নতুন হয়ে ওঠে। ওর কবিতায় স্থান আছে, রয়েছে বৃষ্টিভরা আকাশ, আছে আকাশ ও পৃথিবীর জানাজানি, রয়েছে আন্তর্জাতিক বিশ্ব। সব মিলিয়ে রেজাউদ্দিন স্টালিনের একটা নিজস্ব ও ভিন্ন রকমের জগৎ। স্টালিনের কবিতা এই সঙ্গে আত্মজৈবনিক ও সর্বজনীন।' রেজাউদ্দিন স্টালিন ইতোমধ্যেই এক অনুকরণীয় কণ্ঠস্বরে উন্নীত হয়েছেন। তার 'বায়োডাটা' এবারের বইমেলায় বহুল বিক্রয়ের তালিকায় রয়েছে। গ্রন্থটির প্রচ্ছদ এঁকেছেন মোস্তাফিজ কারিগর। মূল্য ১৩৫/- টাকা।
হাসনাত মোবারক


১০০০ অমৃত কথা
বাঙালির ইতিহাসে প্রবচনের বিশেষ গুরুত্ব আছে। আদিকাল থেকে বিভিন্ন প্রবচনের মাধ্যমে আমাদের শিক্ষার বিষয়টি প্রসারিত হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তির বর্তমান যুগেও আমরা ভুলে যাইনি বিভিন্ন প্রবচন। বাঙালির নিত্যজীবন যাপনে এখনো বাণী, প্রচবন কিংবা অমৃত কথার বিশেষ ভূমিকা আছে। প্রবচনের কথা আসতেই আমাদের মনে পড়ে খনার বচনের কথা। খনার বচন বা অমৃত কথা এখনো বাঙালির মুখে মুখে লেগে আছে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায় একটি বচন। যেমন_ 'কলা রুয়ে না কাট পাত/তাতেই কাপড় তাতেই ভাত'। একটি ছোট-অন্ত্যমিল সস্নোগানের মতো এটি। প্রতীকী এই বচনে ফুটে উঠেছে কলা চাষের যত্নের কথা। বাঙালির জীবনে খনার অন্য একটি বচন হলো_ 'যদি বর্ষে মাঘের শেষ/ধন্য রাজার পুণ্য দেশ'। খনা বচনের মাধ্যমে বাঙালি সমাজকে বিভিন্ন বিষয়ে সচেতন করেছেন।
সাংবাদিক, লেখক সালাম সালেহ উদদীন নিজেও হয়তো খনার বচন কিংবা অমৃত কথার দ্বারা বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত হয়েছেন। তারই ফল হলো তার লেখা ১০০০ অমৃত কথা। ৮০ পৃষ্ঠার এ বইয়ে মলাটবন্দি করেছেন ১০০০ অমৃত কথা, সমাজের প্রতিটি বিষয়কেই তিনি বচনের মাধ্যমে বিশ্লেষণ করেছেন। বইটির মলাট ওল্টাতেই চোখে পড়ে ফ্ল্যাপ। তাতে কয়েকটি অমৃত কথা রয়েছে। এগুলোকে ভূমিকা বচন বলা যেতে পারে। ভূমিকা বচনের শুরুটি হলো_ 'ফুলের সৌন্দর্য যে না বোঝে সে জীবনের সৌন্দর্য উপলব্ধি করতে পারে না'। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এমন বচন সাজানো হয়েছে। উল্লেখযোগ্য কয়েকটি অমৃত কথা পাঠকের জন্য বলে দিচ্ছি। ক্রমিক নাম্বার দিয়ে সাজানো এক নাম্বার অমৃত কথা হলো_ 'মানুষের কণ্ঠ ও চেহারা প্রত্যেকেরই প্রায় আলাদা_ এটা সৃষ্টির বিস্ময়। কিন্তু মানুষ যখন আপনজন দ্বারা প্রতারিত হয় তখন আরো বিস্ময় জাগে।' চার নাম্বার অমৃত কথা হলো_ 'ভাগ্যের অপর নাম চেষ্টা বা সংগ্রাম, কেবল ভাগ্যনির্ভর মানুষ অলস, অকর্মণ্য হয়। ভাগ্য এসে তখনই ধরা দেয় যখন মানুষ কঠোর পরিশ্রম করে। কেবল লটারিতে জিতে বা দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে হয়তো পরিশ্রম ছাড়া ভাগ্যের চাকা ঘোরানো সম্ভব। দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে আমাদের বদনাম রয়েছে। দুর্নীতির মাধ্যমে একশ্রেণির মানুষ ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়ে নিচ্ছে।' এই অমৃত কথা শতভাগ সত্য।
জন্মই আমার আজন্ম পাপ_ শিরোনামের একটি কাব্যগ্রন্থে কবির হতাশা প্রকাশিত হয়েছিল। আজও দেশের বেশির ভাগ মানুষ হতাশাগ্রস্ত। জীবনটাকে অনেকেই নাটক মনে করে বিশ্লেষণ করেন। আসলেই তৃতীয় বিশ্বের অধিবাসী আমরা সবাই নাটকে অভিনয় করে চলেছি। ৯৭ নাম্বার অমৃত কথা_ 'জীবন নাটকে আমরা কম-বেশি সবাই অভিনেতা, যিনি দক্ষ তিনিই সফল।' এ অমৃত কথা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় ভূপেন হাজারিকার বিখ্যাত গান_ 'জীবন নাটকের নাট্যকার বিধাতা...'। নগর জীবন নিয়ে তার অমৃত কথার ১২০-এ বলা হয়েছে_ 'নগর জীবনের অপর নাম নিষ্ঠুরতা আর অমানবিকতা। যারা এসব রপ্ত করতে পারেনি তারা গ্রাম্য।' এ অমৃত কথায় উঠে এসেছে শহরের মানুষের নিষ্ঠুরতার কথা, দিন দিন শহুরে মানুষের জীবনযাপন হয়ে উঠছে নিষ্ঠুর আর অমানবিক। ২৫৯ নাম্বার অমৃত কথা_ 'স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি যে দেশে নেই, সে দেশে বাস করা উচিত নয়।' এ অমৃত কথাটির বিশ্লেষণের প্রয়োজন নেই। কারণ তা আমরা নিত্যদিন টের পাচ্ছি। উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে ৫১৭টি অমৃত কথা শোভা প্রকাশ থেকে বের হয়েছে অমৃত কথা নামে।
পেশায় সাংবাদিক সালাম সালেহ উদদীন নিরন্তর লিখে চলেছেন। উপন্যাস, গল্প, কলামসহ সব ধরনের লেখা লিখছেন। ১০০০ অমৃত কথা তার একটি ব্যতিক্রমধর্মী প্রয়াস। আশা করি তার এ প্রচেষ্টা সফল হবে। পাঠক বইটিকে সাদরে গ্রহণ করবেন, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
১০০০ অমৃত কথা
সালাম সালেহ উদদীন, মিজান পাবলিশার্স
ফেব্রুয়ারি ২০১৫, মূল্য : ১২৫ টাকা
শহীদ খান

হৃদয় চিরিয়া যদি দেখাতে পারিতাম
উপন্যাস মূলত জীবনের বিশদ বিবরণ। আর সে জীবনেরই নৈমিত্তিক ঘটনাগুলোই যখন একজন লেখক তার উপলব্ধি এবং নিজস্ব ভাষার বুননে উপস্থাপন করেন। আর সেই অনুভূতির সঙ্গে পাঠক একাত্ম হয়, তখনই উপন্যাস পাঠের যে মুগ্ধতা, তা বোঝা যায়। মঈনুদ্দিন কাজলও 'হৃদয় চিরিয়া যদি দেখাতে পারিতাম' উপন্যাসে কাহিনীকে এমনভাবে বিন্যস্তত্ম করতে প্রয়াসী হয়ে ওঠেন যে, সেই কাহিনীর সাবলীল উপস্থাপন আমাদের অনুভূতিতে চেনা-অচেনার দোলাচলে ক্রিয়াশীল হয়ে ওঠে। উপন্যাসে সমাজ, জীবন, বাস্তবতার সংঘাত, টানাপড়েন এবং নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনাগুলো যখন স্বতঃস্ফূর্ত প্রকাশে জীবন্ত হয়ে ওঠে আর অনুভূতিকে উস্কে দেয়; তখন তার মধ্য দিয়ে পাঠকের মনেও একেকটি দৃশ্যের অবতারণা হয়। একেকটি অংশ হয়ে ওঠে। এটা অস্বীকারের সুযোগ নেই যে, আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের বিভিন্ন অনুষঙ্গের মধ্যেও অপরিহার্য বিষয় হয়ে ওঠে 'প্রেম'। এই প্রেম নিয়ে কল্পকথা, কত কাহিনী, আবেগ, কবিতা, গান, ছবি। যেন প্রেমের ক্রিয়াশীল এই অনুভূতির ব্যঞ্জনা শেষ হয় না কখনো। যেন তার শেষও নেই কোনো। সময় বয়ে গেলেও বার বার প্রেম উজ্জীবিত হয়ে ওঠে। রহস্যাবৃত হয়ে ওঠে এমনভাবে যে, তার কোনো আবেদনই শেষ হয় না। সবকিছু বদলে গেলেও, মানুষের পাওয়ার যে আকাঙ্ক্ষা, যে বাসনা হৃদয়ে প্রজ্বলিত তা স্তিমিত হতে চায় না। মঈনুদ্দিন কাজলও প্রেমের এমনই এক কাহিনী তুলে ধরেন যেখানে পাওয়ার তীব্র বাসনা জেগে থাকে।
এই অপরিহার্য বাস্তবতাতেই আমরা মঈনুদ্দিন কাজলের উপন্যাসে লক্ষ্য করি, প্রেমের সরল উপাখ্যান যেখানে ভালোবেসে পাওয়ার এক তীব্র বাসনা স্পষ্ট। যেখানে সাবরিনা রায়হানের কথা ভাবে, তখন ভাবে_ যখন আকাশে পূর্ণিমার চাঁদ জ্বলজ্বল করছে। আর সেই আলো সবখানে ছড়িয়ে পড়েছে। এমন এক মায়াময় পরিস্থিতির মধ্যেই যে ভালোবাসার মানুষটির কথা ভাবনায় আসে, এ আবেগকে উপস্থাপনের মধ্য দিয়েই শুরু হয় উপন্যাসের। এরপর বিভিন্ন ঘটনার মধ্য দিয়ে এড়িয়ে যেতে থাকে কাহিনী। হাতে হাত, ভালোবাসার মানুষের সানি্নধ্য, পরস্পরের কাছে আসার তীব্রতা এ সবই। আর এসব উপস্থাপনের মধ্য দিয়েই লেখক যেন এমন এক দৃশ্য তুলে আনেন তা পাঠকের হৃদয়কেও আন্দোলিত করে। কাহিনীর ভেতরে যে বোধ তা প্রাত্যহিক ঘটমান বিষয়গুলোকেই নতুন উন্মাদনায় প্রতিস্থাপন করতে চায় পাঠকের মননে। উপন্যাসের নায়ক অসুস্থ হয়েও হাসপাতালে যখন অপারেশন করবে তখন তার কাছে জীবনের ভয়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে প্রিয় মানুষটির মুখ। যদি রায়হান মারা যায় তবে সাবরিনার কী হবে? এমন প্রেমের অনুভূতি সত্যিই জীবনের পরতে পরতে এক অপূর্ব দোলাচলে উন্মাদ করে দেয় মনকে। মঈনুদ্দিন কাজলের এই পথচলা আরো সুদূর হোক। তার জন্য শুভ কামনা।
প্রকাশক : রিদম প্রকাশনা সংস্থা
প্রচ্ছদ : মোমিন উদ্দীন খালেদ
মূল্য : ১৫০ টাকা

যত দূরে যাও
'যত দূরে যাও' উপন্যাসের নামকরণের মধ্য দিয়েই প্রিয়জনের দূরে চলে যাওয়ার এক হাহাকারের ছবি ভেসে ওঠে। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে এই প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিতও থাকে যে, দূরত্বও প্রেমের কাছে কিছু নয়! অর্থাৎ দূরত্ব প্রেমের অনুভবকে মস্নান করতে পারে না। সত্যিকারের প্রিয়জন দূরে গেলেও প্রিয়ই থেকে যায়। উপন্যাসেও লেখক বর্ণনা করেন প্রিয়জনের এমনই দূরে যাওয়ার এক প্রতিচ্ছবি যেখানে প্রিয় মানুষ দূরে গেলে যেন অনুভূতিগুলো আরো বেসামাল হয়ে উঠতে চায়। উপন্যাসেই দেখা যায় নায়ক তার নায়িকার চলে যাওয়ার আগমুহূর্তে বলে, 'আমি তোমাকে থামাতে আসিনি। সে অধিকারও আমার নেই। যেখানেই যাও, যত দূরে যাও, ভালো থেকো।' একজন প্রেমিকের এই চাওয়ার মূল্য কতখানি? এই অমীমাংসিত বিষয় আমলে নিয়েই এই সত্য অস্বীকার করা যায় না যে, চলে যাওয়া, কাছে আসা সবই প্রেমের এমন এক আস্ফালন যা মানুষের জীবনে গুরুত্বপূর্ণভাবেই অনুরণন তোলে। চলে যাওয়ার যন্ত্রণা বুকে নিয়েই মানুষ বাঁচতে চায় আবারো। লেখক সহজভাবে এরকমই এক বিয়োগান্ত কাহিনী বর্ণনা করেন। পাঠকের হৃদয়েও একধরনের বিয়োগান্ত অনুভবকে টেনে বের করে আনেন।
আর এটা বলা জরুরি যে, প্রেমের মিলনের অনুভূতি যেমন উন্মাদনার তেমনি বিয়োগান্ত বিষয়গুলোও ক্রিয়াশীল। এ উপন্যাসেও লেখক প্রেমের এমনই এক অপূর্ব কাহিনী উপস্থাপন করেন। যেখানে পাঠকেরও মন বিষাদগ্রস্ত হতে পারে অনুভূতির সঙ্গে মিশে। মোহাম্মদ আলী কাওসার আগামীতে আরো বেশি দক্ষতার স্বাক্ষর রাখবেন, আরো অনুভূতির ধারালো লেখনীতে পাঠককে তৃপ্ত করবেন_ সে প্রত্যাশাই রইল।
প্রকাশক : শোভা প্রকাশ
প্রচ্ছদ : সুখেন দাস, মূল্য : ১২৫ টাকা

ত্রিতাল
ত্রিতাল নাম শুনলেই গানের কথা মনে আসে। হয়তো কবির গানের প্রতিও দুর্বলতা আছে। কবি এই কাব্যগ্রন্থের শুরুতে নিজেই বলেছেন, 'কবিতা গান আবৃত্তি_ এ আমার নিত্য সহচর'। কবির জীবনের এ বিষয়গুলো ও নিত্যনৈমিত্তিক জীবনযাপনের অনুভূতি যখন কবিতায় আনেন তখন ব্যঞ্জনাময় হয়ে ওঠে কাব্যিক ধারায়। ত্রিতাল কাব্যগ্রন্থে কবি তার কবিতার উপজীব্য হিসেবে অভিমান, ভালোলাগা-মন্দলাগা, প্রগাঢ় অনুভূতির দোলাচল, বিদ্রোহ, জটিলতাসহ বিভিন্ন বিষয় হাজির করেন। জীবনের একেকটি অনুভবকে তিনি যেভাবে তার কবিতায় উপস্থাপন করেছেন তা প্রশংসার দাবিদার। যদিও এই পথের শেষ নেই। ক্রমাগত সাধনাই কবিকে আরো শানিত করে। কিন্তু এটা বলা যায় যে, তামান্না জেসমিনের কবিতার পরতে পরতে তার মেধার স্বাক্ষর মেলে। তার কবিতায় যে ছবি অাঁকতে চান তিনি, তা জীবন্ত হয়ে ওঠে অনুভূতিতে। তামান্না জেসমিনের প্রথম কবিতাতেই তিনি এক পৃথিবীর স্বপ্ন দেখেন যা বৈষম্যহীন। তিনি আহ্বান জানান_ 'এসো শান্তির মিছিলে যোগ দিই/এসো সাম্যের পৃথিবী গড়ি'।
কখনো কখনো কবি খুব সহজভাবে এমন এক বিষয়কে আনেন যা হয়তো খুবই চেনা, কিন্তু তিনি যখন কাব্যিক ধারায় তা উপস্থাপন করেন তখন যেন তা আরো বেশি সাবলীল হয়ে ওঠে। খুব অবলীলায় তিনি পরম সত্যকে সহজভাবে বলতে পারেন। 'চলে যায়' কবিতায় দেখা যায় তার উপস্থাপন_ 'যে চলে যায়/সে আর ফিরে আসে না/তাকে পিছু ডেকে/কোনো লাভ নেই' এরকম সত্যর এক অমোঘ উচ্চারণ কবি তামান্না জেসমিনের কবিতাকে ভিন্ন মাত্রা এনে দেয়।
প্রকাশক : বাংলালিপি
প্রচ্ছদ : জুবায়ের কেওলিন
মূল্য : ৩০০ টাকা
আহমেদ নিলয়

ক্যামেরার পেছনের মানুষ
এবার বইমেলায় 'দেশ পাবলিকেশন্স' থেকে প্রকাশিত হয়েছে কথাশিল্পী আখতার জামানের তৃতীয় গল্পগ্রন্থ 'ক্যামেরার পেছনের মানুষ'। মোট সাতটি গল্পের সঙ্কলন এটি। আখতার জামানের গল্পে মধ্যবিত্ত জীবনের অস্তিত্বের সঙ্কট, আনন্দ-বেদনা, আশা-নিরাশার চিত্র স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সমাজ ও রাষ্ট্রে অসহায় ও বিচিত্র মানুষ তার গল্পে জায়গা করে নেয়। মানুষের লেবাসকে উন্মোচন করে, তার ভেতরের কদর্য ও সৌন্দর্যকে বের করে এনে পাঠকের সামনে প্রদর্শন করতে তিনি সিদ্ধহস্ত। গ্রন্থের প্রথম গল্প 'ডোম'। আমাদের সমাজে নিগৃহীত ডোমদের দুঃসহ জীবন ও প্রেম এবং বঞ্চনার চিত্র ফুটে উঠেছে এতে।
'বিবি চাপানো খেলা'য় চিত্রিত হয়েছে মফস্বলি রূপান্তরশীল জীবন। নগরায়ণের থাবায় গ্রাস হচ্ছে গ্রাম। ফলে চির চেনাজানা পরিবেশ ও মানুষজন বদলে গিয়ে অচেনা হয়ে উঠছে_ যা সত্যি উদ্বেগজনক।
ব্যঙ্গাত্মক ঢঙে লোভী, দুর্নীতিবাজ এক ভ- নেতার মুখোশ উন্মোচিত হয়েছে 'হা-মুখ' গল্পে। মৃত্যুর পরও যেন তার সবকিছু গ্রাস করার ইচ্ছা দূর হয় না। আরো খেতে চায় সে।
একজন বিখ্যাত কবির পরকীয়া প্রেম লক্ষ্যযোগ্য হয়ে ওঠে 'একটি ইঁদুর, বিড়াল ও দত্তক বালকপুত্রের গল্প'-এ।
নগরে ভদ্রতার মুখোশ পরে একশ্রেণির অর্থলোভী মানুষ পতিতাবৃত্তি ব্যবসা চালায়। গ্রামের অসহায় মেয়েরা তাদের নিষ্ঠুর শিকারে পরিণত হয়। এসব মেয়ের অন্তর্গত যন্ত্রণার গল্প 'কাকটা এখন শহরের পাখি'।
সমাজ ও রাষ্ট্রে নির্যাতিত, নিষ্পেষিত নিম্নবর্গীয় মানুষের অসহায়ত্ব, দুঃখ-কষ্টকে পুঁজি করে মিডিয়া ও মিডিয়াকর্মীরা লাভবান হলেও, সেই অসহায় মানুষের ভাগ্যের কোনোই পরিবর্তন হয় না। চিরকাল তারা পড়ে থাকে অন্ধকারে। 'ক্যামেরার পেছনের মানুষ'-এ সত্যই উন্মোচিত হয়েছে।
'হলুদ পাখি-নীল পাখি' গল্পে নারী ও অর্থলোভী মানুষের চরিত্র নিখুঁতভাবে চিত্রিত করেছেন আখতার জামান। মানুষের অসহায়ত্বকে এসব মানুষ সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করে স্বার্থ হাসিলের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে।
আগের গল্পগ্রন্থ দুটিতে আখতার জামান হুমায়ূন আহমেদ দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন। এ গ্রন্থে তিনি 'হুমায়ূন' মুক্ত হতে সর্বদা সতর্কদৃষ্টি রেখেছেন। তারপরও ছিটেফোঁটা প্রভাব থাকলেও থাকতে পারে। তবে সেটা তেমন দৃষ্টিগ্রাহ্য নয়। তার ভাষা গতিশীল। গল্পবয়নকৌশলে পাঠককে ধরে রাখার ক্ষমতা রাখে।
ক্যামেরার পেছনের মানুষ
আখতার জামান
দেশ পাবলিকেশন্স
প্রচ্ছদ _ মোস্তাফিজ কারিগর
মূল্য - ১৭০ টাকা।

সূর্যঘড়ি
'রাতের রূপ একবার যে দেখতে পেয়েছে তার কাছে সেটা উপেক্ষা করা প্রায় অসম্ভব। রাতের নিশ্ছিদ্র অন্ধকারের একটা রূপ আছে, শান্ত বাতাসের একটা মধুরতা আছে, নির্জন নৈঃশব্দ্যের একটা মাদকতা আছে... কল্পনার রাজপুত্রের কথা বাদ দিয়ে রাতের এই নির্জনে নাছিমা একাকী জেগে সঙ্গীর অপেক্ষায় মগ্ন হয়ে আছে...।' (সূর্যঘড়ি, পৃঃ ৪৮)
বইয়ের নাম সূর্যঘড়ি। লেখক নতুন। ইদানীং কলরব করে খুব দ্রুত জনপ্রিয় হতে চায় তরুণ লেখকরা। কিন্তু নীরব সাহিত্য সাধনার বিষয়টি উপেক্ষিত থেকে যায়। আবুল বাসারের এ বইটি পড়ে মনে হয়েছে, এই তরুণ যাপিত ও অনাগত সময়ের মাঝখানে দ্বিধার দোলাচলে দোলে। যায় দিন ভালো নাকি অপার সম্ভাবনায় আগামী আরো কল্যাণ নিয়ে আসবে আমাদের জীবনে! এ নিয়ে দ্বিধা। এই উপন্যাসের গল্পের পটভূমি ও কাহিনী প্রায় চলি্লশ বছর আগেকার সময়ের। যা পড়লে ফিরে যাবেন সেই জগতে, যা আপনি পেরিয়ে এসেছেন চলি্লশ বছর আগে। যখন আপনার বাবা-কাকারা লাঙ্গল-জোয়াল আর গরু দিয়ে জমিনে হালচাষ করতেন। এখন আপনি ইঞ্জিনচালিত ট্রাক্টরে খুব অল্প সময়ে হালচাষের কাজটা সেরে নেন। তখন চিঠির মাধ্যমেই দেশ-বিদেশে যোগাযোগ করা হতো। এখন এসএমএস, ইন্টারনেট, ফেসবুক, আর স্কাইপির মাধ্যমে যোগাযোগ করতে মাত্র কয়েক সেকেন্ডে সময় লাগে। সাদা-কালো টেলিভিশনটাতে অ্যালুমিনিয়ামের অ্যান্টেনায় সিলভারের পাতিলের ঢাকনা লাগিয়ে কত সাধনা করে বাংলাদেশ টেলিভিশনে বিভিন্ন প্রোগ্রাম দেখতে হতো, এখন ঘরে রঙিন টেলিভিশন আছে, স্যাটেলাইট সংযোগে কত চ্যানেল দেখা যায়! তখন হয়তো আপনি আপনার বাবার আঙুল ধরে হেঁটে হেঁটে গঞ্জের হাটে যেতেন, আর হাটের মধ্যস্থলে ডালপালা মেলে নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে থাকা বুড়ো বটবৃক্ষের তলে লোকজনের সঙ্গে মিলিত হয়ে সাপ-বেজিতে লড়াই দেখার প্রত্যাশায় বড় বড় দাড়ি-গোঁফওয়ালা একটি লোকের লেকচার শুনে মুগ্ধ হতেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও সাপ-বেজিতে লড়াই শুরু না করে লোকটি একটি চামড়ার ব্যাগ থেকে গাছের শেকড়-বাকড় দিয়ে তৈরি নানারকমের ওষুধ বিক্রি শুরু করতে দেখে বিরক্ত হয়ে বাড়ি ফিরে আসতেন। কখনো সময় গড়িয়ে সন্ধ্যা হয়ে যেত। অবশ্য তখন সময় বোঝার উপায় ছিল না। কারণ তখনও মানুষ খুব বেশি ঘড়ি ব্যবহার করতে শেখেনি। তাছাড়া ঘড়ি সহজলভ্যও ছিল না। তাই মানুষ সময় নির্ধারণ করত আকাশের বুকে সূর্যের অবস্থান দেখে। সূর্যঘড়িই ছিল সময় নির্ধারণের একমাত্র উপায়। চলি্লশ বছর আগেকার সেই সময়ের মানুষের জীবনযাপন, আচার-আচরণের চালচিত্র বর্ণিত হয়েছে এই উপন্যাসের কাহিনীতে। বইটি অমর একুশে গ্রন্থমেলায় প্রকাশ করেছে_
লেখক : আবুল বাসার
প্রকাশক : দি রয়েল পাবলিশার্স
প্রচ্ছদ : সহিদুল ইসলাম রনি
পৃষ্ঠা : ৮০, মূল্য : ১৫০ টাকা
সমীর আহমেদ
- See more at: http://www.jjdin.com/?view=details&archiev=yes&arch_date=24-02-2015&feature=yes&type=single&pub_no=1112&cat_id=3&menu_id=75&news_type_id=1&index=1#sthash.uHxGY7nK.dpuf
নতুন বইবায়োডাটা
রেজাউদ্দিন স্টালিন বর্তমান বাংলা কবিতার গুরুত্বপূর্ণ কণ্ঠস্বর। তার পুরাণমনস্ক ইতিহাসচেতনা আমাদের ভৌগোলিক সীমারেখাকে বিস্তৃত করে দেয়। এবারের একুশে বইমেলায় তার ৯টি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে 'বায়োডাটা' প্রকাশ করেছে কুঁড়েঘর প্রকাশনী। এ গ্রন্থের ৭২টি কবিতার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কবিতা বায়োডাটা, নিসিদ্ধ সংখ্যা, সময়ের গল্প, এক মৃত ব্যক্তির সাক্ষাৎকার ইত্যাদি। করপোরেট সংস্কৃতিতে বায়োডাটানির্ভর মানবজীবনের বিরুদ্ধে তিনি দ্রোহের বাণী উচ্চারণ করেছেন। তিনি বলেন, আমার আলাদা কোনো বায়োডাটা নেই/জন্মেছি মানুষ হিসেবে এই আমার বায়োডাটা। বর্তমান বিশ্বপরিপ্রেক্ষিত এবং সমাজ বাস্তবতায় রেজাউদ্দিন স্টালিনের কবিতা এক দায়বদ্ধ শিল্পের ইতিহাস। এই অস্থির সময়ের বিরুদ্ধে রেজাউদ্দিন স্টালিন অমোঘ উচ্চারণ আমাদের সচকিত করে। গবেষক ও লেখক অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী রেজাউদ্দিন স্টালিনের কবিতা সম্পর্কে বলেন_
<a href='http://bdads.bd-ads.com/ads/www/delivery/ck.php?n=a0d63775&amp;cb=INSERT_RANDOM_NUMBER_HERE' target='_blank'><img src='http://bdads.bd-ads.com/ads/www/delivery/avw.php?zoneid=79&amp;cb=INSERT_RANDOM_NUMBER_HERE&amp;n=a0d63775' border='0' alt='' /></a>
'রেজাউদ্দিন স্টালিনের জগৎটা আমাদের পরিচিত তার সীমানাটা আমরা জানি। কিন্তু ওই সীমানাটা এই কবি মানে না। নিজের শক্তিতে তাকে সে প্রসারিত করে নেয়। এবং একই সঙ্গে গভীরতাও সৃষ্টি করে। দেখার দৃষ্টি, অনুভবের শক্তি, কল্পনার ক্ষমতা, ভাবনার বৈশিষ্ট্য এবং উপস্থাপনার অনুশীলিত দক্ষতায় পরিচিত বিষয়গুলো নতুন হয়ে ওঠে। ওর কবিতায় স্থান আছে, রয়েছে বৃষ্টিভরা আকাশ, আছে আকাশ ও পৃথিবীর জানাজানি, রয়েছে আন্তর্জাতিক বিশ্ব। সব মিলিয়ে রেজাউদ্দিন স্টালিনের একটা নিজস্ব ও ভিন্ন রকমের জগৎ। স্টালিনের কবিতা এই সঙ্গে আত্মজৈবনিক ও সর্বজনীন।' রেজাউদ্দিন স্টালিন ইতোমধ্যেই এক অনুকরণীয় কণ্ঠস্বরে উন্নীত হয়েছেন। তার 'বায়োডাটা' এবারের বইমেলায় বহুল বিক্রয়ের তালিকায় রয়েছে। গ্রন্থটির প্রচ্ছদ এঁকেছেন মোস্তাফিজ কারিগর। মূল্য ১৩৫/- টাকা।
হাসনাত মোবারক


১০০০ অমৃত কথা
বাঙালির ইতিহাসে প্রবচনের বিশেষ গুরুত্ব আছে। আদিকাল থেকে বিভিন্ন প্রবচনের মাধ্যমে আমাদের শিক্ষার বিষয়টি প্রসারিত হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তির বর্তমান যুগেও আমরা ভুলে যাইনি বিভিন্ন প্রবচন। বাঙালির নিত্যজীবন যাপনে এখনো বাণী, প্রচবন কিংবা অমৃত কথার বিশেষ ভূমিকা আছে। প্রবচনের কথা আসতেই আমাদের মনে পড়ে খনার বচনের কথা। খনার বচন বা অমৃত কথা এখনো বাঙালির মুখে মুখে লেগে আছে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায় একটি বচন। যেমন_ 'কলা রুয়ে না কাট পাত/তাতেই কাপড় তাতেই ভাত'। একটি ছোট-অন্ত্যমিল সস্নোগানের মতো এটি। প্রতীকী এই বচনে ফুটে উঠেছে কলা চাষের যত্নের কথা। বাঙালির জীবনে খনার অন্য একটি বচন হলো_ 'যদি বর্ষে মাঘের শেষ/ধন্য রাজার পুণ্য দেশ'। খনা বচনের মাধ্যমে বাঙালি সমাজকে বিভিন্ন বিষয়ে সচেতন করেছেন।
সাংবাদিক, লেখক সালাম সালেহ উদদীন নিজেও হয়তো খনার বচন কিংবা অমৃত কথার দ্বারা বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত হয়েছেন। তারই ফল হলো তার লেখা ১০০০ অমৃত কথা। ৮০ পৃষ্ঠার এ বইয়ে মলাটবন্দি করেছেন ১০০০ অমৃত কথা, সমাজের প্রতিটি বিষয়কেই তিনি বচনের মাধ্যমে বিশ্লেষণ করেছেন। বইটির মলাট ওল্টাতেই চোখে পড়ে ফ্ল্যাপ। তাতে কয়েকটি অমৃত কথা রয়েছে। এগুলোকে ভূমিকা বচন বলা যেতে পারে। ভূমিকা বচনের শুরুটি হলো_ 'ফুলের সৌন্দর্য যে না বোঝে সে জীবনের সৌন্দর্য উপলব্ধি করতে পারে না'। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এমন বচন সাজানো হয়েছে। উল্লেখযোগ্য কয়েকটি অমৃত কথা পাঠকের জন্য বলে দিচ্ছি। ক্রমিক নাম্বার দিয়ে সাজানো এক নাম্বার অমৃত কথা হলো_ 'মানুষের কণ্ঠ ও চেহারা প্রত্যেকেরই প্রায় আলাদা_ এটা সৃষ্টির বিস্ময়। কিন্তু মানুষ যখন আপনজন দ্বারা প্রতারিত হয় তখন আরো বিস্ময় জাগে।' চার নাম্বার অমৃত কথা হলো_ 'ভাগ্যের অপর নাম চেষ্টা বা সংগ্রাম, কেবল ভাগ্যনির্ভর মানুষ অলস, অকর্মণ্য হয়। ভাগ্য এসে তখনই ধরা দেয় যখন মানুষ কঠোর পরিশ্রম করে। কেবল লটারিতে জিতে বা দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে হয়তো পরিশ্রম ছাড়া ভাগ্যের চাকা ঘোরানো সম্ভব। দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে আমাদের বদনাম রয়েছে। দুর্নীতির মাধ্যমে একশ্রেণির মানুষ ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়ে নিচ্ছে।' এই অমৃত কথা শতভাগ সত্য।
জন্মই আমার আজন্ম পাপ_ শিরোনামের একটি কাব্যগ্রন্থে কবির হতাশা প্রকাশিত হয়েছিল। আজও দেশের বেশির ভাগ মানুষ হতাশাগ্রস্ত। জীবনটাকে অনেকেই নাটক মনে করে বিশ্লেষণ করেন। আসলেই তৃতীয় বিশ্বের অধিবাসী আমরা সবাই নাটকে অভিনয় করে চলেছি। ৯৭ নাম্বার অমৃত কথা_ 'জীবন নাটকে আমরা কম-বেশি সবাই অভিনেতা, যিনি দক্ষ তিনিই সফল।' এ অমৃত কথা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় ভূপেন হাজারিকার বিখ্যাত গান_ 'জীবন নাটকের নাট্যকার বিধাতা...'। নগর জীবন নিয়ে তার অমৃত কথার ১২০-এ বলা হয়েছে_ 'নগর জীবনের অপর নাম নিষ্ঠুরতা আর অমানবিকতা। যারা এসব রপ্ত করতে পারেনি তারা গ্রাম্য।' এ অমৃত কথায় উঠে এসেছে শহরের মানুষের নিষ্ঠুরতার কথা, দিন দিন শহুরে মানুষের জীবনযাপন হয়ে উঠছে নিষ্ঠুর আর অমানবিক। ২৫৯ নাম্বার অমৃত কথা_ 'স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি যে দেশে নেই, সে দেশে বাস করা উচিত নয়।' এ অমৃত কথাটির বিশ্লেষণের প্রয়োজন নেই। কারণ তা আমরা নিত্যদিন টের পাচ্ছি। উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে ৫১৭টি অমৃত কথা শোভা প্রকাশ থেকে বের হয়েছে অমৃত কথা নামে।
পেশায় সাংবাদিক সালাম সালেহ উদদীন নিরন্তর লিখে চলেছেন। উপন্যাস, গল্প, কলামসহ সব ধরনের লেখা লিখছেন। ১০০০ অমৃত কথা তার একটি ব্যতিক্রমধর্মী প্রয়াস। আশা করি তার এ প্রচেষ্টা সফল হবে। পাঠক বইটিকে সাদরে গ্রহণ করবেন, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
১০০০ অমৃত কথা
সালাম সালেহ উদদীন, মিজান পাবলিশার্স
ফেব্রুয়ারি ২০১৫, মূল্য : ১২৫ টাকা
শহীদ খান

হৃদয় চিরিয়া যদি দেখাতে পারিতাম
উপন্যাস মূলত জীবনের বিশদ বিবরণ। আর সে জীবনেরই নৈমিত্তিক ঘটনাগুলোই যখন একজন লেখক তার উপলব্ধি এবং নিজস্ব ভাষার বুননে উপস্থাপন করেন। আর সেই অনুভূতির সঙ্গে পাঠক একাত্ম হয়, তখনই উপন্যাস পাঠের যে মুগ্ধতা, তা বোঝা যায়। মঈনুদ্দিন কাজলও 'হৃদয় চিরিয়া যদি দেখাতে পারিতাম' উপন্যাসে কাহিনীকে এমনভাবে বিন্যস্তত্ম করতে প্রয়াসী হয়ে ওঠেন যে, সেই কাহিনীর সাবলীল উপস্থাপন আমাদের অনুভূতিতে চেনা-অচেনার দোলাচলে ক্রিয়াশীল হয়ে ওঠে। উপন্যাসে সমাজ, জীবন, বাস্তবতার সংঘাত, টানাপড়েন এবং নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনাগুলো যখন স্বতঃস্ফূর্ত প্রকাশে জীবন্ত হয়ে ওঠে আর অনুভূতিকে উস্কে দেয়; তখন তার মধ্য দিয়ে পাঠকের মনেও একেকটি দৃশ্যের অবতারণা হয়। একেকটি অংশ হয়ে ওঠে। এটা অস্বীকারের সুযোগ নেই যে, আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের বিভিন্ন অনুষঙ্গের মধ্যেও অপরিহার্য বিষয় হয়ে ওঠে 'প্রেম'। এই প্রেম নিয়ে কল্পকথা, কত কাহিনী, আবেগ, কবিতা, গান, ছবি। যেন প্রেমের ক্রিয়াশীল এই অনুভূতির ব্যঞ্জনা শেষ হয় না কখনো। যেন তার শেষও নেই কোনো। সময় বয়ে গেলেও বার বার প্রেম উজ্জীবিত হয়ে ওঠে। রহস্যাবৃত হয়ে ওঠে এমনভাবে যে, তার কোনো আবেদনই শেষ হয় না। সবকিছু বদলে গেলেও, মানুষের পাওয়ার যে আকাঙ্ক্ষা, যে বাসনা হৃদয়ে প্রজ্বলিত তা স্তিমিত হতে চায় না। মঈনুদ্দিন কাজলও প্রেমের এমনই এক কাহিনী তুলে ধরেন যেখানে পাওয়ার তীব্র বাসনা জেগে থাকে।
এই অপরিহার্য বাস্তবতাতেই আমরা মঈনুদ্দিন কাজলের উপন্যাসে লক্ষ্য করি, প্রেমের সরল উপাখ্যান যেখানে ভালোবেসে পাওয়ার এক তীব্র বাসনা স্পষ্ট। যেখানে সাবরিনা রায়হানের কথা ভাবে, তখন ভাবে_ যখন আকাশে পূর্ণিমার চাঁদ জ্বলজ্বল করছে। আর সেই আলো সবখানে ছড়িয়ে পড়েছে। এমন এক মায়াময় পরিস্থিতির মধ্যেই যে ভালোবাসার মানুষটির কথা ভাবনায় আসে, এ আবেগকে উপস্থাপনের মধ্য দিয়েই শুরু হয় উপন্যাসের। এরপর বিভিন্ন ঘটনার মধ্য দিয়ে এড়িয়ে যেতে থাকে কাহিনী। হাতে হাত, ভালোবাসার মানুষের সানি্নধ্য, পরস্পরের কাছে আসার তীব্রতা এ সবই। আর এসব উপস্থাপনের মধ্য দিয়েই লেখক যেন এমন এক দৃশ্য তুলে আনেন তা পাঠকের হৃদয়কেও আন্দোলিত করে। কাহিনীর ভেতরে যে বোধ তা প্রাত্যহিক ঘটমান বিষয়গুলোকেই নতুন উন্মাদনায় প্রতিস্থাপন করতে চায় পাঠকের মননে। উপন্যাসের নায়ক অসুস্থ হয়েও হাসপাতালে যখন অপারেশন করবে তখন তার কাছে জীবনের ভয়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে প্রিয় মানুষটির মুখ। যদি রায়হান মারা যায় তবে সাবরিনার কী হবে? এমন প্রেমের অনুভূতি সত্যিই জীবনের পরতে পরতে এক অপূর্ব দোলাচলে উন্মাদ করে দেয় মনকে। মঈনুদ্দিন কাজলের এই পথচলা আরো সুদূর হোক। তার জন্য শুভ কামনা।
প্রকাশক : রিদম প্রকাশনা সংস্থা
প্রচ্ছদ : মোমিন উদ্দীন খালেদ
মূল্য : ১৫০ টাকা

যত দূরে যাও
'যত দূরে যাও' উপন্যাসের নামকরণের মধ্য দিয়েই প্রিয়জনের দূরে চলে যাওয়ার এক হাহাকারের ছবি ভেসে ওঠে। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে এই প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিতও থাকে যে, দূরত্বও প্রেমের কাছে কিছু নয়! অর্থাৎ দূরত্ব প্রেমের অনুভবকে মস্নান করতে পারে না। সত্যিকারের প্রিয়জন দূরে গেলেও প্রিয়ই থেকে যায়। উপন্যাসেও লেখক বর্ণনা করেন প্রিয়জনের এমনই দূরে যাওয়ার এক প্রতিচ্ছবি যেখানে প্রিয় মানুষ দূরে গেলে যেন অনুভূতিগুলো আরো বেসামাল হয়ে উঠতে চায়। উপন্যাসেই দেখা যায় নায়ক তার নায়িকার চলে যাওয়ার আগমুহূর্তে বলে, 'আমি তোমাকে থামাতে আসিনি। সে অধিকারও আমার নেই। যেখানেই যাও, যত দূরে যাও, ভালো থেকো।' একজন প্রেমিকের এই চাওয়ার মূল্য কতখানি? এই অমীমাংসিত বিষয় আমলে নিয়েই এই সত্য অস্বীকার করা যায় না যে, চলে যাওয়া, কাছে আসা সবই প্রেমের এমন এক আস্ফালন যা মানুষের জীবনে গুরুত্বপূর্ণভাবেই অনুরণন তোলে। চলে যাওয়ার যন্ত্রণা বুকে নিয়েই মানুষ বাঁচতে চায় আবারো। লেখক সহজভাবে এরকমই এক বিয়োগান্ত কাহিনী বর্ণনা করেন। পাঠকের হৃদয়েও একধরনের বিয়োগান্ত অনুভবকে টেনে বের করে আনেন।
আর এটা বলা জরুরি যে, প্রেমের মিলনের অনুভূতি যেমন উন্মাদনার তেমনি বিয়োগান্ত বিষয়গুলোও ক্রিয়াশীল। এ উপন্যাসেও লেখক প্রেমের এমনই এক অপূর্ব কাহিনী উপস্থাপন করেন। যেখানে পাঠকেরও মন বিষাদগ্রস্ত হতে পারে অনুভূতির সঙ্গে মিশে। মোহাম্মদ আলী কাওসার আগামীতে আরো বেশি দক্ষতার স্বাক্ষর রাখবেন, আরো অনুভূতির ধারালো লেখনীতে পাঠককে তৃপ্ত করবেন_ সে প্রত্যাশাই রইল।
প্রকাশক : শোভা প্রকাশ
প্রচ্ছদ : সুখেন দাস, মূল্য : ১২৫ টাকা

ত্রিতাল
ত্রিতাল নাম শুনলেই গানের কথা মনে আসে। হয়তো কবির গানের প্রতিও দুর্বলতা আছে। কবি এই কাব্যগ্রন্থের শুরুতে নিজেই বলেছেন, 'কবিতা গান আবৃত্তি_ এ আমার নিত্য সহচর'। কবির জীবনের এ বিষয়গুলো ও নিত্যনৈমিত্তিক জীবনযাপনের অনুভূতি যখন কবিতায় আনেন তখন ব্যঞ্জনাময় হয়ে ওঠে কাব্যিক ধারায়। ত্রিতাল কাব্যগ্রন্থে কবি তার কবিতার উপজীব্য হিসেবে অভিমান, ভালোলাগা-মন্দলাগা, প্রগাঢ় অনুভূতির দোলাচল, বিদ্রোহ, জটিলতাসহ বিভিন্ন বিষয় হাজির করেন। জীবনের একেকটি অনুভবকে তিনি যেভাবে তার কবিতায় উপস্থাপন করেছেন তা প্রশংসার দাবিদার। যদিও এই পথের শেষ নেই। ক্রমাগত সাধনাই কবিকে আরো শানিত করে। কিন্তু এটা বলা যায় যে, তামান্না জেসমিনের কবিতার পরতে পরতে তার মেধার স্বাক্ষর মেলে। তার কবিতায় যে ছবি অাঁকতে চান তিনি, তা জীবন্ত হয়ে ওঠে অনুভূতিতে। তামান্না জেসমিনের প্রথম কবিতাতেই তিনি এক পৃথিবীর স্বপ্ন দেখেন যা বৈষম্যহীন। তিনি আহ্বান জানান_ 'এসো শান্তির মিছিলে যোগ দিই/এসো সাম্যের পৃথিবী গড়ি'।
কখনো কখনো কবি খুব সহজভাবে এমন এক বিষয়কে আনেন যা হয়তো খুবই চেনা, কিন্তু তিনি যখন কাব্যিক ধারায় তা উপস্থাপন করেন তখন যেন তা আরো বেশি সাবলীল হয়ে ওঠে। খুব অবলীলায় তিনি পরম সত্যকে সহজভাবে বলতে পারেন। 'চলে যায়' কবিতায় দেখা যায় তার উপস্থাপন_ 'যে চলে যায়/সে আর ফিরে আসে না/তাকে পিছু ডেকে/কোনো লাভ নেই' এরকম সত্যর এক অমোঘ উচ্চারণ কবি তামান্না জেসমিনের কবিতাকে ভিন্ন মাত্রা এনে দেয়।
প্রকাশক : বাংলালিপি
প্রচ্ছদ : জুবায়ের কেওলিন
মূল্য : ৩০০ টাকা
আহমেদ নিলয়

ক্যামেরার পেছনের মানুষ
এবার বইমেলায় 'দেশ পাবলিকেশন্স' থেকে প্রকাশিত হয়েছে কথাশিল্পী আখতার জামানের তৃতীয় গল্পগ্রন্থ 'ক্যামেরার পেছনের মানুষ'। মোট সাতটি গল্পের সঙ্কলন এটি। আখতার জামানের গল্পে মধ্যবিত্ত জীবনের অস্তিত্বের সঙ্কট, আনন্দ-বেদনা, আশা-নিরাশার চিত্র স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সমাজ ও রাষ্ট্রে অসহায় ও বিচিত্র মানুষ তার গল্পে জায়গা করে নেয়। মানুষের লেবাসকে উন্মোচন করে, তার ভেতরের কদর্য ও সৌন্দর্যকে বের করে এনে পাঠকের সামনে প্রদর্শন করতে তিনি সিদ্ধহস্ত। গ্রন্থের প্রথম গল্প 'ডোম'। আমাদের সমাজে নিগৃহীত ডোমদের দুঃসহ জীবন ও প্রেম এবং বঞ্চনার চিত্র ফুটে উঠেছে এতে।
'বিবি চাপানো খেলা'য় চিত্রিত হয়েছে মফস্বলি রূপান্তরশীল জীবন। নগরায়ণের থাবায় গ্রাস হচ্ছে গ্রাম। ফলে চির চেনাজানা পরিবেশ ও মানুষজন বদলে গিয়ে অচেনা হয়ে উঠছে_ যা সত্যি উদ্বেগজনক।
ব্যঙ্গাত্মক ঢঙে লোভী, দুর্নীতিবাজ এক ভ- নেতার মুখোশ উন্মোচিত হয়েছে 'হা-মুখ' গল্পে। মৃত্যুর পরও যেন তার সবকিছু গ্রাস করার ইচ্ছা দূর হয় না। আরো খেতে চায় সে।
একজন বিখ্যাত কবির পরকীয়া প্রেম লক্ষ্যযোগ্য হয়ে ওঠে 'একটি ইঁদুর, বিড়াল ও দত্তক বালকপুত্রের গল্প'-এ।
নগরে ভদ্রতার মুখোশ পরে একশ্রেণির অর্থলোভী মানুষ পতিতাবৃত্তি ব্যবসা চালায়। গ্রামের অসহায় মেয়েরা তাদের নিষ্ঠুর শিকারে পরিণত হয়। এসব মেয়ের অন্তর্গত যন্ত্রণার গল্প 'কাকটা এখন শহরের পাখি'।
সমাজ ও রাষ্ট্রে নির্যাতিত, নিষ্পেষিত নিম্নবর্গীয় মানুষের অসহায়ত্ব, দুঃখ-কষ্টকে পুঁজি করে মিডিয়া ও মিডিয়াকর্মীরা লাভবান হলেও, সেই অসহায় মানুষের ভাগ্যের কোনোই পরিবর্তন হয় না। চিরকাল তারা পড়ে থাকে অন্ধকারে। 'ক্যামেরার পেছনের মানুষ'-এ সত্যই উন্মোচিত হয়েছে।
'হলুদ পাখি-নীল পাখি' গল্পে নারী ও অর্থলোভী মানুষের চরিত্র নিখুঁতভাবে চিত্রিত করেছেন আখতার জামান। মানুষের অসহায়ত্বকে এসব মানুষ সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করে স্বার্থ হাসিলের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে।
আগের গল্পগ্রন্থ দুটিতে আখতার জামান হুমায়ূন আহমেদ দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন। এ গ্রন্থে তিনি 'হুমায়ূন' মুক্ত হতে সর্বদা সতর্কদৃষ্টি রেখেছেন। তারপরও ছিটেফোঁটা প্রভাব থাকলেও থাকতে পারে। তবে সেটা তেমন দৃষ্টিগ্রাহ্য নয়। তার ভাষা গতিশীল। গল্পবয়নকৌশলে পাঠককে ধরে রাখার ক্ষমতা রাখে।
ক্যামেরার পেছনের মানুষ
আখতার জামান
দেশ পাবলিকেশন্স
প্রচ্ছদ _ মোস্তাফিজ কারিগর
মূল্য - ১৭০ টাকা।

সূর্যঘড়ি
'রাতের রূপ একবার যে দেখতে পেয়েছে তার কাছে সেটা উপেক্ষা করা প্রায় অসম্ভব। রাতের নিশ্ছিদ্র অন্ধকারের একটা রূপ আছে, শান্ত বাতাসের একটা মধুরতা আছে, নির্জন নৈঃশব্দ্যের একটা মাদকতা আছে... কল্পনার রাজপুত্রের কথা বাদ দিয়ে রাতের এই নির্জনে নাছিমা একাকী জেগে সঙ্গীর অপেক্ষায় মগ্ন হয়ে আছে...।' (সূর্যঘড়ি, পৃঃ ৪৮)
বইয়ের নাম সূর্যঘড়ি। লেখক নতুন। ইদানীং কলরব করে খুব দ্রুত জনপ্রিয় হতে চায় তরুণ লেখকরা। কিন্তু নীরব সাহিত্য সাধনার বিষয়টি উপেক্ষিত থেকে যায়। আবুল বাসারের এ বইটি পড়ে মনে হয়েছে, এই তরুণ যাপিত ও অনাগত সময়ের মাঝখানে দ্বিধার দোলাচলে দোলে। যায় দিন ভালো নাকি অপার সম্ভাবনায় আগামী আরো কল্যাণ নিয়ে আসবে আমাদের জীবনে! এ নিয়ে দ্বিধা। এই উপন্যাসের গল্পের পটভূমি ও কাহিনী প্রায় চলি্লশ বছর আগেকার সময়ের। যা পড়লে ফিরে যাবেন সেই জগতে, যা আপনি পেরিয়ে এসেছেন চলি্লশ বছর আগে। যখন আপনার বাবা-কাকারা লাঙ্গল-জোয়াল আর গরু দিয়ে জমিনে হালচাষ করতেন। এখন আপনি ইঞ্জিনচালিত ট্রাক্টরে খুব অল্প সময়ে হালচাষের কাজটা সেরে নেন। তখন চিঠির মাধ্যমেই দেশ-বিদেশে যোগাযোগ করা হতো। এখন এসএমএস, ইন্টারনেট, ফেসবুক, আর স্কাইপির মাধ্যমে যোগাযোগ করতে মাত্র কয়েক সেকেন্ডে সময় লাগে। সাদা-কালো টেলিভিশনটাতে অ্যালুমিনিয়ামের অ্যান্টেনায় সিলভারের পাতিলের ঢাকনা লাগিয়ে কত সাধনা করে বাংলাদেশ টেলিভিশনে বিভিন্ন প্রোগ্রাম দেখতে হতো, এখন ঘরে রঙিন টেলিভিশন আছে, স্যাটেলাইট সংযোগে কত চ্যানেল দেখা যায়! তখন হয়তো আপনি আপনার বাবার আঙুল ধরে হেঁটে হেঁটে গঞ্জের হাটে যেতেন, আর হাটের মধ্যস্থলে ডালপালা মেলে নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে থাকা বুড়ো বটবৃক্ষের তলে লোকজনের সঙ্গে মিলিত হয়ে সাপ-বেজিতে লড়াই দেখার প্রত্যাশায় বড় বড় দাড়ি-গোঁফওয়ালা একটি লোকের লেকচার শুনে মুগ্ধ হতেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও সাপ-বেজিতে লড়াই শুরু না করে লোকটি একটি চামড়ার ব্যাগ থেকে গাছের শেকড়-বাকড় দিয়ে তৈরি নানারকমের ওষুধ বিক্রি শুরু করতে দেখে বিরক্ত হয়ে বাড়ি ফিরে আসতেন। কখনো সময় গড়িয়ে সন্ধ্যা হয়ে যেত। অবশ্য তখন সময় বোঝার উপায় ছিল না। কারণ তখনও মানুষ খুব বেশি ঘড়ি ব্যবহার করতে শেখেনি। তাছাড়া ঘড়ি সহজলভ্যও ছিল না। তাই মানুষ সময় নির্ধারণ করত আকাশের বুকে সূর্যের অবস্থান দেখে। সূর্যঘড়িই ছিল সময় নির্ধারণের একমাত্র উপায়। চলি্লশ বছর আগেকার সেই সময়ের মানুষের জীবনযাপন, আচার-আচরণের চালচিত্র বর্ণিত হয়েছে এই উপন্যাসের কাহিনীতে। বইটি অমর একুশে গ্রন্থমেলায় প্রকাশ করেছে_
লেখক : আবুল বাসার
প্রকাশক : দি রয়েল পাবলিশার্স
প্রচ্ছদ : সহিদুল ইসলাম রনি
পৃষ্ঠা : ৮০, মূল্য : ১৫০ টাকা
সমীর আহমেদ
- See more at: http://www.jjdin.com/?view=details&archiev=yes&arch_date=24-02-2015&feature=yes&type=single&pub_no=1112&cat_id=3&menu_id=75&news_type_id=1&index=1#sthash.uHxGY7nK.dpuf
Kazi Nazrul Islam
(1899-1976)
Kazi Nazrul Islam said,

 "Even though I was born in this country (Bengal), in this society, I don't belong to just this country, this society. I belong to the world."  


[Nazrul Rochonaboli, Bangla Academy, Vol. 4, p. 91


               বিদ্রোহী
                              - কাজী নজরুল ইসলাম
                বল বীর -
          বল উন্নত মম শির!
শির নেহারি আমারি, নত-শির ওই শিখর হিমাদ্রীর!
               বল বীর -
বল মহাবিশ্বের মহাকাশ ফাড়ি'
          চন্দ্র সূর্য্য গ্রহ তারা ছাড়ি'
          ভূলোক দ্যুলোক গোলক ভেদিয়া,
          খোদার আসন "আরশ" ছেদিয়া
               উঠিয়াছি চির-বিস্ময় আমি বিশ্ব-বিধাত্রীর!
মম ললাটে রুদ্র-ভগবান জ্বলে রাজ-রাজটীকা দীপ্ত জয়শ্রীর!
               বল বীর -
          আমি চির-উন্নত শির!
আমি চিরদুর্দ্দম, দুর্বিনীত, নৃশংস,
মহা- প্রলয়ের আমি নটরাজ, আমি সাইক্লোন, আমি ধ্বংস,
আমি মহাভয়, আমি অভিশাপ পৃথ্বীর!
               আমি দুর্ব্বার,
আমি ভেঙে করি সব চুরমার!
আমি অনিয়ম উচ্ছৃঙ্খল,
আমি দ'লে যাই যত বন্ধন, যত নিয়ম কানুন শৃংখল!
আমি মানি নাকো কোনো আইন,
আমি ভরা-তরী করি ভরা-ডুবি, আমি টর্পেডো, আমি ভীম,
                              ভাসমান মাইন!
আমি ধূর্জ্জটী, আমি এলোকেশে ঝড় অকাল-বৈশাখীর!
আমি বিদ্রোহী আমি বিদ্রোহী-সূত বিশ্ব-বিধাত্রীর!
               বল বীর -
           চির উন্নত মম শির!

“I am the burning volcano in the bosom of the earth, 
I am the wild fire of the woods,
I am Hell’s mad terrific sea of wrath!

I ride on the wings of lightning with joy and profundity,
I scatter misery and fear all around,

I bring earthquakes on this world!
I am the rebel eternal, 
I raise my head beyond this world,
High, ever erect and alone!”
(English translation by Kabir Choudhary)

http://www.nazrul.org/main_page/main.htm

https://groups.yahoo.com/neo/groups/nazrul/info

http://radhikaranjan.blogspot.com/2013_08_01_archive.html

books Bartaman Bishwa Sahitya


http://www.newindianexpress.com/magazine/A-tribute-to-Bengals-rebel-and-revolution/2013/06/09/article1622959.ece?service=print

কাজী নজরুল ইসলাম
http://en.wikipedia.org/wiki/Kazi_Nazrul_Islam
https://drive.google.com/?authuser=0#folders/0B5oL4L-X9n5gYTRkMGE3NzYtYjJlNi00OWFkLWFmZDUtNTZjODQ2NzUyYTQ5

https://drive.google.com/?authuser=0#folders/0B5oL4L-X9n5gOTE3OGVmMTItYjRiZC00OGNkLTk1ZDMtMGJjYmNkOTY1M2Qw

http://www.dollsofindia.com/product/people-posters/bride-and-palki-reprint-on-paper-ER71.html 



Thursday, October 8, 2015

Congratulations to the winner of The Great British Bake Off 2015! #Nadiyators #GBBO #TGBB

#Nadiyators   help Bake Off become most watched show of the year: 14.5m - 2m more than last year - tune in to see the Bangladeshi immigrant's daughter win final with a wedding cake she never had  #GBBO #TGBB


The Great British Bake Off Season 6 Episode 9 - Chocolate. 
 The Great British Bake Off Season 6 Episode 11 - Final. 

 

Saturday, October 3, 2015

Israel seizes most West Bank land in 30 years

Palestinians and US officials condemn move that will connect West Bank settlements to those in south Jerusalem.

Dalia Hatuqa | | Middle East

Wadi Fukin, occupied West Bank - Residents of Wadi Fukin have grown accustomed to the sounds of construction. This lush village, which sits just west of Bethlehem along the Green Line, is surrounded on three sides by Israeli settlements that are constantly growing.
Dotted with olive trees and natural springs, the village of 1,200 people is known for its harvest of organic turnips, cabbage and chili peppers. But this small community has borne the brunt of heavy settlement activity for many years. One of the Jewish settlements surrounding the village, Beitar Illit, is so large that it is one of only four settlements in the West Bank classified by Israel as a "city".
Israel seizes most West Bank land in 30 years
Sunday brought even more bad news for Palestinians here: Israeli authorities announced that nearly 400 hectares of land nearby - in what they refer to as the Etzion settlement bloc - are now "state land". This means they are no longer privately owned by Palestinians, and therefore can be used for possible settlement construction.
A settlement watchdog group, Peace Now, called the Israeli move the largest land-grab since the 1980s. Building here would ensure territorial continuity between the Green Line and the settlements of Beitar Illit, Kfar Etzion, and Gevaot, and would help link West Bank settlements such as Gush Etzion directly with Jerusalem, cutting off Palestinian access in the process.
"The land is very close to the border and ... is a very strategic area," said Yariv Oppenheimer, general director of Peace Now. "For Israelis it will connect some of the settlements into south Jerusalem, and for Palestinians it's land that can allow them to expand villages around Bethlehem also south to Jerusalem."

RELATED: Palestinians 'suffocating' in Jerusalem

Last year the government invited bids for the building of 1,000 new settlement units on the site known as Gevaot. Construction there, Israel said, did not constitute a new settlement because Gevaot has been designated as a neighbourhood of Alon Shvut, an existing settlement several kilometres down the road.
"We were surprised early this morning to find the Israeli civil administration and military handing out warning slips and putting up signs declaring the appropriation of more than 2,000 dunams [200 hectares] for the expansion of three settlements that surround the village," said Ahmad Sukkar, head of the Wadi Fukin village council.
How is it possible that this is state land? I inherited this plot of land from my father, and him from my grandfather. We already live in a prison that prevents us from expanding for population or agricultural needs.
- Mohammad Assaf, Wadi Fukin resident
Israel says that the land - from Beit Furik and the nearby villages of Surif, Husan and al-Jabaa - is slated to be part of its own borders in any permanent solution it reaches with the Palestinians in the future.
"How is it possible that this is state land?" said Mohammad Assaf, a village resident. "I inherited this plot of land from my father, and him from my grandfather. We already live in a prison that prevents us from expanding for population or agricultural needs."
Washington slammed as the move as "counterproductive" to peace efforts, which have been put on hold by Israel since Palestinians signed 15 international human rights treaties and Fatah and Hamas forged a unity pact in April. Talks were also suspended as Israel launched a 50-day military offensive in Gaza which claimed the lives of some 2,000 Palestinians, most of them civilians; and 71 Israelis, most of them soldiers.
"This announcement, like every other settlement announcement Israel makes ... is counterproductive to Israel's stated goal of a negotiated two-state solution with the Palestinians," a US State Department official said. "We urge the government of Israel to reverse this decision."
The Israeli military gave no reason for the move announced on Sunday. A spokesman for the Coordinator of Government Activities in the Territories only confirmed that "according to the instructions of the political leadership at the end of the operation 'Brother's Keeper', [we] started the process of declaring around 4,000 dunams at Gevaot in the Etzion region as state lands".
Israel Radio, however, said the move was a response to the kidnapping and killing of three Israeli settler teenagers who were hitchhiking in the occupied West Bank in June.

RELATED: West Bank prisoners face Israeli re-arrest

Israeli Justice Minister Tzipi Livni said the move affects Israel negatively as it embarks on a post-Gaza-war diplomatic campaign.
"Now, when we need to mobilise the world to prevent processes against Israel and work together with moderate forces, anything that could deflect attention onto us and cause criticism of us harms those things we are trying to achieve," she said.
Similarly, Peace Now's Oppenheimer said the move does not support moderate Palestinian forces who are actively seeking a peaceful resolution to the conflict.
"I think this is a huge mistake [by Israeli premier Benjamin] Netanyahu," Oppenheimer told Al Jazeera. "The message [from] this action is when you approach Israel about a peaceful solution, the outcome is settlement activity. And when you are Hamas firing missiles at Israel, then Israel is ready to speak with you."
This Israeli move has cast a spotlight once more on land confiscations and settlement expansion in the West Bank, which the US partially blamed for the breakdown in talks between Palestinians and Israelis earlier this year.
"Under the cover of its latest campaign of aggression in Gaza, Israel pursued a stepped-up campaign of violence [and] settlement expansion [in the West Bank]," said Palestine Liberation Organization (PLO) executive committee member Hanan Ashrawi. "Today's announcement clearly represents Israel's deliberate intent to wipe out any Palestinian presence on the land and to wilfully impose a de facto one-state solution," she added.
Meanwhile, residents of Wadi Fukin and the nearby villages have 45 days to appeal in an attempt to stop this land-grab.
"In 1948, we had 12,000 dunams [12 square kilometres] of agricultural land," Sukkar said. "Today that number has dwindled to 2,600 [dunams]. We are only allowed to farm on 250 dunams of those. That's why we will go to the [Israeli] courts. We will not stand idly as Israel carves up and snatches our land."
Follow Dalia Hatuqa on Twitter: @DaliaHatuqa

http://www.aljazeera.com/news/middleeast/2014/09/israel-west-bank-palestinians-land-seizure-201491141050739843.html

 

White House urges Russia to focus airstrikes on ISIS amid fears it is carrying out 'indiscriminate' attacks on Syrian rebel forces

  • Russian aircraft carried out a third day of airstrikes against Syrian rebels
  • Moscow says it is targeting ISIS, but US and allies suspect attacks are aimed at keeping in power Assad under the guise of fighting 'terrorism'
  • US has said Russia must 'not be engaged' against anyone but ISIS 
  • Russian President Vladimir Putin will meet his French counterpart today 
 
The White House has urged the Russian military to focus its airstrikes on ISIS terrorists amid fears Russia is carrying out 'indiscriminate' attacks on Syrian rebel forces.
Russian combat aircraft carried out a third day of airstrikes against Syrian militants as Moscow admitted it had targeted groups other than ISIS in coordination with the government in Damascus.
This appears to support the widely held belief that Russia plans to prop up the bloody regime of Bashar al-Assad.
Western allies want him to stand aside to try and end the four-and-half year bloodshed. 
A grab takes from video footage from the Russian Defence Ministry showing a strike carried out by Russian warplanes in the Syrian territories - it said it was targeting ISIS, but evidence has suggested otherwise
A grab takes from video footage from the Russian Defence Ministry showing a strike carried out by Russian warplanes in the Syrian territories - it said it was targeting ISIS, but evidence has suggested otherwise
Russian defence ministry said its planes hit 12 Isis targets, including a command centre and two arms depots
Russian defence ministry said its planes hit 12 Isis targets, including a command centre and two arms depots
Russian President Vladimir Putin will meet Francois Hollande today in Paris where discussions concerning Russia's attacks in Syria is sure to be high on the agenda
Russian President Vladimir Putin will meet Francois Hollande today in Paris where discussions concerning Russia's attacks in Syria is sure to be high on the agenda
Russian Foreign Minister Sergei Lavrov said Russia would fight other terrorist groups in the region including the al-Nusra Front - an al-Qaeda affiliate.
He said this position was the same as that of the US-led coalition which has been carrying out air strikes in Iraq and Syria for the past year.
Speaking at the UN in New York, he said: 'We are not supporting anyone against their own people. We fight terrorism'.
Destruction: The aftermath of a Russian airstrike on Talbiseh, in Syria, an area held by non-IS rebels. Dozens of civilians were reported to have been killed, including children
Destruction: The aftermath of a Russian airstrike on Talbiseh, in Syria, an area held by non-IS rebels. Dozens of civilians were reported to have been killed, including children

BUT WHO'S FIGHTING WHO? 

Islamic State
A mainly Sunni Islamist terror group, including tens of thousands of foreign fighters, which has moved into large swathes of Syria.
Syrian government
Bashar al-Assad is believed to have used chemical weapons against his people. His government considers all rebel groups terrorists.
Moderate Syrian rebels
Backed by the West. Known as the Free Syrian Army.
JaBhat al-Nusra
An extremist rebel group affiliated with Al-Qaeda.
Hezbollah
Lebanon’s Shiite group Hezbollah, backed by Iran, fights with the Syrian army.
Islamic Front
An alliance of seven rebel groups who want to create an Islamic state but criticise IS for its brutal tactics.
US, UK and other coalition forces
The coalition forces are fighting to defeat IS and oust Assad. Coalition forces are in Turkey and Jordan training moderate Syrian rebels.
Russia
Vladimir Putin says Russia is attacking IS and supporting Assad. Evidence suggests it is attacking non-IS rebels.
Iran
Iranian troops are to join government forces and Hezbollah in a ground offensive backed by Russian air strikes. Iran wants to defeat IS and prop up Assad.
Mr Lavrov said the targets were selected 'in co-ordination with the Syrian army'.
Alexei Pushkov, the head of the foreign affairs committee in Russia's parliament, claimed today the US had only 'pretended' to bomb ISIS and said Russia's campaign would be much more effective. 
The US has accused Russia of launching 'indiscriminate military operations against the Syrian opposition'.
Secretary of State John Kerry said: 'What is important is Russia has to not be engaged in any activities against anybody but ISIL. That's clear. We have made that very clear'. 
Mr Kerry said he foresaw further discussions with the Russians about air operations.   
'It's a way of making sure that planes aren't going to be shooting at each other and making things worse,' he said in an interview late Thursday on CBS' 'The Late Show with Stephen Colbert.' 
He said 'if they're there to support the Assad regime, Russia will have made a catastrophic mistake.' 
Mr Kerry said such a scenario would risk 'really inviting more jihadists to come into Syria.'
'What is happening is a catastrophe, a human catastrophe really unparalleled in modern times,' Mr Kerry told Colbert. 
He said Russia should help the US and other nations 'persuade Assad to be the saver of his country not the killer of his country.'  
Russian air strikes were reported to have hit Homs, Hama and Idlib provinces.
The commander of a US-trained rebel group said one of its training camps in Idlib province had been targeted by two Russian aircraft. 
It comes as Russian President Vladimir Putin will meet his French counterpart Francois Hollande in Paris today, where Syria will be top of the agenda.
Speaking ahead of the meeting, Mr Hollande said it was important 'the strikes, regardless of who is carrying them out, target Daesh (ISIS) and not other groups'.
 
http://www.dailymail.co.uk/news/russia/index.html

Russian Air Force hits 50 ISIS targets in Syria over 3 days, ‘significantly’ damaging militants

SU-34 © Maxim Blinov
The Russian Air Force has conducted more than 60 flights and bombed over 50 Islamic State targets in three days, according to Russia’s top armed forces official. He added the strikes have significantly reduced the terrorists’ combat capabilities.
“The airstrikes were being conducted night and day from the Khmeimim airbase and throughout the whole of Syria. In three days we managed to undermine the terrorists’ material-technical base and significantly reduce their combat potential,” Lieutenant General Andrey Kartapolov, head of the Main Operation Directorate of the General Staff of Russia’s armed forces, told reporters on Saturday.
He added that according to Russian intelligence the militants are fleeing the area that was in their control.
“There is panic and defection among them. About 600 mercenaries have left their positions and are trying to reach Europe,” he said.
Washington has notified the Russian Defense Ministry that there were only militants in the areas of Russia’s military operation against IS in Syria, he added.  "The Americans informed us during contacts that there was no one except terrorists in this region," he said.
Over the past 24 hours, Sukhoi Su-34 and Su-24M fighter jets have performed 20 sorties and hit nine Islamic State installations,” Igor Konashenkov, Russia’s Defense Ministry spokesman, reported.
Konashenkov added that yesterday evening Russian aircraft went on six sorties, inflicting strikes on three terrorist installations.
A bunker-busting BETAB-500 air bomb dropped from a Sukhoi Su-34 bomber near Raqqa has eliminated the command post of one of the terror groups, together with an underground storage facility for explosives and munitions,” the spokesman said.
Commenting on the video filmed by a Russian UAV monitoring the assault near Raqqa, Konashenkov noted, “a powerful explosion inside the bunker indicates it was also used for storing a large quantity of munitions.
“As you can see, a direct hit on the installation resulted in the detonation of explosives and multiple fires. It was completely demolished,” the spokesman said.
Konashenkov noted the crosshair visible on the drone video footage is not a target, but merely a focus point of the UAV’s camera “maintaining control over an airstrike.”
Another bomber on a sortie from Khmeimim has dropped a KAB-500 air bomb on an Islamic State camp near Maarrat al-Numan. It destroyed fortifications, ammunition, fuel and seven units of equipment, Konashenkov said at a media briefing on Saturday.
KAB-500 bombs are accurate to within five meters.
The Russian Air Force has also eliminated a workshop in Idlib province, where terrorists have been mounting large-caliber machine-guns and other heavy armaments on pickup trucks.
Assault aircraft from at Khmeimim airbase have also inflicted airstrikes against terrorist forces near Jisr al-Shughur in Idlib province, destroying vehicle storage depots used for organizing terror attacks.
Regarding the airstrike on a target near Jisr al-Shughur, Igor Konashenkov pointed out, “footage of a huge pillar of smoke indicates a direct hit resulted in the total elimination of the facility.”
Drones stationed at Khmeimim airbase are maintaining “round-the-clock monitoring of the situation in Islamic State’s operation areas,” Konashenkov said.
“All disclosed targets are promptly engaged, regardless of the weather or light conditions,” said the Defense Ministry’s spokesman.
No anti-aircraft activity has been registered within the Russian task force’s sector of interest in Syria.
“No operable air-defense systems have been spotted in the Russian Air Force zone of action in Syria. Nevertheless, all operational flights are being performed with activated defensive onboard [radioelectronic combat] gear,” the spokesman said.
http://www.rt.com/news/317505-air-force-terrorists-raqqa/ 


Russia to intensify Syria airstrikes against IS


English.news.cn   2015-10-04 01:36:37
MOSCOW, Oct. 3 (Xinhua) -- Russia's air forces will intensify airstrikes against the posts of extremist group Islamic State (IS) in Syria, a senior military official said Saturday.
"We will not only continue conducting our airstrikes, but will also increase their intensity," Andrey Kartapolov, deputy chief of the General Staff of Russian Armed Forces told reporters.
The primary targets are IS command points, ammunition and explosives depots, communication hubs, workshops to produce weapons and militant training camps, he said.
Russia's aircraft have carried out more than 60 missions and destroyed over 50 IS facilities during the round-the-clock airstrikes, he said.
"Over the past 72 hours, we have managed to undermine the material and technical base of terrorists and significantly reduce their combat potential," Interfax news agency quoted Kartapolov as saying.
He added that reconnaissance units obtained information of terrorists leaving districts under their control.
Meanwhile, the official stressed that all relevant countries were informed of Russia's airstrikes in advance, and that the U.S. confirmed to Russian side that there were only terrorists in the airstrike regions.
Moscow started the airstrikes which it said were targeting IS forces and fighting terrorism, but U.S. leaders are skeptical of that.
Kartapolov called on other countries to coordinate anti-terrorism activities, noting that the information and coordination center could be used as the sharing channel.
The center was jointly established by Russia, Syria, Iran and Iraq with its headquarters in the Iraqi capital of Baghdad.
Any useful information about the IS group's facilities on the territory of Syria and Iraq is expected to be shared by any country, Kartapolov said.
"(The center) remains open to dialogue with all countries concerned and welcomes any constructive contribution," he said.
Related:
Russian airstrikes target IS command post in Syria's al-Raqqa
DAMASCUS, Oct. 3 (Xinhua) -- Russian war jets struck positions of the Islamic State (IS) militants in Syria's northern province of al-Raqqa, the de facto capital of the IS terror group, a monitor group reported Saturday.
The Russian warplanes carried out multiple airstrikes on areas in northern and western parts of al-Raqqa, said the Syrian Observatory for Human Rights, spelling no details on losses or causalities. Full story
Putin in Paris to bridge rifts over Syrian conflict ahead of quartet talks
PARIS, Oct. 2 (Xinhua) -- French President Francois Hollande and visiting Russian leader Vladimir Putin held private talks on Syrian conflict in a move to converge stances on Syrian President Bashar al-Assad's role in potential political transition in Damascus.
Ahead of Normandy quartet meeting on Ukraine, both leaders tried to resolve differences on ways to end the civil war in Syria via "extensive discussions" amid tension triggered by Moscow's recent strikes on Islamist fighters in the conflict, local media reported. Full story

http://news.xinhuanet.com/english/2015-10/04/c_134682332.htm 

 
EID MUBARAK to everybody